• ঢাকা
  • শনিবার, ৩০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ১৬ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

আয়ের পথ চালু হওয়ায় খুশি কারখানার শ্রমিকরা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২:০২ পিএম
কারখানাগুলোতে ফিরেছে কর্মচঞ্চল
কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করছে

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: লকডাউন শিথিল হওয়ার পর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিসিক শিল্প নগরীর কারখানাগুলোতে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। দীর্ঘ সময়ে অভাব অনটনে থাকা শ্রমিকরা আয়ের পথে এসে বেশ খুশি। আর সংশ্লিষ্টরা বলছেন সবাইকে করোনা টিকার আওতায় আনা হলে স্বাভাবিকভাবেই কারখানা চালু রাখা সম্ভব।.

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ জারি থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের বিসিক শিল্প নগরীর কলকারখানাগুলো বন্ধ রাখা হয়। এতে বেকার হয়ে পড়ে শত শত শ্রমিক। লকডাউন শিথিল হওয়ায় অভাব অনটনে দিনযাপন করা শ্রমিকরা আবারও কর্মস্থলে যোগ দিয়েছে। কারখানাগুলোতে ফিরেছে কর্মচঞ্চল।.

ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে উঠা সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান রাজ্জাক গ্রুপের গোল্ডেন ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ নামের জুট মিল। এছাড়া আটা ময়দা সুজি, সাবান ও প্লাস্টিকের কয়েকটি কারখানা ছাড়া গড়ে উঠেনি তেমন কোনো বড় কলকারখানা। তাই স্থানীয় অনেক শ্রমিকের ভরসা জুট মিলে নিয়মিত শ্রম দেওয়া।.

বর্তমানে বিধিনিষেধ শিথিলতায় এই জুট মিলে তিন ভাগে প্রায় ছয় শতাধিক শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। এ থেকে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে পাটের তৈরি ৫ হাজার পিস সুতার রোল ও ৫ হাজার পিস বস্তা। এসব উৎপাদিত সুতা ও বস্তা স্থানীয় চাহিদা বাজারের চাহিদা পূরণ করে পাঠানো হচ্ছে অন্যান্য জেলায়ও।.

চালু হওয়ার পর জুট মিলে কাজ ফিরে পেয়ে এখন অনেকটাই খুশি শ্রমিকরা। তবে করোনা টিকা প্রদান অব্যাহত থাকলে কলকারখানা খোলা রাখা সম্ভব বলে জানান কারখানার মালিকরা।.

কারখানার শ্রমিক মালেকা বেগম বলেন, ‘এতদিন কারখানা বন্ধ থাকায় আমাদের খুব খারাপ অবস্থায় দিন কাটছিল। এখন কারখানা খুলছে, নিয়মিত বেতন পাচ্ছি, ভালোভাবে চলতেছে সংসার।’.

আরেক শ্রমিক আজাদ আলী বলেন, ‘কারাখানায় আমরা মাস্ক পরে নিয়ম মেনে কাজ করছি। তবে আমাদেরকে যদি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে আরও ভালো হয়।’.

ঠাকুরগাঁও গোল্ডেন ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ এর জেনারেল ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিধিনিষেধ শিথিলের পর প্রতিষ্ঠান খুলে নতুন করে উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে করোনায় আমাদেরকে লোকসান গুণতে হয়েছে। লকডাউনে যেসকল কলকারখানা বন্ধ ছিল, তাদের নেওয়া ঋণের সুদ মওকুফ করা হলে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়বে।’.

ঠাকুরগাঁও চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি ও রাজ্জাক গ্রুপের প্রোপাইটার হাবিবুর ইসলাম বাবলু বলেন, ‘করোনাকালীন আমরা কোনো শ্রমিক ছাটাই করিনি। এছাড়াও অনেক শ্রমিককে আমরা সহযোগিতা করেছি। এখন আমাদের কারখানা চালু হয়েছে। তাই যে সকল ব্যাংক লোন এর ইন্টারেস্ট রয়েছে, সেগুলো মওকুফ করলে আমাদের ক্ষতি কম হবে।’.

ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক নুরেল হক বলেন, ‘সরকারের পক্ষ হতে কলকারখানাগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। বিসিক এর সকল কারখানা নিয়ম মেনে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা ও পুরো কারখানা জীবাণু নাশক স্প্রে করে তারপরই খোলা হয়েছে।’.

১৯৮৭ সাল থেকে ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীর ১৫ একর জমিতে গড়ে উঠে ছোট-বড় ৫১টি প্রতিষ্ঠান। এর বিপরীতে বর্তমানে জুট মিলেই শ্রমিক সংখ্যা ছয় শতাধিক। আর বাকি প্রতিষ্ঠানেগুলোসহ মোট এক হাজার পাঁচশত ৩৫জন শ্রমিক প্রতিদিন এখানে কাজ করছেন।
 . .

ঢাকানিউজ২৪.কম / গৌতম চন্দ্র বর্মন

সংগঠন সংবাদ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image