• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৪ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ১৮ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বিইআরসি’র আইন আছে প্রয়োগ নেই: ক্যাব সভাপতি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০১:২৯ পিএম
বিইআরসি’র আইন
বিইআরসি’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ষ্টাফ রিপোর্টার: কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আইন আছে তবে সেই আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ক্যাব প্রণীত ভোক্তার জ্বালানি অধিকার সংরক্ষণে বিইআরসি আইন ও বিইআরসি’র ভূমিকা মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর নাগরিকদের মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ‘দন্তহীন বাঘে’ পরিণত হয়েছে। এর ফলে জ্বালানির ওপর জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত হয়েছে। সংস্থাটি কখনো সরকার, কখনো ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে।

মতবিনিময় সভায় মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

তিনি বলেন, বিইআরসি’র যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তার প্রয়োগ না করে তারা মন্ত্রণালয় বা সরকার মুখী হয়ে আছেন। তারা স্বাধীন একটা প্রতিষ্ঠান কিন্তু স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। আইনে আছে গণশুনানির মাধ্যমে ভোক্তার কথা শুনতে হবে। কিন্তু বিইআরসি তা শোনে না। তবে ভোক্তার কথা শুনতে বাধ্য করতে যা করণীয় তাই করতে হবে।

আরও বলা হয়, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আইন কোনো কাজে আসছে না। সেখানে ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। ফলে এই আইনের বেশ কিছু ধারা পরিবর্তন করতে হবে। সেই সঙ্গে আইন প্রয়োগের সরকার কোন বাঁধার সৃষ্টি করছে কিনা সে বিষয়টি দেখতে হবে। সঙ্গে বিইআরসি কে কিভাবে আরও ক্ষমতায়ন করা যায় সে বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হবে।

ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান আরও বলেন, বিইআরসি সরকার এবং মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাহিরে কিছু বলতে বা কিছু করতে পারে না। কারণ বিইআরসি তো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য একটি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকা উচিত। বিশ্ব বাজারে দাম বাড়লে আমাদের মত দেশে হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে দেয়াটা ঠিক হয়নি।

আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞাপন আমি ব্যাখ্যা করে দেখেছি, তাতে বলা হয়েছে বিগত সাড়ে ৫ বছরে সরকারের তহবিলে বিপিসি ১০ হাজারেরও বেশি অর্থ লাভ হিসেবে প্রদান করেছে। অধিকন্ত ৩৩ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর সবই ভোক্তাদের থেকে নেয়া অতিরিক্ত অর্থের দ্বারা সম্ভব হয়েছে।

গত কয়েক মাসে বিপিসি’র লোকশান হয়েছে এক হাজার একশো’ কোটি টাকার কিছু বেশি। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের সাথে একটি বিষয়ে একমত। তা হলো- পৃথিবীর অনেক দেশ বা উন্নত দেশগুলোর মত ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য ওঠা নামার সাথে সাথে দেশে মূল্য বৃদ্ধি বাড়ার বিষয়টি বাস্তব সম্মত নয়। বিশেষ করে আমার দেশের প্রেক্ষাপটে। তার মূল্য যাতে দীর্ঘ মেয়াদী স্থিতিশীল থাকে এবং অর্থনীতি যাতে গতিশীল থাকে সেজন্য মূল্য নির্ধারণ করার পরে ঘন ঘন পরিবর্তন করা কাম্য নয়। সেজন্য জ্বালানী নিরাপত্তা তহবিল গঠনের প্রয়োজন জরুরী। কারণ জ্বালানী নিরাপত্তা তহবিল গঠন করা হলে ঐ তহবিলের জমানো অর্থ, যার পরিমাণ নূন্যতম ১০ হাজার কোটি টাকা, যা সরকারের কোষাগারে দেয়া হয়েছে। আর বিপিসি যেসব প্রকল্প গ্রহণ করেছে সেগুলোর কথা নাই বা বললাম। তাহলে আজকে এই জ্বালানী পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন হতো না।

বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য কমে যাবার বিষয়ে ক্যাব সভাপতি বলেন, যেহেতু বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, এখন সরকারের উচিত হবে জ্বালানি তেলের দাম পুনঃবিবেচনা করা। তবে সরকার হয়তো তেলের দাম কমাতে পারবে কিন্তু তেলের দাম বাড়াতে যেসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সেগুলোর দাম কি কমাতে পারবে? বাস ভাড়া, নিত্য পণ্যের দাম তো কমবে না।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, ক্যাব এর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সুশান্ত কুমার দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি ইন্সটিটিউটের এসোসিয়েট প্রফেসর ড. এস এম নাফিস শামস, এনার্জিপ্যাক এর পরিচালক হুমায়ুন রশীদ, ভোক্তা কণ্ঠের সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপচায (এক্টিং) ড. মো. মঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার, অটোগ্যাস স্টেশন মালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সিরাজুল মওলা প্রমূখ।

ঢাকানিউজ২৪.কম / এজাজ রহমান/কেএন

সংগঠন সংবাদ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image