• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৯ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ইউক্রেন সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৯ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৫০ এএম
ইউক্রেন সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি

ডেস্ক রিপোর্টার: কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ইউক্রেনের আরও অস্ত্র সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন । রবিবার কিয়েভ সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।

ট্রুডো জানান, ড্রোন ক্যামেরা, অস্ত্র ও গোলা বারুদসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম দেবে কানাডা। রাশিয়ার আরও ৪০ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে।  

এর আগে কিয়েভে পতাকা উড়িয়ে পুনরায় কানাডার দূতাবাস চালু করেন তিনি।  

এদিকে, মার্কিন ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনও রবিবার ইউক্রেন সফর করেন। ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডির সঙ্গে একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।  

অন্যদিকে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে স্কুলে বোমা হামলায় অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই দাবি করেছেন।  

এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন জি-সেভেন জোটের নেতারা। এই ব্যাপারে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।  

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এ অভিযানের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো।

শুধু তাই নয়, চলমান এ সংঘাতের মধ্যে একের পর এক পশ্চিমা নেতা কিয়েভ সফর করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ১০ম সপ্তাহে কিয়েভ সফর করছেন ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন রাজধানী কিয়েভ পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রুডো।

এক সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ আমি আরও সামরিক সহযোগিতার ঘোষণা করছি। ইউক্রেনকে আরও ড্রোন ক্যামেরা, স্যাটেলাইট ইমেজারি, ছোট্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনকে ইতোমধ্যে ১১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে কানাডা সরকার।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোয় কানাডা রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান ট্রুডো। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাত ও সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ ৪০ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনছি আমরা।’

এরপর রাজধানী কিয়েভের নিকটবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরপিন শহর পরিদর্শন করেন ট্রুডো। অভিযানের এক মাস পর গত মার্চে রুশ সেনা প্রত্যাহারের আগে শহরটিতে রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে তুমুল লড়াই হয়।

পরিদর্শনকালে ট্রুডোকে স্বাগত জানান ইরপিনের মেয়র অলেক্সান্ডার মার্কুশিন। এরপর এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমাদের শহরে রুশ দখলদাররা যে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ সাধন করেছে তা স্বচক্ষে দেখতে এসেছেন ট্রুডো।’

এদিকে পূর্ব-ইউক্রেন দোনবাসের দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার বাহিনীর মধ্যে সহিংস লড়াই অব্যাহত রয়েছে। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন একটি স্কুলে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৬০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুধু ওই স্কুলেই নয়, আরও বেশ কয়েকটি হামলা করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় সৈন্যরাও থেমে নেই। তারাও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। অভিযানের শুরুতে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে সামরিক তৎপরতা জোরদার করে। কিন্তু প্রায় এক মাসের চেষ্টা সত্ত্বেও কিয়েভ দখল করতে পারেনি রুশ বাহিনী।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা। পরে রাশিয়া জানায়, তারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসে অভিযানে মনোযোগ দেবে। এরপর থেকেই দোনবাসকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা চলছে।

ঘোষণা না দিয়েই রবিবার যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে গেলেন আমেরিকার ‘ফার্স্ট লেডি’ জিল বাইডেন। তিনি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত একটি শহর উঝহোরোদে সফর করেন। সেখানে তিনি একটি স্কুলে যান, যা বর্তমানে বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের অস্থায়ী আবাস।

জিল বাইডেন সেখানে দেখা করেন ইউক্রেনের ‘ফার্স্ট লেডি’ ওলেনা জেলেনস্কির সঙ্গে। ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যাঁকে আর দেখা যায়নি।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বেশ খানিক ক্ষণ দু’জনের মধ্যে কথা হয়। তবে কী বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি। জিল হলেন আমেরিকার প্রথম হাই প্রোফাইল মহিলা যিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে গেলেন।

তাঁর এই হঠাৎ সফরের কারণ হিসাবে আমেরিকার ‘ফার্স্ট লেডি’ বলেন, আমি মাতৃ দিবসে এসেছিলাম। ইউক্রেনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম।

জিল এবং ওলেনা দুজনে স্কুলের একটি বেঞ্চে বসে কথা বলেন। এই স্কুলটি বর্তমানে ৪৮ জন শিশু-সহ বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের অস্থায়ী আবাসস্থল।

জিল বলেন, আমরা মনে করি ইউক্রেনের মানুষকেও বোঝানো প্রয়োজন এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া দরকার। এই যুদ্ধ নৃশংস! আমেরিকা ইউক্রেনবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই জিলকে চিঠি লেখেন ওলেনা। যুদ্ধ চলাকালীনও একাধিক চিঠি লিখেছেন তিনি। সেই চিঠিতে সাড়া দিয়েই হঠাৎ ইউক্রেন সফরে জিল বাইডেন।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image