• ঢাকা
  • শনিবার, ২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কেন বাংলাদেশের হিন্দু আইন সংস্কারের প্রয়োজন নাই?


ঢাকানিউজ২৪ ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৫৮ পিএম
আদালত
আদালতে শুনানি, প্রতীকী ছবি

সুমন দত্ত: বাংলাদেশে পুরুষের অধিকার নিয়ে কোনো এনজিও না থাকলেও নারী অধিকার নিয়ে বেশ কয়েকটি এনজিও আছে। বিদেশ থেকে এরা নারীদের নাম করে টাকা আনে। এরপর সেই টাকা ভিন্নখাতে ব্যবহার করে। যার সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না ডোনারদের। এনজিও গুলো ধান্দাবাজি করে বেড়ায়। কোনো কোনো এনজিও সরকারের বি-টিম হয়ে কাজ করে। এ কারণে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসব এনজিও গড়ে তোলা হয়েছিল, আজও তাদের লক্ষ্য পূরণ হয়নি।.

৮০-৯০ এর দশকে আমরা ধর্ষণের ঘটনা শুনতাম। এখন শুনি ধর্ষণ করে হত্যা। এরপর হয়ত শুনব ধর্ষণ হত্যা করে লাশ গায়েব। এভাবেই সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। তাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না তথাকথিত এনজিও গুলো।.

আসলে সবকিছুতে ব্যবসা ঢুকে পড়লে যা হয়। এনজিও গুলোর অবস্থা এখন সেই রকম। এদেরকে টাকা না দিলে এরা কারো পক্ষে দাড়ায় না। এদেরকে টাকা দিলে যে কারো বিরুদ্ধে আপনি ঝাড়ু মিছিলের আয়োজন করতে পারবেন। এরা সর্বত্র প্রচার চালায় দু:খীদের মসিহা। নারীর অধিকারে সোচ্চার। আদতে টাকা ছাড়া এরা এক পা এগুবে না।.

সম্প্রতি হিন্দু নারীদের অধিকার নিয়ে এনজিও গুলি বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। তাদের হাবভাব এমন, তারা বাংলাদেশে চষে বেরিয়েছে। তাতে জানতে পেরেছে এদেশের হিন্দু নারীরা খুব দু:খে কষ্টে আছে। হিন্দু পুরুষরা খুব সুখে আছে। মানে আমরা যারা হিন্দু তাদের মা বোনরা দু:খী, আর বাপ ভাইরা সুখি। হাস্যকর এসব কথা বার্তা বলে এরা ভার্চুয়াল মিডিয়া গরম করছে। এসব কাল্পনিক কথা বার্তা বলে হিন্দু পুরুষদের অসুর বানানো হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে কিছু নামধারী হিন্দু। যাদের হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে বিন্দুমাত্র সংযোগ নেই।.

তারা বলতে চাইছে, হিন্দু নারীদের বাপ ভাইরা, তাদের মা বোনদের নির্যাতন করছে, বঞ্চিত করে রাখছে তাদের অধিকার থেকে, তাদেরকে লেখাপড়া করায় না, তাদেরকে অবলা করে রাখে।.

বাংলাদেশে হিন্দু নারীদের এই চিত্র তাদের চোখে ধরা পড়েছে। সবকিছুর জন্য দায়ী নাকি এদেশের হিন্দু পারিবারিক আইন। তাই এই আইন সংশোধন করতে হবে।.

এ কথা গুলো যে ডাহা মিথ্যা তা প্রমাণ করার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। ঢাকার রাস্তায় ভিখারি সংখ্যা ও ফুটপাতে ঘুমানো লোকজনের সংখ্যা ও তাদের ধর্ম খুঁজলেই জানা যায় কারা অবহেলিত, বঞ্চিত, অবলা।.

আচ্ছা পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ আছে কি? জনগণ দাবি করে নাই, এনজিও দাবি করেছে, আর সরকার তা পূরণ করে দিয়েছে। এমন এনজিও বান্ধব সরকার কি পৃথিবীর কোথাও আছে? গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়। ক্ষমতায় গিয়ে সরকার জনগণের দাবি পূরণে কাজ করে।.

আজ বাংলাদেশের হিন্দু নারীদের নিয়ে কথা হচ্ছে। কারা কথা বলছে? মুসলিম মালিকানাধীন এনজিও। যারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কিছু নামধারী হিন্দুদের চাকরি দিয়ে তাদেরকে সামনে রেখে এসব বলছে।.

মূল হিন্দু সমাজ থেকে হিন্দু আইন সংস্কারের কোনো দাবি উঠেনি। বরং এদেশের অধিকাংশ হিন্দু সংগঠনের দাবি, শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল ও হিন্দু সুরক্ষা আইন, হিন্দু মন্ত্রণালয়, হিন্দু ফাউণ্ডেশন। বাংলাদেশের একটি সংগঠনও হিন্দু আইন সংস্কারের দাবি তোলেনি। কারণ তারা জানে মুসলিম মালিকানাধীন এনজিও গুলো কি চাইছে। তাদের এই অপপ্রাচের বিভ্রান্ত বহু হিন্দু ধর্মাবলম্বী।.

তাদেরকে সেই বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করতে আজ এই লেখা আমাকে লিখতে হচ্ছে।.

সবার আগে বলতে চাই:.

হিন্দু নারী কি হিন্দু জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা? উত্তর নিশ্চয় না। তাহলে আমরা হিন্দু নারীকে আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি কেন? কেন আমরা হিন্দু বিবাহিতা নারীকে তার স্বামী থেকে আলাদা মনে করছি? কেন আমরা হিন্দু অবিবাহিতা নারীকে তার পিতা মাতা থেকে আলাদা মনে করছি? যারা হিন্দু নারীর জন্য নতুন আইন দাবি করছেন, তারা কিন্তু এই দৃষ্টিকোণ থেকে এসব বিচার করছেন না।.

তারা কখনই মনে করছেন না, একজন হিন্দু পিতা কিংবা স্বামী কখনই কন্যা কিংবা স্ত্রী থেকে আলাদা নন। তারা একে অপরের জন্য। হিন্দু নারীরা পিতার সংসারে কিংবা স্বামীর সংসারে কখনই অবহেলিত থাকেন না। বরং তারা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে সম্মানজনকভাবে থাকেন।.

আমরা দেখেছি যখন কোনো দাবি আমাদের বাবা পূরণ করতো না সেটা আমরা মায়ের কাছে কিংবা বড় বোনের কাছ থেকে কিংবা পিসি মাসির কাছে আবদার করলেই পেয়ে যেতাম। হিন্দু নারীরা, তার ভাই বোনদের উজার করে দেয়। তারা লোভী নয়। তারা দিতে জানে, নিতে জানে না। এটাই জীবনভর দেখে আসছি, এখনো দেখছি। এই দেওয়া পাওয়ার জন্য কোনো আইন লাগেনি। আইন ছাড়াই বাংলাদেশের প্রতিটি হিন্দু পরিবারে মা বোন মাসি পিসি দিদিমা ঠাকুমারা টিকে আছে। কারো কাছে হাত পাততে যায়নি।.

হিন্দু পিতা তার মেয়েকে লেখাপড়া করান, কেউ কেউ লেখা পড়ার পাশাপাশি মেয়েদের গান, নৃত্যকলা, অংকন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক চর্চা করান। প্রতিটি পরিবারে এমন দৃশ্য দেখা যায়।.

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের লোক বাস করে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে। এসব ধর্মীয় অনুশাসনে কেউ বাধা দেয়নি। কারণ বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।.

যে কারণে কোনো মুসলমান দাবি করতে পারে না হিন্দুদের কি করা উচিত, কি করা উচিত নয়। তেমনি হিন্দুরা দাবি করতে পারে না মুসলমানদের কি করা উচিত, কি করা উচিত নয়। এসব জানার পরও আজ একদল এনজিও ও তাদের লেলিয়া দেওয়া পা চাটা হিন্দু নামধারী "গায়ে মানে না আপনে মোড়ল হয়ে, হিন্দুরা তাদের মা বোনের সঙ্গে কি করবে, সেই শিক্ষা দিতে এসেছে।.

তাদের কাছে আমার প্রশ্ন আপনাদের এই অধিকার কারা দিল? নিজেদের সঙ্গে কয়েকটা বেতনভুক বর্ণচোরা হিন্দু থাকলেই কি হিন্দু আইন নিয়ে কথা বলা যায়? তার এখতিয়ার আপনারা কি রাখেন? যদি রাখেন তাহলে মুসলিম আইনের বৈষম্য নিয়ে আমাদের বলার এখতিয়ার দিবেন কি?.

আপনারা মুসলমান হয়ে যেমন হিন্দু আইনের অনুশাসনে বৈষম্য দেখেন, তেমনি আমরাও হিন্দু হয়ে মুসলিম আইনে অনেক বৈষম্য দেখি। এখন কি সংবাদ সম্মেলন করে সেইসব বলব কিংবা বলা উচিত কিনা?.

সত্যি কথা বলতে কি যে, কোনো অনুশাসন কিংবা শাসন ব্যবস্থায় বৈষম্য থাকতে পারে। সেই বৈষম্যটা কেন রাখা হয়েছে তার নিশ্চয় একটা ব্যাখ্যা আছে। হয়ত দেখা যাবে সমঅধিকার দেওয়ার জন্যই এমন বৈষম্য রাখা হয়েছে।.

যেমন টেনিস খেলায় ছেলেরা পাঁচ সেট টেনিস খেলে। মেয়েরা তিন সেট টেনিস খেলে। বলতে পারেন এখানে এমন বৈষম্য কেন? আসলে একজন ছেলেকে ৫ সেট খেলার যোগ্য মনে করা হয়েছে। ছেলেরা শারীরিকভাবে মেয়েদের চাইতে বেশি শ্রম দিতে পারে। যে কারণে ছেলেরা ৫ সেট খেলে। মেয়েরা শারীরিকভাবে দুর্বল এ কারণে ৩ সেট। ৫ সেট খেললে মেয়েরা ময়দানেই ক্লান্ত হয়ে মারা যেত।.

তাই টেনিসে মেয়েদের ৩ সেট খেলাকে ছেলেদের ৫ সেটের সমান বিবেচনা করা হয়।.

আইনেও এমন অনেক বৈষম্য আছে, যেমন বাংলাদেশ লেবার ল বইটা নিয়ে পড়ুন। সেখানে দেখবেন গামের্ন্টসগুলিতে মেয়েদের জন্য একরকম নির্দেশনা, ছেলেদের জন্য আরেক রকম নির্দেশনা।.

যেমন বয়লারের সামনে কোনো মেয়েকে কাজ করতে দেয়া যাবে না। ছেলেরা পারবে। অবার মাতৃকালীন ছুটি মেয়েরা পাবে, পিতৃকালীন কোনো ছুটি নাই।.

এখন আমি কি এসব আইনকে বৈষম্যমুলক মনে করে বাতিল করে দেব? নাকি, সমঅধিকার মনে করবো ?.

কোনো ভারী কাজে মেয়েদের নিয়োগ দেওয়া যাবে না। পুরুষ তো রোগা পাতলা হতে পারে। সে কিভাবে ভারী কাজ করবে? এইসব প্রশ্ন তুলে ভারী কাজে মেয়েদের নিয়োগ দেই। তখন কি হবে?.

আইন সব সময় নারী ও পুরুষকে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখে। তেমনি হিন্দু আইন পুরুষদের দেখেছে এক রকম, মেয়েদের দেখেছে আরেক রকম। অনন্যা ধর্মীয় আইন গুলো এমনই। নারী পুরুষ এক না। তাই নারী পুরুষে জন্য সব ক্ষেত্রে একরকম আইন করা যায় না। সেটা রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন হোক কিংবা ধর্মীয় আইন। আইন ক্ষেত্র বিশেষে নারীকে পুরুষের চেয়ে বেশি অধিকার দিয়ে তার সমান করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী অধিকারকে কমিয়ে পুরুষের সমান করেছে। বাংলাদেশের হিন্দু আইনটি এমন ভারসাম্য বজায় রেখেই আদিকালে তৈরি করা হয়েছিল। যার বোঝার ক্ষমতা এনজিও ও নামধারী হিন্দুদের নাই।.

আসলে সম অধিকার রক্ষা করার জন্যই এসব অনুশাসন করা। এক মহিষাসুর মারতে মা দুর্গাকে দশহাত ধারণ করতে হয়েছে। দশ পুরুষের শক্তিকে ধারণ করতে হয়েছে। তখনই মা অসুর বধ করার শক্তি পান। আজ যারা দুর্গা হবেন তাদেরকে বাপের সম্পত্তি দিলেই দুর্গা হবেন না। তাদেরকে দিতে হবে বাপ ভাই স্বামী সন্তানদের সহায়তা। এই চার শ্রেনির সহায়তা ছাড়া কোনো নারী সংসারে টিকে থাকতে পারবে না। এবং সেই সহায়তা হিন্দু নারীদের দিতে হবে আজীবন। তা না হলে ভোগের উদ্দেশে অসুর সেই নারীকে লুট করে নিয়ে যাবে ।.

তাই শুধু বাপের সম্পত্তির ওপর অধিকার সৃষ্টি করেই কোনো নারী সুখে শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাকে আরো কিছু সহায়তা আজীবন করে যেতে হবে। আর সেটাই আমরা এদেশের হিন্দুরা ভাই বোনের জন্য স্বামী স্ত্রীর জন্য ছেলেরা মায়ের জন্য করে আসছি। তাই আমাদের হিন্দু সমাজে কোনো ভিক্ষুক পাবেন না। ফুটপাতে যারা ঘুমায় তাদের মধ্যে কোনো হিন্দু খুঁজে পাবেন না। কারণ হিন্দুরা জানে তাদের ভাইবোনদের সঙ্গে কি করতে হয়। সেই নির্দেশনা হিন্দু আইনে আছে।.

বলা হয় খ্রিস্টান ধর্মে নারী পুরুষের সমান সম্পত্তি পায়। এবার তাদের পারিবারিক জীবন ঘাঁটেন। দেখবেনে তারা হিন্দুদের চাইতে বেশি অসুখী। মুসলিমদের পারিবারিক জীবন ঘাঁটেন। তালাকের পাহাড়ে ও জমি জমার মামলায় ডুবে যাবেন। অন্যদিকে হিন্দুদের ওপর জরিপ চালান। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি এসব ঘটনা তাদের মধ্যে কম। এর একমাত্র কারণ আমাদের সুন্দর হিন্দু পারিবারিক আইন।.

এবার আসি বর্ণচোরা এনজিওর দালাল হিন্দুরা কি বলছে। তারা বলছে আমাদের হিন্দু আইন প্রথা নির্ভর। তাই এই প্রথা বাতিল করা হোক। বলদে এটা জানে না। আমাদের হিন্দু আইন হচ্ছে শাস্ত্র নির্ভর। প্রথাও এসেছে শাস্ত্র থেকে। সেটাও ভেঙে বলছি বলদদের বোঝানোর জন্য।.

হিন্দু আইনের প্রধান উৎস হচ্ছে শ্রুতি ও স্মৃতি। যেমন মুসলিম আইনের প্রধান উৎস কোরআন এবং হাদিস।.

শ্রুতি হচ্ছে ঈশ্বরে বাণী যা প্রাচীন কালে আমাদের বিভিন্ন মুনি ঋষি ধ্যান যোগে শ্রবণ করে এসেছে। ঋক, সাম, যজু, অর্থব এই চারটি বেদকে বলা হয় শ্রুতি শাস্ত্র। মহা ঋষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাস যার অপর নাম বেদ ব্যাস, তিনি এই চার বেদকে সংকলন করেন। মানে পুস্তক আকারে লিখেন। এর আগে এটা ঋষি থেকে ঋষিতে সঞ্চারিত হতো। এরপর আসে আমাদের স্মৃতি । স্মৃতি ঈশ্বরের বাণী যা মুনি ঋষিরা স্মরণ করে রাখতো। স্মৃতি শাস্ত্র গুলো হচ্ছে মনুসংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা, নারদ সংহিতা। এককে জন মুনি একেক স্মৃতি শাস্ত্র পুস্তক আকারে সংকলন করেছে বলে এই স্মৃতি শাস্ত্রগুলোর নাম তাদের নাম অনুসারে করা হয়েছে মানে নারদ মুনির নামে নারদ সংহিতা, মনু ঋষির নামে মনুসংহিতা তেমনি যাজ্ঞবল্ক্য নামে যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা।.

এই হচ্ছে আমাদের সব হিন্দু আইনের উৎস। বা আজকে আমরা হিন্দুরা যেভাবে অন্নপ্রাশন (সন্তান জন্ম নিলে), বিবাহ ( করো সঙ্গে বন্ধনে) ও শ্রাদ্ধ (মৃতের অনুষ্ঠান) করি তা সবই এই সকল পুস্তকের বিধান অনুসারে। আমাদের দান, দত্তক, উত্তরাধিকার সবই এই শাস্ত্র মেনে হয়। প্রথা এখানে সামান্যই অনুসরণ করা হয়।.

উদাহরণ হিসেবে বলি পৃথিবীর সব হিন্দুর বিয়েতে একই বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে সাতপাক ঘুরে হয়। এখন এই কাজটি করতে গিয়ে অনেকে কিছু নিয়ম অনুসরণ করে যেগুলো প্রথা থেকে এসেছে।.

যেমন বাংলাদেশে যারা দুধের ব্যবসা করে তাদের মধ্যে সাদা লালের একটা বিষয় আছে। সাদা গোয়াল বিয়ের সময় তার মেয়েকে সাদা শাড়ী পরিয়ে বিয়ে দিবে। আর লাল গোয়াল তার মেয়েকে লাল শাড়ি পরিয়ে বিয়ে দেবে। এটা ওই গোয়াল সমাজের আদি প্রথা। কিন্তু বিয়েতে অন্য যেসব নিয়ম হবে তা সব হিন্দুর একই। সেটা ব্রাহ্মণ কায়স্ত সাহা শূদ্র যারই হোক। তাহলে আপনি কি বলবেন হিন্দু বিয়ে প্রথা নির্ভর?.

হিন্দুরা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধ করে। এই শ্রাদ্ধ করতে গিয়ে একেক বংশের লোক একেক প্রথা অনুসরণ করে। শ্রাদ্ধের সব কাজ সব বর্ণের একই রকম। এখানে প্রথা হচ্ছে কেউ ১১ দিনে শ্রাদ্ধ করবে কেউ ১৫ দিনে কেউ ৩০ দিনে। এই যে একেক বংশের লোক একেক দিনে করছে এটা গোষ্ঠী কিংবা শ্রেণি প্রথা। কিন্তু শ্রাদ্ধ করতে হবে মৃতের। এটা শাস্ত্রের বিধান। এখন আপনি কি বলবেন শ্রাদ্ধ প্রথা নির্ভর? হিন্দু শাস্ত্রে প্রথাগুলো এমন ভাবে জড়িয়ে আছে। হিন্দু ধর্মের মূল কাজগুলো সম্পন্ন হয় শাস্ত্র মেনেই।.

তাহলে আমরা প্রথা নির্ভর হলাম কি করে? প্রথা হিন্দু আইন নয়। প্রথা হচ্ছে এমন একটি নিয়ম বা রীতি যা বহুকাল থেকে কোনো একটি পরিবারে কিংবা শ্রেণীতে অথবা অঞ্চলে পালিত হতে হতে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে।.

প্রথা তিন প্রকার স্থানীয় প্রথা, শ্রেণী প্রথা, পারিবারিক প্রথা। আবার প্রথা আইনের মর্যাদা পেতে গেলে তাকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথা অত্যন্ত সুপ্রাচীন হতে হবে। দীর্ঘদিন নিরিবিচ্ছন্নভাবে চলতে হবে। কোনো রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হলে চলবে না।.

প্রথা গুলোকে মনে করা হয় এগুলি স্মৃতি শাস্ত্রেরই হারিয়ে যাওয়া অংশ। যা শাস্ত্রে সংকলিত হওয়ার সময় বাদ পড়ে গেছে। তাই প্রথা কে হিন্দু ধর্মে গুরুত্ব দেওয়া হয়।.

আমাদের উপমহাদেশে কোনো ধর্মীয় আইনই পার্লামেন্টে তৈরি হয়নি। ব্রিটিশ আমলে এদেশে বিধিবদ্ধ আইন তৈরি হয়। ব্রিটিশরা যার যার ধর্ম থেকে হুবহু তুলে এসব আইন বিধিবদ্ধ করে দেয়। আমাদের দেশে সব বিধিবদ্ধ আইনই ব্রিটিশ আমলে তৈরি। দেশ ভাগের পর ব্রিটিশদের তৈরি করা বহু আইনই পরিবর্তন করা হয়েছে সংসদে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যেসব আইন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তৈরি হয়েছিল। সেগুলোই পরিবর্তন হয়েছে পার্লামেন্টে। ধর্মীয় আইন এসবের বাইরে ছিল।.

তাই বাংলাদেশ সৃষ্টি হলেও এই অঞ্চলের ধর্মীয় আইন পরিবর্তন হয়নি। ভারতে হিন্দু পারিবারিক আইন পরিবর্তন করতে গিয়ে লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি করে ফেলেছে।.

তাদের ঘরে ঘরে এখন বিবাহ বিচ্ছেদ ও জমি জমা নিয়ে মামলা মোকদ্দমা। নারীকে বাপের সম্পত্তির মালিক বানাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে বিয়ের পর ছেলে বাপ মাকে ফেলে শ্বশুর শাশুড়ির খেদমতে লেগে গেছে। অথবা নিজের বাপ মাকে আলাদা বাড়িতে রাখছে।.

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত হিন্দু তালাক আইনে সংশোধন আনে। সংশোধনীটা এমন, কোনো স্ত্রী যদি স্বামীকে নিয়ে শ্বশুর শাশুড়ির সঙ্গে থাকতে না চায় তবে তাকে সরাসরি ত্যাগ করতে পারবে ছেলেরা।.

আজ হিন্দি বাংলা সিরিয়াল গুলো দেখছেন না, এক স্ত্রীর কতবার বিয়ে। এসবই হচ্ছে হিন্দু আইন থেকে সরে যাবার কুফল। আমাদের বাংলাদেশের হিন্দু সমাজ ভারতের মতো হয়নি। কারণ আমরা হিন্দু শাস্ত্রের বাইরে যেতে চাইনি। যারা গেছে তারা এখন পস্তাচ্ছে।.

তেমনি হিন্দু শাস্ত্র থেকে হিন্দু পারিবারিক আইন। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এদেশের হিন্দুরা ভারত থেকে ভিন্ন আইন অনুসরণ করে আসছে। কেন করছে তার একটি ইতিহাস আছে।.

প্রচার করা হচ্ছে হিন্দু নারীরা বাপের সম্পত্তি পায় না। অথবা ভাই থাকতে বাপের সম্পত্তি পায় না বোনরা। আবার অনেকে বলছেন যাদের মেয়ে আছে ছেলে নাই, তাদের সম্পত্তি আরেকজনে পাবে। এসব বলে লোকজনকে নিজেদের পক্ষে টানছে কুচক্রী মহল।.

আমাদের হিন্দু সমাজে অজ্ঞতাকে পুঁজি করে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে চক্রান্তকারীরা।.

নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো.

হিন্দু নারী বলতে পাঁচ শ্রেণির নারী আছে। এরা হচ্ছে প্রপিতামহি, পিতামহি (ঠাকুমা) , মা, বোন, বিধবা। এরা সবাই বাপ ও স্বামীর সম্পত্তি পাবার অধিকারী। কীভাবে পায় আসুন জেনে নেই।.

হিন্দু নারীরা দুই ভাবে সম্পত্তির অধিকারী হয়। একটা অধিকার এমন যার মালিক নারী সে পুরোপুরি নিজে। মানে সেই সম্পত্তি স্থাবর/ অস্থাবর যাহাই হোক না কেন সেই নারী ওই সম্পত্তি বিক্রি, দান, উইল নিজের ইচ্ছা অনুসারে করতে পারবে। আরকটা অধিকার হচ্ছে যৌথভাবে মানে ওই ধরনের সম্পত্তি সে ভোগ দখল করবে, কিন্তু বিক্রি বা দান করতে গেলে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে।.

চক্রান্তকারীরা এই দ্বিতীয় অধিকারের কথা বলতে গিয়ে হিন্দু আইনের সমালোচনা করছে। অথচ আমাদের হিন্দু শাস্ত্র কত সুন্দর একটা বিধান তৈরি করেছে। তাকে নিয়ে এসব বেনামী হিন্দু ও এনজিও আজে বাজে মন্তব্য করছে।.

হিন্দু নারীর সম্পত্তির ওপর দুই ধরনের অধিকারকে দুই নামে অবহিত করা হয়। একটা নারীর সম্পত্তি, আরেকটা স্ত্রীধন।.

এখন আমরা জানবো কোনগুলো স্ত্রীধন আর কোনগুলো নারীর সম্পত্তি।.

প্রথমে স্ত্রীধন সম্পর্কে শুরু করি। কারণ চক্রান্তকারীরা প্রচার করে বেড়াচ্ছে স্ত্রীধন মানে যৌতুক। আর কিছু না। এটা একটা অর্ধসত্য কথা।.

বাপের ঘরে থাকা একজন অবিবাহিত মেয়ে কোনো ভাবে যদি সম্পত্তি অর্জন করে সেটা স্থাবর অস্থাবর যাহাই হোক না কেন সেই সম্পত্তি স্ত্রীধন হিসেবে পরিগণিত হয়।.

ধরুন একজন মেয়ে বাপের ঘরে থেকে চিকিৎসক হলো কিংবা টিউশনি করে কিংবা শিল্পকলার মাধ্যমে কিংবা বাপে দান করে কিছু সম্পত্তি দিল। ধরুন সেই স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য এক কোটি টাকা হলো। এখন ওই নারী ৫০ লাখ টাকা দিয়ে ফ্লাট কিনলো আর বাকী ৫০ লাখ ব্যাংকে রাখলো। ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা টাকা ও ক্রয় করা ফ্লাট। দুটোই হচ্ছে ওই নারীর স্ত্রীধন। এই দুই সম্পত্তি ওই নারী যখন খুশি যাকে ইচ্ছা তাকে দিতে পারেন কিংবা বিক্রি করতে পারেন। এখানে কারো বাধা দেবার এখতিয়ার নেই।.

এদিকে চক্রান্তকারীর দল বলছে নারীশুধু যৌতুক পায়। আর কিছু পায় না। নারীর সম্পত্তি বিক্রি করার অধিকার নাই। কত বড়ো অপ প্রচারকারী সেটা প্রকাশ করলাম।.

এভাবে একজন বিবাহিত মেয়েও যদি সম্পত্তি অর্জন করে সেই সম্পত্তিতে তারই অধিকার থাকে। অন্য কারো অধিকার নাই। তবে বিবাহিত মেয়ের ক্ষেত্রে হিন্দু আইন একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। সেটা হচ্ছে স্বামীর অনুমতি। কারণ বিবাহিত মেয়ের স্বামী সন্তান থাকে। বিবাহিত মেয়ের স্বামী হচ্ছে তার অভিভাবক ও পরিবারের মাথা। তাই সেখানে স্বামীকে না জানিয়ে এসব করা যাবে না। কত সুন্দর একটা বিধান। কারণ বিবাহিত মেয়ে যদি তাদের সন্তানকে বঞ্চিত করে কিংবা বিবাহিত নারীকে ঠকিয়ে অন্য কেউ সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে যায়। এজন্য বিবাহিত মেয়েকে এই গার্ড হিন্দু আইন দেয়।.

আর আমরা সবাই জানি। কারো স্ত্রী পরিবারের সব কাজই তার স্বামীকে জানিয়ে করে। আর স্বামী নারীর ওই কাজে কোনো বাধা দেয় না। স্বামী স্ত্রী সুসম্পর্ক থাকলে স্ত্রী তার উপার্জিত টাকা কাক বিড়ালকে দিলেও স্বামী তাতে আপত্তি করে না। অথচ এই সুন্দর বিষয়টি রাস্তায় টেনে এনে বলা হচ্ছে কি নির্যাতন? কি অধিকার হরণ ? ব্লা ব্লা। এরপর বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের মন্তব্য টেনে আনে আমার সম্পত্তির ওপর আমার অধিকার নাই। তাহলে কার অধিকার? যদু মদু কদুর।.

এভাবে বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে আমাদের হিন্দু আইন। একটা ভালো জিনিসকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যে স্বামী তার স্ত্রীকে ভালোবাসে সে কি কখনও তার স্ত্রীর দান খয়রাতের মতো সুন্দর কাজে বাধা দিতে পারে? যেখানে হিন্দু আইনে স্বামী স্ত্রীকে বলা হয়েছে দুই দেহে এক আত্মা। যেখানে এক হিন্দু নারী তার স্বামীকে ধন যৌবন জীবন সবকিছু সপে দেয়, সেখানে স্বামী কিংবা তার আলাদা বলে কিছু থাকে কি?.

জীবনভর দেখে আসলাম স্বামীরা স্ত্রীদের আশা পুরন করতে করতে নিজেদের জীবন দিয়ে দেয়। স্বামীর এই তথাকথিত অনুমতি তার বেচে থাকা পর্যন্তই। স্বামী মৃত্যু পর হিন্দু নারীর সেটার আর দরকার পড়ে না।.

এছাড়া বিবাহের সময় একটা মেয়ে যা পায় সেটা উপহার হতে পারে কিংবা আত্মীয়দের থেকে সম্পত্তি দান সূত্রে পেলেও সেটা স্ত্রীধন। একে চক্রান্তকারীরা বলছে যৌতুক প্রথা।.

অনেকে বলেন হিন্দু মেয়ে বিয়ের সময় বাপের কাছ থেকে কিছু পায় না। তাদের কি বিয়ে হচ্ছে না। বাপের কাছ থেকে না পেলেও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে পায়। সেটা স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি দুই হতে পারে। বাপ যদি অক্ষম থাকে তখন দেখা যায় মামা, কাকা, পিসি, জেঠা, জেঠি, ভাই ও বোন সবাই দুই হাতে উপহার দিয়ে নারীকে বিয়ে দেয়। না চাইলেও দেয়। আদর ভালোবাসা থেকে দেয়। আনন্দে দেয়। এই দেয়ায় কোনো জবরদস্তি নেই। অথচ এসব চিহিৃত হয় স্ত্রীধন হিসেবে যৌতুক অর্থে নয়।.

যৌতুক তো সেটা যার সঙ্গে জবরদস্তির যোগ আছে। হিন্দুরা জবরদস্তি করে কোনো সম্পদ আদায় করে না।.

এবার আসি সম্পত্তি প্রাপ্তিতে হিন্দু নারী দ্বিতীয় অধিকার নিয়ে আলোচনা যেটাকে “নারীর সম্পত্তি” বলা হয়.

রাস্তায় যারা আন্দোলন করছে তারা এই বিষয়টিকে ঢাল বানিয়ে সমগ্র হিন্দু জনগোষ্ঠীকে ক্ষেপিয়ে তুলছেন। আমরা জানি হিন্দু আইনে নারী পাঁচ রকম। এরা হচ্ছে কন্যা, মাতা, পিতামহী, প্রপিতামহী আর বিধবা। এখানে যেসব হিন্দু নারী উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি প্রাপ্ত হোন সেই সম্পত্তিকে নারীর সম্পত্তি বলে। এই সম্পত্তি তারা ভোগদখল করতে পারেন মাত্র জীবনসত্ত্বে। চক্রান্তকারীরা বলছে জীবনসত্ত্ব একটা সত্ত্ব হলো। এই জীবনসত্ত্বকে তারা গুরুত্বই দিচ্ছে না।.

আপনি বাসায় টিভি, ফ্রিজ, থালা বাসন, আসবাবপত্র সবকিছু কিনলেন। আজীবন কি ভোগ করতে পারেন? আপনার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে ওইসব জিনিসপত্র অন্যের হয়ে যাবে। যে যায় সে সবকিছু ফেলে রেখেই যায়। মালিক হয় অন্য ব্যক্তি। তাই আপনি হলফ করে বলতে পারেন একজন লোক এই পৃথিবীতে যা কিছু কিনে ভোগ করুক। সেটা সে জীবন সত্ত্বে ভোগ করে।.

মৃত্যুর পর এর মালিক সেই ব্যক্তি থাকেন না। হয়ে যান অন্য ব্যক্তি। এই অন্য ব্যক্তি যাতে নিজ বংশের হয় সেই জন্য হিন্দু আইনে নারীর জন্য এই জীবন সত্ত্বের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে নারী এই সম্পত্তি অন্য বংশের লোকের কাছে বিক্রি করতে না পারে। কারণ অন্য বংশের লোক তাদের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করবে না। নিজ বংশের লোক করবে। কারণ আমরা যখন বিয়ে অন্নপ্রাশন ও শ্রাদ্ধ করি তখন পূর্বপুরুষের আত্মা মুক্তির জন্য প্রার্থনা করি তাদের আশীর্বাদ গ্রহণ করি। বিয়ের মাধ্যমে নারী গোত্রান্তরিত হয়ে অন্য বংশে চলে যায়। তখন সে অন্য বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে মাত্র। সেটা করতে গিয়ে সে ওই সম্পত্তি অন্য কারো কাছে বিক্রি কিংবা দান করতে পারে না। যেটা সে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।.

আবার এই ধরনের সম্পত্তিও শর্ত সাপেক্ষে বিধবা নারী বিক্রি দান করতে পারে। যদি আইনগত প্রয়োজনীয়তা সামনে এসে পড়ে। যাকে লিগাল নেসেসিটি বলে। এই লিগ্যাল নেসেসেটি কি কি হবে তার বিশদ বিবরণ দেওয়া আছে। তাই যারা হিন্দু বিধবার ছবি দিয়ে তাকে বঞ্চিত অবহেলিত বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন তারা চক্রান্তকারী। স্বামীর অবর্তমানের হিন্দু বিধবা নারী তার সম্পূর্ন সম্পত্তির মালিকানার অধিকারী। তাকে ওই সম্পত্তির ম্যানেজার অব দ্যা স্টেট বলা হয়।.

অপপ্রচারকারী বলে বেড়াচ্ছে বাপের সম্পত্তি হিন্দু মেয়েরা পায় না?.

হিন্দু আইনে বাপ তার মেয়েকে সম্পত্তি দান করলে কিংবা উইল করে দিলে কারো ক্ষমতা নেই সেটা আটকানোর।.

যাদের পুত্র নাই। তাদের সম্পত্তি কি অন্যরা পাবে? অবশ্যই না।.

বাপ জীবিত অবস্থায় তার কন্যাকে দান কিংবা উইল করে দিয়ে যাবেন। হিন্দু আইনে দানের শর্ত হলো যিনি দান দিচ্ছেন আর যিনি দান নিচ্ছেন মানসিকভাবে তাদের উভয়কে সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। এই যা। আর গ্রহিতা নাবালক হলে ওই দান গ্রহণ করবেন নাবলকের অভিবাবক। ছেলে থাকলেও বাপ মেয়েকে সবকিছু দিতে পারবে। সেটা স্থাবর অস্থাবর সবকিছু। আশা করি এটা জানার পর অনেকের দু:শ্চিন্তা মাথা থেকে চলে গেছে।.

এখন বাপের কাছ থেকে এই ক্ষমতাকে কেড়ে নিতে চাচ্ছে রাস্তার আন্দোলনকারীরা। তারা মুসলিমদের মতো আইন তৈরি করতে চাচ্ছে। তাদের দাবি বাপ দান করবে কেন। বাপের সম্পত্তি ছেলের মতো অধিকার দিতে হবে। যা হিন্দু শাস্ত্রের বিরুদ্ধে।.

হিন্দু শাস্ত্রে মেয়ে কে বাপেরা দান করে দেয়। তাই হিন্দু বিয়েকে কন্যা দানের আচার বলা হয়। কন্যা অন্য বংশের হয়ে যায়। তাই বলে কন্যার প্রতি স্নেহ ভালোবাসা কমে না। কন্যা বিপদে পড়লে বাপ তার পাশে দাড়ায়। এটাই আমরা দেখে আসছি। আর বিয়ের পর কন্যা স্বামীর সম্পত্তির একছত্র অধিকারী হয়। স্বামীর যা স্ত্রীর তা। এখানে স্বামী স্ত্রীকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। স্বামীর অবর্তমানে স্ত্রী সবকিছুর মালিক।.

এবার আসি তালাক প্রসঙ্গে.

হিন্দু আইনে তালাক নেই। কারণ হিন্দু শাস্ত্রে তালাক নামক কোনো কনসেপ্ট নাই। কেন নাই। কারণ হিন্দু শাস্ত্র মনে করে যদি কোনো হিন্দু কুষ্ঠি দেখে বিয়ে করে সেই বিয়ে ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। কুষ্ঠি কি? কুষ্ঠি হচ্ছে একজন ছেলে ও মেয়ে যে সময়ে জন্ম নেয় তখন গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান কি ছিল তার বিচার করা।.

হিন্দু ছেলে মেয়েদের কুষ্ঠি বিচার করে বিয়ে দিতে হয়। যেটাকে অনেকে যোটক বিচারও বলে। কোন ছেলের জন্য কোন ধরনের মেয়ে উপযুক্ত তার বিচার হয় কুষ্টি দেখে। এটা হিন্দু বিয়ের প্রি রিকুইজিট।.

একটা মেয়ে দেখলাম, সুন্দর ভালো লাগলো। এভাবে হিন্দু বিয়ে হয় না। ওই মেয়ের ও ছেলের স্বভাব চরিত্র দোষ গুন সব কুষ্ঠিতে ফুটে উঠে। যেমন ভবন তুলতে গেলে আগে ওই স্থানের মাটির পরীক্ষা করা হয়। মাটির শক্তির ওপর নির্ভর করে কয়তলা সেখানে উঠনো যাবে। তেমনি কুষ্টি পরীক্ষা।.

যারা এসব কুষ্টি ঠিকুজির ধার ধারেন না। তারা হিন্দু স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে করুন। সেই আইনে তালাক আছে। ইচ্ছামত তালাক দিতে থাকেন আর বিয়ে করতে থাকেন। কেউ বাধা দিবে না। এখন তালাকের জন্য আপনি কেন হিন্দু আইন পরিবর্তন করতে যাবেন? তালাক হিল্লা এসব হচ্ছে মুসলিম আইনের সম্পদ। ওগুলো যদি ভালো লাগে তাহলে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করুন। ওই ধর্ম গ্রহণ করুন মনের সুখে তালাক হিল্লা মারেন। কে আপনাকে আটাকাচ্ছে।.

পরিশেষে বলতে চাই আসুন আমরা সবাই এক হয়ে চক্রান্তকারীদের প্রতিরোধ করি। আর যারা না বুঝে চক্রান্তকারীদের সঙ্গে মিশে আছে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করি। জয় শ্রীরাম।.

লেখক: সাংবাদিক তারিখ : ১৪/৯/২০২১. .

ঢাকানিউজ২৪ / এসডি

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image