• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০১ জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

২০২২ সালে দেশের মানুষের প্রত্যাশা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ০১ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৪৮ পিএম
সূর্য
নতুন বছরের সূর্য, ফাইল ছবি

সুমন দত্ত

 চলে গেল আরেকটি ইংরেজি বছর ২০২১। নতুন বছরে দেশের মানুষের অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা। কে জানতো করোনা ২০২১ সালেও পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াবে। অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতে এসেছে স্থবিরতা।  বাংলাদেশে ব্যাংক সূত্রে জানা যায় ২০২১ এর শেষ কয়েক মাসে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের হার কমে গেছে। 

বিদেশ থেকে আমদানি বেড়ে যাওয়া, আর রপ্তানি কম হওয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলার কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৭ থেকে ৯০ টাকায়। ব্যাংক বিক্রি করছে ৮৬ থেকে ৮৮ টাকায়। অথচ বছরের শুরুতে ১ মার্কিন ডলার ছিল ৮২ থেকে ৮৩ টাকা।

 এ মুহূর্তে দেশের বাজারে চলছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য চাল, ডাল, চিনি, পেয়াজ, সয়াবিন তেলের বাজার অস্থিতিশীল। 
২০২১ সাল জুড়ে ছিল এই অস্থিতিশীলতা। ব্যবসায়ীদের কারসাজি ধরতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার মধ্যেই দায় সেরেছে। লক্ষণীয় কিছুই করতে পারেনি। মূল্যবৃদ্ধি রোধে টিসিবিতে নিত্য পণ্য বিক্রি চালু করলেও তার সফলতা পাচ্ছে না সাধারণ লোকজন। বরং এক শ্রেণির সুযোগ সন্ধানী মানুষ প্রতিদিন টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করে খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। ভোক্তা অধিকার ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেও ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফাখোরিতে রাশ টানতে পারেনি। 

পরিবহণ সেক্টরেও বছর জুড়ে চলেছে বিশৃঙ্খলা। এতে প্রাণ হারিয়েছে বহু পথচারী। বছর শেষে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ভাড়া বাড়ানো ছিল বাস মালিকদের পূর্ব পরিকল্পিত। তারা ডিজেলের দাম কমানোর দাবি না তুলে ভাড়া বাড়ানোর আন্দোলন করে। এতে সফলতা আসে। কারণ সরকার এদের হাতে জিম্মি। নতুন বছরে জনগণ চায় পরিবহন সেক্টরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ। 

গেল বছর কোন আগাম ঘোষণা ছাড়াই সরকার সঞ্চয়পত্রের ওপর মুনাফার হার কমিয়ে দিয়েছে। এটা মধ্যবিত্ত তথা সরকারি বেসরকারি চাকুরীজীবীদের পেটে লাথি মারার সামিল। কারণ দেশে বিশাল মধ্যবিত্ত শ্রেণি এই সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল।

 দেশে দুর্নীতি কমে আসলে সঞ্চয়পত্রের ওপর চাপ আসতো না।  এই খাত থেকে সরকারের ব্যয় বাড়ার কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার সময়মত ব্যবস্থা নিতে পারে না। কর্পোরেট সেক্টরের দুর্নীতি কমানো গেলে দেশের অর্থনীতি আরো এগিয়ে যেত। বিদেশে অর্থ পাচার রোধ করতে সরকারের তেমন কোনও ভূমিকা দেখা যায় না। আজও চুরি যাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ পুরোটা ফেরত আনা গেল না। এটা দেশের ব্যর্থতা। দুর্নীতি দেশের অর্জন গুলিকে ম্লান করে দেয়।   

করোনার কারণে ২০১৯ সাল থেকে ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন বাসায় কাটে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ঠিক মতো হয়নি। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার নতুন বছরে কি পদক্ষেপ নেয় সেটা এখনো জানা যায়নি। তবে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিশুদের টিকার আওতায় আনা হবে। তারপর নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে। তবে বন্ধ হবার আগাম সংকেত তিনি দিয়ে রেখেছেন। 

২০২১ সালে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ছিল টক অব দ্যা কান্ট্রি। বছরে শেষে মন্ত্রণালয় থেকে হারিয়ে যায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। এ নিয়ে দুদকে মামলা হয়। গ্রেফতার হোন বেশ কয়েকজন কর্মচারী। যার তদন্ত এখনো চলমান। তবে বছর জুড়ে টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট মাঝপথে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দিলে দেশে টিকাদান কর্মসূচিতে বিগ্ন ঘটে। তবে দ্রুত সরকার কোভ্যাক্স এর মাধ্যমে একই টিকা বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ে এসে টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখে।  বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ হাতে গোনা কয়েকটি দেশই করোনা মহামারিতে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে নিতে পেরেছে। বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। এখনো পৃথিবীর বহু দেশ করোনার টিকা পায়নি।

এ বছর মেট্রোরেল ও পদ্মাসেতুর মতো মেগা প্রজেক্ট উদ্বোধন হবে। মেট্রোরেল উদ্বোধন হলে রাজধানীর যানজট কমবে এমন আশা করছেন অনেকে। এর আগে রাজধানীতে একাধিক ফ্লাইওভার নির্মাণ হলেও যানজটে লাগাম টানা যায়নি। 

পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তব। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের যেসব জায়গায় রেল যোগাযোগ ছিল না সেখানেও চলে যাবে রেল। সেতুতে রেল পথ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। 

এই কাজটি সম্পন্ন হলে ঢাকা বেনাপোল নতুন এক রেল রুট তৈরি হবে। এতে বিমানবন্দর স্টেশনের ওপর চাপ কমবে। গেণ্ডারিয়া স্টেশন হতে যাচ্ছে ঢাকা কলকাতা রেল রুটের নয়া ইমিগ্রেশন সেন্টার। এজন্য গেণ্ডারিয়া স্টেশন ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে রেলখাত একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখনো দেশের বাজারে দাড়াতে পড়েনি। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো সড়কপথ নির্ভর।

 রেলখাতে বাজেট বৃদ্ধি করে নতুন নতুন রেলপথ তৈরি করতে হবে দেশকে। দেশের সবগুলো জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে সড়কের ওপর নির্ভরতা কমবে। দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমে আসবে। প্রতি বছর এই প্রত্যাশা থাকলেও তার পূরণ হয় না। ঢাকা কুয়াকাটা রেলপথ নির্মাণ হচ্ছে। দেশের পর্যটন খাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এই রেলপথ। 

দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর। যে লক্ষ্য নিয়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে তার একটি ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা। সবগুলো রাজনৈতিক দল নিজেদের অসাম্প্রদায়িক বললেও দেশের মানুষের মধ্যে ধর্মান্ধতা লক্ষ্য করা গেছে। সাম্প্রদায়িক ওয়াজের কারণে গ্রেফতার হয়েছেন বেশ কয়েকজন ওয়াজকারী। ২০২১ সালে সনাতন ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত এসেছে। কুমিল্লার নানুয়া দীঘিতে দুর্গা পূজার দিন পবিত্র কোরআন অবমাননার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে দেশের বিভিন্ন জেলার দুর্গা মণ্ডপে হামলা চালায় উগ্রবাদীরা। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়। তবে সরকার এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি দাবি করে। নতুন বছরে মানুষের প্রত্যাশা এসব ঘটনা সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।

রোহিঙ্গা সমস্যা ঝুলে আছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার কোনো লক্ষণ মিয়ানমার সরকারের মধ্যে নেই। তবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। জনগণের প্রত্যাশা রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাবে।

লেখক: সাংবাদিক, তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২২

ঢাকানিউজ২৪.কম /

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image