• ঢাকা
  • সোমবার, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৬ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

হাতিরঝিলের পাশে ভবন নির্মাণে রাজুকের নতুন নিয়ম


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:২৯ এএম
প্লট তৈরি করতে হবে জমি মালিকদের।
নতুন নীতিমালায় হাতিরঝিল

নিউজ ডেস্ক:   রাজধানী ঢাকার 'ফুসফুস' হাতিরঝিলের চারপাশের প্লটে যেনতেনভাবে আর ভবন নির্মাণ করা যাবে না। মানতে হবে নতুন নিয়ম। নতুন নীতিমালায় হাতিরঝিলের রাস্তার পাশের প্লটগুলোকে ছাড়তে হবে ১০ ফুট করে জায়গা। কোনো প্লটের আয়তন এক বিঘার কম হলে ভবন নকশার অনুমোদন দেবে না রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ ক্ষেত্রে ছোট আকারের কয়েকটি প্লট মিলে অন্তত এক বিঘার প্লট তৈরি করতে হবে জমি মালিকদের।

একইভাবে ভেতরের প্লটগুলোর আয়তন হতে হবে অন্তত ১০ কাঠা। সে ক্ষেত্রে ওই প্লটের পাশে কমপক্ষে ২৪ ফুট প্রশস্ত রাস্তা থাকতে হবে। নির্ধারিত প্রশস্ত রাস্তা না থাকলে জমি মালিকদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে প্লটের সামনের রাস্তার প্রশস্ততা বাড়িয়ে রাজউকের কাছে ভবন নকশার আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া পুরো হাতিরঝিলের চারপাশের ৩০০ মিটার দূরত্বের ভবনগুলোর উচ্চতা ৩৫ ডিগ্রি কোণে নির্ধারিত হবে, যাতে পুরো হাতিরঝিলকে একটি ফানেলের মতো মনে হয়। দূরবর্তী ভবনের বাসিন্দারাও যেন ঝিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

জানা যায়, হাতিরঝিলের ৩০০ মিটার দূরত্বের ভেতরে থাকা প্লটের বিপরীতে নকশা অনুমোদন দীর্ঘদিন বন্ধ রেখেছে রাজউক। ফলে ওই এলাকার বাসিন্দারা ভবন নির্মাণ করতে পারছিলেন না। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছিল ক্ষোভ। বিষয়টি সমাধানে ২০১২ সালে 'রাজউক কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বেগুনবাড়ি এলাকার হাতিরঝিল সংলগ্ন চারপাশের ৩০০ মিটার দূরত্বে বিশেষ ড্যাপ বাস্তবায়ন কমিটি' গঠন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ২৫ সদস্যের ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় পূর্ত সচিবকে। এ ছাড়া রাজউকের ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মুজিবর রহমান, অধ্যাপক শামসুল হক, অধ্যাপক ইশরাত ইসলামসহ নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা ছিলেন ওই কমিটিতে। বিভিন্ন সময় কমিটি এ নিয়ে বৈঠকও করে। সর্বশেষ গত ৭ ফেব্রুয়ারির বৈঠকে একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করে কমিটি।

যাতায়াতের জন্য প্লট মালিকদেরই রাস্তার জায়গা ছাড়তে হবে। প্লট মালিকরা আলোচনা করে রাস্তার জায়গা ছেড়ে দেবেন। ভেতরের কোনো রাস্তার প্রশস্ততা ২৪ ফুটের কম হতে পারবে না। এটা করা হলে হাতিরঝিলের চারপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন উন্নত হবে, তেমনি সৌন্দর্যও বাড়বে। তবে যেসব ভবন ইতোমধ্যে উঠে গেছে, সেগুলো বহাল থাকবে।

এ ব্যাপারে রাজউকের চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, 'আমরা বলেছি বিদ্যমান ভবনগুলো ভাঙতে গেলে অনেক আইনকানুনের সমস্যা হবে। এ জন্য সেগুলো ভাঙা হবে না। তবে এ রকম ভবন আছে হাতেগোনা কয়েকটি। কাজেই সেগুলো রেখে নতুন নিয়মে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিলে হাতিরঝিলের সৌন্দর্যের ঘাটতি হবে না।'

কবে নাগাদ নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে সে ব্যাপারে আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, 'মন্ত্রণালয় শিগগিরই হয়তো নীতিমালাটি অনুমোদন দেবে। এরপরই রাজউক নকশা অনুমোদনের কাজ শুরু করবে। ওই এলাকার নকশা অনুমোদন বন্ধ থাকায় অনেকেই ঘরবাড়ি করতে পারছে না।'

এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য বুয়েট অধ্যাপক ও নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক বলেন, 'এ ধরনের বিশেষায়িত এলাকার উন্নয়ন করতে গেলে পুরো এলাকার জমি মালিকদের নিয়ে করতে হয়। যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এখানে দেখা যাচ্ছে, যারা হাতিরঝিলের রাস্তার পাশের প্লটের মালিক তারা বেশি দামে জমি কিনেছেন, এখন তাকেই বেশি জমি ছেড়ে দিতে হচ্ছে। আবার ওই প্লটের মালিক ভবনের উচ্চতাও পাচ্ছেন কম। এতে তিনি লোকসানের মুখে পড়বেন।

কমিটির আরেক সদস্য বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ইশরাত ইসলাম বলেন, হাতিরঝিলের চারপাশের এলাকাকে এখন 'বিশেষায়িত' বলা হচ্ছে। এখন একসঙ্গে ছোট জমিগুলোর উন্নয়ন করলে আর ঘিঞ্জি থাকবে না। আবার ঝিলের পাড়েই যদি ১৫-২০ তলা ভবন উঠে যায়, তাহলে পেছনের প্লটের মালিক আর লেকের ভিউটা পাবে না। এসব বিবেচনা করেই এমনটা করা হচ্ছে।

নীতিমালা প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, 'ল্যান্ড কনসলিডেশন স্টাডি করে নীতিমালা করলে ভালো হতো। বাস্তবতা হলো, বিভিন্ন কারণেই রাজউক সেটা করতে পারেনি। এটা রাজউকের সীমাবদ্ধতা।'

ঢাকানিউজ২৪.কম /

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image