• ঢাকা
  • বুধবার, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২৪ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

নিজেকে লুকিয়ে রাখা কঠিন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১:১৯ এএম
সুদীপা
সুদীপা বিকাশ রবিন সাহাদের ছবি

সুমন দত্ত 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই যুগে নিজেকে লুকানো কঠিন। একটা সময় ভণ্ডামি করে মিথ্যা বলে পার পাওয়া যেত। এখন সেটা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করেন ফেসবুকে, টুইটারে, ইনস্টাগ্রামে, হোয়াটস অ্যাপে আমার কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। তাই আমার ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম। তারা ভুল ভাবছেন। কারণ ব্যক্তির আইডি না থাকলেও তার আত্মীয় স্বজনের তো আছে।

 ব্যক্তি তাদের সঙ্গে মিশলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি প্রকাশ হয়ে পড়ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইডি না খুলে যারা ভাবছেন, তার কথা তিনি ছাড়া কেউ জানতে পারবে না কিংবা জানবে না। সেটা ভুল। আপনি যেসব অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন , সেখানে ফোটো তোলা হচ্ছে, ভিডিও করছে কেউ না কেউ। সেটা প্রকাশ করে দিচ্ছে আপনারই অজান্তে অন্য কেউ। নিজেরটা প্রচার করতে যেয়ে অন্যেরটা প্রচারিত হয়ে যাচ্ছে। এটাই এখন বর্তমান দুনিয়ার ট্রেন্ড। তাই নিজেকে লুকানো এখন অনেক কঠিন। 

গোমাংস বিতর্কে জি বাংলার ফ্লপ শিল্পী সুদীপা চ্যাটার্জী মনে করেছিলেন তিনি দর্শকদের উদ্দেশে যা বলবেন তা অকপটে মেনে নিবেন লোকজন। বরং দেখা গেল তিনি এক গুচ্ছ মিথ্যা কি সুন্দর অভিনয় করে বলছেন।  সেটা প্রমাণ করে দিল তারই ভক্তরা। যারা তাকে ফলো করত। 

এবারের ঈদে সুদীপা এসেছিলেন বাংলাদেশে। বিভিন্ন উৎসবে ও জাতীয় দিবসে প্রতিবেশী দেশ থেকে অনেকেই বাংলাদেশ ঘুরতে আসেন। আওয়ামী লীগ আমলে এটা চরম আকার ধারণ করে। তেমনি এবারের কোরবানির ঈদে ওপার বাংলা থেকে বেড়াতে এসেছেন সুদীপা চ্যাটার্জি। 

পদবীতে ব্রাহ্মণ এই নারী মাছরাঙ্গা টিভিতে রান্নার এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি গরুর মাংসের রান্নার রেসিপি শেয়ার করেন। সেটা করতে যেয়ে তার সহকর্মী তারিন জাহান তাকে গরুর মাংসের কোপ্তা খাওয়ার প্রস্তাব করেন। তিনি সেটা সাদরে গ্রহণ করেন। 

অনুষ্ঠান শেষে সুদীপা দেশে ফিরলে তাকে নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। তাকে ও তার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এমন খবর প্রচার মাধ্যমে এসেছে। এরপর তিনি ক্ষমা চেয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়েন। সেখানে তিনি বিভিন্নভাবে সাফাই দেন। তিনি সেদিন গরু খাননি। তিরি গরুর মাংস ছুঁয়ে দেখেননি। জীবনে কোনো দিন গরুর মাংস খাননি ইত্যাদি ইত্যাদি। 

সুদীপার এই ভিডিও ছাড়ার পর পরই তার ভক্তকুলের কোনো একজন ২০১৬ সালে ফেসবুকের এক পোস্ট শেয়ার করেছেন। যেখানে তিনি গরুর  মাংস খেয়েছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন। এতে তার পুরো ভণ্ডামি ধরা পড়ে যায়। তিনি লোকজনের কাছে আরও ভাইরাল হোন। 


এবারের কোরবানি ঈদে বাংলাদেশে অনেক ভাইরাল ঘটনা ঘটেছে। কোনটা রেখে কোনটা আলোচনা করব। সুদীপার আগে বাংলাদেশে রবিন সাহা নামে এক ব্যবসায়ীর ঘটনা ভাইরাল আকারে ফাঁস হয়। যেখানে এই সনাতনীকে বলতে শোনা যায় তিনি প্রতিবছর তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের গরু কিনে দেন কোরবানির জন্য। মুসলিমদের উৎসবে শরীক হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। এই বলে তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, ভারত থেকে তার চেনা পরিচিতরা নাকি বাংলাদেশে এসে গরুর মাংসের দোকান খুঁজতে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গের ৭০-৭৫ পারসেন্ট হিন্দু নাকি গরু খান। এরপর এই লোকের বিরুদ্ধে যখন মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় তখন তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে আরেকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন। যেখানে তিনি তার বক্তব্যের জন্য সনাতনী ভাইবোনদের কাছে ক্ষমা চান। 

পর পর ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে গরু নিয়ে গেম খেলতে চাচ্ছে কোনো বিশেষ মহল। তাদের উদ্দেশ্যটা জানতে ইচ্ছে করে। তারা কি চান? এসব দেখিয়ে তারা সনাতনী হিন্দু সমাজ কে কি ম্যাসেজ দিতে চাচ্ছেন? মূলধারা একটি টিভি মিডিয়ায় এমন বিতর্কিত বিষয় কিভাবে প্রচার পায়? 

বাংলাদেশের প্রচার মাধ্যম কি এদেশের হিন্দুদের গরু খাওয়ানোর এজেন্ডা হাতে নিয়েছে? তারা কি বলতে চাচ্ছে বাংলাদেশের হিন্দুরা গরু কিনে কোরবানি দেয়, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা অনেকে গরু খায়। এখন থেকে বাংলাদেশের হিন্দুরা নিশ্চিন্তে গরু খেতে পারেন। আমার কাছে পর্দার পিছনের খেলাটা এমন মনে হচ্ছে। তা না হলে বাংলাদেশের রবিন সাহা ও পশ্চিমবঙ্গের সুদীপা চ্যাটার্জিকে দিয়ে এসব ঘটনা কেন পর পর ঘটানো হবে?

 বাংলাদেশে প্রতি বছরই তো কোরবানির ঈদ হয়। কই এমন ঘটনা তো আগে কখনই ঘটেনি। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সনাতনী হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার এই কৌশল কি সেকুলারিজম ? একে অসাম্প্রদায়িকতা বলবেন কি আপনি? 

আমি মনে করি স্বামী বিবেকানন্দ সবার কাছে একজন অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি। তেমনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একজন অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি। এদের সেকুলারিজম নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলে না। নিজেদের সেকুলার বানাতে যেয়ে এদের কারও গরুর মাংস খেতে হয়নি। কবি নজরুল পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ছিলেন, সেখানে তিনি গরু কোরবানি দিয়েছেন এমন কোনো দলিল নেই। অথচ সেকুলারিজমের প্রশ্ন উঠলে নজরুলের কবিতা মুখে উঠে সবার আগে। 

কি দিন এলো হিন্দু বাঙালিদের। সুদীপাকে দিয়ে রান্না করিয়ে, কলকাতার সাবেক মেয়র বিকাশ বাবুদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে গরুর মাংস খাইয়ে ও বাংলাদেশে রবিন সাহাদের গরু কিনে দিয়ে প্রমাণ করতে হয় তারা সেকুলার। অথচ পশ্চিমবঙ্গের এমপি মোহাম্মদ সেলিম, রাজ্জাক মোল্লাদের শুয়োর কিনে কিংবা খেয়ে প্রমাণ দিতে হয় না তারা সেকুলার।  যত সেকুলারিজম দেখানোর ঠিকাদারি নিয়েছে সনাতনী হিন্দু বাঙালিরা। অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ এসবের ধার ধারে বলে মনে হয় না।  

আপনার চিন্তা চেতনা এবং অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই ক্লাস তৈরি করে দেয়।

ঢাকানিউজ২৪.কম / এসডি

আরো পড়ুন

banner image
banner image