• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

শ্রীমঙ্গলে গাড়ো পল্লীতে ওয়ানগালা উৎসব পালিত


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০১:৫৬ পিএম
ওয়ানগালা উৎসব
ওয়ানগালা উৎসব অনুষ্ঠান

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: শ্রীমঙ্গলে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শেষ কার্তিকের দিকে নতুন ফসল ঘরে তুলতে নানা উৎসবের মাধ্যমে দেবতা মিসি সালজংকে উৎসর্গ করে পালিত হয়েছে গারো সম্প্রদায়ের ওয়ানগালা উৎসব বা গারো নবান্ন উৎসব।  ওয়ানগালা উৎসব গারো সম্প্রদায়ের কাছে পরিচিত নাম।.

আসছে বছরে যেন ফসল ভালো হয়, সন্তান ও পরিজনরা যেন ভালো থাকে আর দেশের যেন মঙ্গল হয়- এই কামনায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ফুলছড়া গারো পল্লী এলাকায় রোববার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ‘গারো’ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব এ ওয়ানগালা অনুষ্ঠান পালিত হয়।.

দিনটি উদযাপন উপলক্ষে গাড়ো সম্প্রদায়ের ছেলে মেয়েরা বিচিত্র পোশাক ও পাখির পালক মাথায় দিয়ে লম্বা ডিম্বাকৃতি ঢোলের তালে তালে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি তে তাদের ভাষার গানের তালে  নাচে। এটি গাড়োদের বছরের প্রধান বিনোদনের দিন। সারা গাড়ো পাহাড় মন্ত্র ও ঢোলের শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে। এসময় মহিষের শিঙে বানানো এক ধরনের বিশেষ আদিম বাঁশির সুর সবাইকে বিমোহিত করে।.

সকালে স্থানীয় ফুলছড়া গারো ফুটবল মাঠে শ্রীচুক আচিক আসং নকমা এসোসিয়েশন ও শ্রীচুক গারো যুব সংঘের আয়োজনে ওয়ানগালা অনুষ্ঠানে এতিহ্যবাহী সা-সাৎ-সাওয়া ধুপারিতের মধ্য দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়।.

সিলেট ধর্ম প্রদেশের বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নেছার উদ্দিন, শ্রীমঙ্গল থানার ওসি শামীম অর রশীদ তালুকদার, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মিতালী দত্ত, কালাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুজবিুর রহমান মুজুল, শ্রীমঙ্গল ক্যাথলিক মিশনের প্রধান পুরোহিত নিকোলাস বাড়ৈ, শ্রীমঙ্গল নটরডেম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার প্লাসিড প্রশান্ত রোজারিওসহ বিভিন্ন খ্রিষ্টান ধর্মযাজকরা যোগ দেন। এছাড়া ওয়ানগালা অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য খ্রিস্টভক্ত এবং গারাগানজিং, কতচু, রুগা, মমিন, বাবিল, দোয়াল, মাতচি, মিগাম, চিবক, আচদং, সাংমা, মাতাবেং ও আরেং নামে ১২টি গোত্রের গারো সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।.

দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ ওয়ানগালার মূল প্রবন্ধ পাঠ, নাগড়া, আদুরী, দামা ও মোমবাতি প্রজ্বোলন, বিশেষ প্রার্থনা এবং গাড়োদের নিজস্ব কৃষ্টির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।.

অনুষ্ঠানের প্রধান পরোহিত জংসন মৃ প্রথা অনুসারে একটি মোরগ জবাই করে তার ভেতর থেকে ভুরি বের করেন। এরপর মন্ত্র পড়ে ভবিষ্যত গণনা করে জানান, ‘আগামী বছর ফসল দ্বিগুন হবে। আসছে দিনগুলো সবার জন্য শুভ হয়ে দেখা দেবে। দাম্পত্য জীবন সুখের হবে’। তিনি জানান, আগের দিনে গাড়ো পাহাড়ি এলাকায় জুম চাষ হতো এবং বছরে মাত্র একটি ফসল হতো। তখন ওই জুম বা ধান ঘরে ওঠানোর সময় গারোদের শস্যদেবতা ‘মিসি সালজং'কে উৎসর্গ করে এ উৎসবের আয়োজন করা হতো। পুরোহিত বলেন, গাড়োরা প্রকৃতিপূজারী। কালের পরিক্রমায় গারোরা ধীরে ধীরে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রথাটি এখন ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একত্রে করে পালন করা হয়। একসময় তারা শস্যদেবতা মিসি সালজংকে উৎসর্গ করে ওয়ানগালা পালন করলেও এখন অনেকে নতুন ফসল কেটে যিশুখ্রিস্ট বা ঈশ্বরকে উৎসর্গ করে ওয়ানগালা পালন করে থাকেন।.

 . .

ঢাকানিউজ২৪.কম / মো: জহিরুল ইসলাম/কেএন

উৎসব / দিবস বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image