• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৬ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২০ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

সংলাপে অংশ নিচ্ছে না গণফোরাম


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ০১ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:২৯ পিএম
সংলাপে অংশ নিচ্ছে না গণফোরাম
সংলাপ প্রসংঙ্গে গণফোরামের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক রিপোর্টার: ১ জানুয়ারী-২০২২ শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে মান্যবর রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ কর্তৃক চলমান সংলাপ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মত প্রকাশ করে গণফোরাম।

২০২২ সনের প্রথম দিবসে জাতির বিবেক সাংবাদিক ভাইদের এবং দেশের আপামর জনসাধারণকে গণফোরাম এর পক্ষ থেকে নিরন্তর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ এক যুগসন্ধিক্ষণে। এই ক্রান্তিকালীন সময়ে মৌলিক প্রশ্ন উঠেছে, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত যে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মানের প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই কাঙ্খিত বাংলাদেশ আজ কোথায়? গণতন্ত্র নিখোঁজ। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ফণা তুলেছে। শোষণ, দুর্নীতি ও বৈষম্য বাংলাদেশকে গ্রাস করেছে। মানবাধিকার বিধ্বস্ত। জনগণের সরকার নেই। আছে লুটেরা, শোষক, দুর্বৃত্তায়িত ও কর্তৃত্ববাদী শাসক। রক্তলেখা সংবিধানে লিপিবদ্ধ হয়েছে, “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।

কিন্তু স্বৈরতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা সংবিধানকে লন্ডভন্ড করেছে। জনগণের অভিপ্রায়ের বিপরীতে ভোটাধিকার পর্যন্ত হরণ করেছে। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনের বিধানাবলী’ সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দান করিবেন।

বাংলাদেশ আজ বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করল। কিন্তু ‘প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন’ এই সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে কীভাবে সংবিধান বহির্ভূত ‘সার্চ কমিটি’ সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের (২) এর সঙ্গে অসামাঞ্জস্যপূর্ণ শুধু নয়, এটা সংবিধানকে উপেক্ষা এবং পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা মান্যবর রাষ্ট্রপতির আছে কি?

রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। তিনি সংবিধানের তৃতীয় তফসিল ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন, ‘আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব।’ ১১৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখিত নির্বাচন কমিশন নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর শপথ যথার্থভাবে পালন করছেন কিনা সে প্রশ্ন যে কোনো নাগরিক উত্থাপন করতে পারেন।

সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রপতির কথিত ‘সংলাপের নাটক’ বাংলাদেশে ইতোপূর্বে দুবার অনুষ্ঠিত হয়েছে, প্রথমবার ২০১৪ সনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে ও দ্বিতীয়বার ২০১৮ সনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সাহেবের সঙ্গে। দুবারই জাতিকে কিভাবে প্রতারিত করা হয়েছিল যা জাতির ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। ‘সার্চ কমিটি’র মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশন দশম ও একাদশ তামাশার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেছিল। এমন কি নিশি দুর্বৃত্তরা দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করেছে যা বিশ্ব গণতন্ত্রের ইতিহাসে ঘৃণ্য রেকর্ড হয়ে থাকবে।

এই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে গণফোরাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চলমান সংলাপ একটি তামাশা মাত্র। যার মাধ্যমে কোনো কাঙ্খিত নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব নয়।

সংলাপে অংশ না নেয়ার বিষয়ে আমরা গণফোরাম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. কামাল হোসেন এর সাথে আলোচনা করেছি এবং লিখিতভাবে অবহিত করেছি।  
                                                                                        
এসময় উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট মহসিন রশিদ, সভাপতি পরিষদ সদস্য আব্দুল হাসিব চৌধুরী, আতাউর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রওশন ইয়াজদানী, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, যুব ও ক্রিড়া সম্পাদক তাজুল ইসলাম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আব্দুল হামিদ মিয়া, ছাত্র সম্পাদক এডভোকেট সানজিদ রহমান শুভ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বুলু, এম.এ. কাদের মার্শাল, এরশাদ জাহান সুমন, মশিউর রহমান বাবুল, কামাল উদ্দিন সুমন, জান্নাতুল মাওয়া, রিয়াদ হোসেন, আনোয়ার ইব্রাহীম প্রমুখ।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image