• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৮ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

জ্বালানি সংকটে ভুগছে দেশ, বাজেটে উপেক্ষিত জ্বালানি খাত


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ০৩ জুন, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪০ এএম
বিশেষজ্ঞরা দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে
বাজেটে উপেক্ষিত জ্বালানি খাত

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের দাম এখন ৭২ থেকে ৭৮ ডলার। জ্বালানি সংকটে ভুগছে দেশ। গ্যাস-কয়লার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। বেড়েছে লোডশেডিং। গ্যাস সংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন। ডলার সংকটে  গ্যাস-কয়লা আমদানি বন্ধ থাকছে। সংকট সামলাতে বিশেষজ্ঞরা দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে বলছেন। তবে বরাবরের মতো বাজেটে অবহেলিত থাকছে জ্বালানি খাত।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে মাত্র ৯১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। তবে বিদ্যুতের উন্নয়ন বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ২৫ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ৩৪ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট বরাদ্দ রয়েছে ২৭ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমলে এলএনজি আমদানির সুযোগ বাড়ে। এতে অনেকে কমিশন পান। তাই জ্বালানির অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয় না। কিন্তু এলএনজিতে ঠিকই হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রায় ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সমুদ্র অঞ্চলেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ চলমান আছে।

আগামী অর্থবছর থেকে ১৩ ধরনের জ্বালানি পণ্যের ওপর বিদ্যমান ৫-১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করবে সরকার। প্রতি লিটারে নতুন এই শুল্ক হবে সর্বোচ্চ ১৩.৭৫ টাকা। পাশাপাশি এসব পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূসক এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ আশা করছে, এর ফলে দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানো যাবে। কারণ, কর হ্রাসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দামও কম।

তবে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের দায়িত্বে থাকা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শুল্ক ও করের এই সংস্কার নিয়ে অস্পষ্টতায় রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এই উদ্যোগে আদৌ জ্বালানি তেল আমদানির খরচ কমবে কিনা, তা নিয়ে তারা সংশয়ে রয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুসারে আগামী অর্থবছর থেকে তা হবে লিটারপ্রতি ৭.০২ টাকা (ব্যারেলের দাম ১,১১৭ টাকা)। কেরোসিন, লাইট ডিজেল, মোটর স্পিরিট, জেট ফুয়েলসহ ১১ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যে প্রতি লিটারে নির্দিষ্ট শুল্ক হবে ১৩.৭৫ টাকা। বিদ্যমান শুল্ক ১০ শতাংশ। ফার্নেস অয়েলের বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট শুল্ক হবে লিটারপ্রতি ৯.১০ টাকা (ব্যারেলে ৯,১০৮ টাকা)।

বিপিসি কর্মকর্তারা বলেন, অগ্রিম কর আগে দেওয়া হলেও পরে তা সমন্বয় করা হয়। ফলে এটি প্রত্যাহারে তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না। আমদানি শুল্ক লিটারে ১৩.৭৫ টাকা করা হয়েছে, এখন তা ৪-৬ টাকা পড়ছে। আর আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও বিক্রি পর্যায়ে বিদ্যমান ২ শতাংশ ভ্যাট নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতির দিকে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি উঠেছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার জ্বালানি তেলের দাম কমাতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। গত সোমবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের দাম এখন ৭২ থেকে ৭৮ ডলার।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আরো পড়ুন

banner image
banner image