• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১১ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

শীতে উত্তরাঞ্চলে বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৩ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১:২২ এএম
শীতে উত্তরাঞ্চলে বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন
উত্তরাঞ্চলে শীতে জনজীবন

ডেস্ক রিপোর্টার: পৌষের মাঝামাঝি ঘন কুয়াশায় উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা। সঙ্গে আছে কনকনে বাতাস; যা জনজীবনে ভোগান্তির মাত্রা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। প্রচন্ড শীতের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন। শীতের প্রকোপে অসহায় হয়ে দিনাতিপাত করছে ছিন্নমূল মানুষেরা।

গত দু’দিন হলো ২৪ ঘণ্টা হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে, শীত জেঁকে বসতে পারে অচিরেই! তীব্র শীতের কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে গত কয়েকদিন ধরেই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। অব্যাহত এই শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাত থেকে সকাল অবধি কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে পুরো জেলা। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও বিকালের পর থেকে আবারও বাড়ছে শীত। ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছে শিশু ও বয়স্করা।

গত কয়েকদিন ধরে পঞ্চগড়ে ৮ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা উঠানামা করছে। রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ডে করা ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে রয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। হাড় কাঁপানো শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। অনেকেই ছুটছেন ফুটপাতে গরম কাপড়ের খোঁজে। যানবাহনগুলোকে সকালের দিকেও হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চলাচল করতে হচ্ছে।

দিনাজপুরে সকালে তাপমাত্রা ছিলো ১২.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা, তীব্র শীত আর ঠাণ্ডা থেকে রক্ষায় আগুন জ্বালানোসহ নানা উপায় খুঁজছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

রবিবার সকালে দিনাজপুরে বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯৫ শতাংশ। দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, দিনাজপুরে সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আদ্রতা ৯৫ শতাংশ, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪-৬ কিলোমিটার। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি ঘণ্টায় ৮-১২ কিলোমিটার পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে।

উত্তর জনপদের সর্বশেষ জেলা ঠাকুরগাঁও। হিমালয়ের অনেক কাছে হওয়ায় এখানে শীতের তীব্রতা প্রতি বছরই বেশি হয়। কিন্তু এবার যেন শীতের আচরণ একটু বেশি দাপুটে। ডিসেম্বরের শুরুতে শীতের তীব্রতা শুরু হলেও মাসের শেষ থেকে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৪ ডিগ্রি সে. রেকর্ড করা হয়েছে। এই জেলায় কখনো সারাদিন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে আবার কখনো চলছে হালকা রোদের আশা-যাওয়ার ভেলকিবাজি। গত দুইদিন দিন ধরে এখানে দিনের বেলায় কিছু সময় সূর্য দেখা গেলেও বাতাস শীতের তীব্রতা অনেক বেশী। রাতের বেলায় বৃষ্টির ন্যায় ঝিরঝির করে কুয়াশা ঝরছে।


রংপুরে সন্ধ্যার পর থেকে কুয়াশা তীব্র হচ্ছে। দিনে কমছে সূর্যের প্রখরতা। শীত নামতে শুরু করেছে হিমালয়ের কোল ঘেঁষা উত্তরের জনপদেও। গেল ডিসেম্বরে মৃদু ও মাঝারি শৈত্য প্রবাহের পর নতুন বছরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার পর ফের শুরু হয়েছে শীতের দাপট।

সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় শৈত্য প্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে রংপুর আবহাওয়া অফিস। সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। ঠাণ্ডায় নাকাল হয়ে পড়ছে চরাঞ্চলসহ ছিন্নমূলের অসহায় মানুষেরা। শীতের এ তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

বাড়ছে শীত জনিত রোগাক্রান্তের সংখ্যা। শীতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, ডিসেম্বরের শেষে একটি শৈত্যপ্রবাহের পর গত এক সপ্তাহ তাপমাত্রার কিছুটা উন্নতি হলেও ফের আবহাওয়া কিছুটা কমতে শুরু করেছে। শনিবার উত্তরের সীমান্তবর্তী উপজেলা তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি দুই এক দিনের মধ্যে আরও কমে হিমেল হাওয়াসহ শৈত্যপ্রবাহ তীব্র হতে পারে।

সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত শীতের তীব্রতা থাকছে অনেক বেশি। মাঝ রাতে কুয়াশাপাতের পাশাপাশি বইছে ঠান্ডা বাতাস। এক সপ্তাহ ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় বিপাকে জেলার খেটে খাওয়া স্বল্প আয়ের মানুষ। এদিকে, উত্তরের আরেক জেলা কুড়িগ্রামেও বেড়েছে শীত। সকাল থেকে বাতাস ও ঘন কুয়াশায় ডেকে আছে চারদিক। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শীতবস্ত্র না থাকায় সকাল ও সন্ধ্যায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।

 

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image