• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৯ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

বিশ্ব বাবা দিবস: পিতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক অনন্য উপলক্ষ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৪১ এএম
বিশ্ব বাবা দিবস, পিতৃত্বের প্রতি, শ্রদ্ধা নিবেদনের, এক অনন্য উপলক্ষ

জহিরুল ইসলাম সানি  

বিশ্ব বাবা দিবস প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার পালিত হয়, যা এই বছর ১৬ জুন পড়েছে। এই দিনটি পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অনন্য উপলক্ষ। বাবা দিবস মূলত একটি আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালিত হলেও, এর উদযাপনের রীতি ও আদর্শ বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

বাবা দিবসের উৎপত্তি

বাবা দিবসের উদযাপন মূলত আমেরিকায় শুরু হয়েছিল। ১৯১০ সালের ১৯ জুন ওয়াশিংটন রাজ্যের স্পোকেন শহরে এই দিবসটি প্রথম পালিত হয়। এটি সোনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারীর উদ্যোগে শুরু হয়েছিল, যিনি তার বাবাকে সম্মান জানাতে চেয়েছিলেন। তার বাবা, উইলিয়াম স্মার্ট, একজন গৃহযুদ্ধের প্রাক্তন সৈনিক ছিলেন এবং ডোডের মা মারা যাওয়ার পর তিনি একাই ছয়টি সন্তানকে লালন-পালন করেছিলেন। ডোড তার বাবার ত্যাগ ও সমর্থনকে সম্মান জানাতে চান এবং এভাবেই বাবা দিবসের ধারণা জন্ম নেয়।

উদযাপনের ধরণ

বাবা দিবস উদযাপনের ধরন ভিন্ন হতে পারে। অনেকেই এই দিনটিতে তাদের বাবার সাথে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন, যেমন পারিবারিক ভোজ, পিকনিক, বা একসাথে মুভি দেখা। শিশু ও বড়রা তাদের বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে উপহার দেন। এসব উপহারের মধ্যে থাকে হাতঘড়ি, পোশাক, বই, বা কোনো ব্যক্তিগত পছন্দসই জিনিস।

স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বাবা দিবসের উদযাপন দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা তাদের বাবার জন্য নিজ হাতে তৈরি কার্ড বা উপহার দেয়। অনেক স্থানে বাবা দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম আয়োজন করা হয়, যেখানে বাবারা তাদের সন্তানদের সাথে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব

বাবা দিবসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব ব্যাপক। এই দিনটি বাবা এবং সন্তানদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। এটি বাবাদের তাদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের জন্য সম্মানিত করে এবং পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা ও স্নেহ বৃদ্ধি করে। অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রচার ও অফার দেয়, যা বাবাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশেও বাবা দিবসের উদযাপন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের মাধ্যমে এ দিবসটির গুরুত্ব ক্রমবর্ধমানভাবে প্রচারিত হচ্ছে। অনেক পরিবারেই এই দিনটি বিশেষভাবে উদযাপিত হয়, যেখানে সন্তানেরা তাদের বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে।

চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা

যদিও বাবা দিবস একটি সুন্দর ও অর্থবহ উদযাপন, তবে এর সাথে কিছু চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনাও রয়েছে। কিছু মানুষ মনে করে, এই দিনটি বাণিজ্যিকীকরণের শিকার হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই দিনটিকে কেন্দ্র করে তাদের পণ্যের প্রচার ও বিক্রয় বাড়ানোর চেষ্টা করে, যা মূল উদ্দীপনাকে হারিয়ে ফেলতে পারে।

তবে, অনেকেই বিশ্বাস করেন যে বাবা দিবসের আসল মানে হলো বাবাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করা, যা কোনোভাবেই বাণিজ্যিকীকরণের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এটি একটি সুযোগ যেখানে সন্তানেরা তাদের বাবাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে এবং পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে পারে।

উপসংহার

বাবা দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ দিন, যা বাবা এবং সন্তানের মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে। এটি এমন একটি দিন যা বাবাদের তাদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের জন্য সম্মানিত করে এবং পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা ও স্নেহ বৃদ্ধি করে। যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা রয়েছে, তবুও বাবা দিবসের আসল উদ্দীপনা ও অর্থ কখনোই হারিয়ে যাওয়ার নয়। সারা বিশ্বজুড়ে এই দিনটি বাবা ও সন্তানদের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্কের উদযাপন হিসেবে পালিত হয়, যা আমাদের সবার জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

 

 

ঢাকানিউজ২৪.কম / জেডএস

আরো পড়ুন

banner image
banner image