• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৭ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২০ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

হাকিমপুরে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে পরীক্ষা কেন্দ্র অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:১৩ পিএম
প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল
প্রতীকী ছবি

মো. লুৎফর রহমান, হিলি  প্রতিনিধি, দিনাজপুর: দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে সুকৌশলে বিরামপুর উপজেলার কাটলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই চারটি বিদ্যালয়কে তার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে।

এই অভিযোগ এনে ওই চারজন প্রধান শিক্ষক নতুন অন্তর্ভুক্তি হওয়া পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল করে পূর্বের পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা অংশগ্রহণের অনুমতি চেয়ে শিক্ষামন্ত্রী, সচিব, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সরকারের একাধিক দপ্তরে আবেদন করেছেন।

প্রধান শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, হাকিমপুর উপজেলার পাউশগাড়া স্কুল এন্ড কলেজ, নওপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয় এবং ডাঙ্গাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ উপজেলা হাকিমপুরের বাংলাহিলি পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে।

কিন্তু গত ১৮ অক্টোবর হাকিমপুরের এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন করে ওই চারটি বিদ্যালয়কে বিরামপুরের কাটলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অন্তর্ভূক্তি করা হয়েছে। বিরামপুরের কাটলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. নজরুল ইসলাম সুকৌশলে নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য আমাদের স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতি করে কেন্দ্র পরিবর্তনের এই জঘন্যতম কাজ করেছেন। এনিয়ে উপজেলার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পাউশগাড়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা ও নয়ানগর উচ্চ বিদ্যাললেযর প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান অভিযোগ করেন, আমরা ওই চার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা হাকিমপুরের কেন্দ্র পরিবর্তনের জন্য কোথাও কোন আবেদন করিনি। যা আমাদের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিজ উপজেলা ব্যতিরেখে অন্য উপজেলাতে এসএসসি পরীক্ষা দিতে অনিচ্ছুক।

কিন্তু কাটলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. নজরুল ইসলাম আমাদের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া তথ্য উপস্থাপন করে এই জালিয়াতি করেছেন। যা আমাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কাটলা কেন্দ্রের অধিনে থাকতে চাই না। আমারা হাকিমপুর কেন্দ্রে থাকতে চাই।

নওপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও ডাঙ্গাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আরজুমান বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কাটলা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র অনেক দূরে এবং কেন্দ্রটি প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত।

আবার যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো না। তাই শিক্ষার্থীরা যথা সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। শিক্ষার্থীরা হাকিমপুর কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে সাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ বোধ করে। তাই দুরত্বের বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মতামতের উপর গুরুত্ব দিয়ে নিজ এবং পূর্বের উপজেলা হাকিমপুর কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

বাংলা হিলি পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব গোলাম মোস্তফা কামাল জানান, উপজেলায় ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এমনিতেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম। আমরা চাই চারটি বিদ্যালয়কে আমাদের কেন্দ্রে বহাল রাখা হোক।

হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা কেন্দ্র সচিব মো. বোরহান উদ্দীন জানান, আমি শুনেছি আমাদের কেন্দ্র থেকে চারটি বিদ্যালয়কে গোপনে বিরামপুরের কাটলা কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। কিন্তু কিভাবে করা হয়েছে তা আমি জানি না। আমার কোন মতামত নেওয়া হয়নি। এটা ঠিক হয়নি।

বিরামপুরের কাটলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমার কেন্দ্রের পাশে হওয়ায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড সুবিধা মনে করেছে বলেই হাকিমপুরের চারটি বিদ্যালয়কে আমার কেন্দ্রে অন্তর্ভূক্ত করেছে। কোন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করেছি এই অভিযোগ মোটে সত্য নয়। আমার কেন্দ্র থেকে তো দুইটি বিদ্যালয় বিরামপুর কেন্দ্রে স্থান্তান্তর করেছে। এটা শিক্ষাবোর্ডের এখতিয়ার। তারা মনে করলে শিক্ষাবোর্ডে কথা বলে তাদের কেন্দ্রে চারটি বিদ্যালয়কে বহাল রাখতে পারে। আমার কোন আপত্তি নেই।

ঢাকানিউজ২৪.কম / মো. লুৎফর রহমান

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image