• ঢাকা
  • সোমবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৩ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ঘোড়া দিয়ে হালচাষ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০১:৪৮ পিএম
ঘোড়া দিয়ে হালচাষ
ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করা হচ্ছে

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আধুনিকতার ছোয়ায় সব কিছুতে পাল্টে গেছে, তেমনি একসময় মানুষের বাহন ছিল ঘোড়া। আবার কোন সময় পণ্য বা মালামাল টানতেও ব্যবহার করা হতো ঘোড়ার গাড়ি। যদিও কালের পরিক্রমায় এগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। কিন্তু ঘোড়া দিয়ে জমিতে হালচাষের দৃশ্য এখন বিরল! আধুনিকতার চরম উৎকর্ষের এই যুগে বাস্তবেই ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ধন্দোগাঁও গ্রামের কৃষক ভূষণ চন্দ্র। তাঁর এই হালচাষের কাজে সহযোগিতা করছেন স্ত্রী ভানু রাণী।

ভূষণ চন্দ্র বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করে আসছি। আমি একজন প্রান্তিক কৃষক। বর্তমান বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। এক জোড়া হালের গরু কিনতে গেলে খরচ পড়ে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই টাকা দিয়ে ছয় জোড়া ঘোড়া কেনা যায়। ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকাতেই এক জোড়া ঘোড়া কেনা যায়।’

কৃষক আরও বলেন, ‘আগে হালের গরু ছিল, এখন নেই। বাজারে গরুর দাম বেশি হওয়ায় কেনার সামর্থ্যও নেই। তাই নিজের চাষাবাদের প্রয়োজনে বাজার থেকে গরুর বদলে ২২ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ঘোড়া কিনেছি। শুধু নিজের জমিতে চাষাবাদ করছি না, অন্যের জমিতেও টাকার বিনিময়ে চাষ করে দিচ্ছি। এক বিঘা জমি চাষ দিতে নিচ্ছি ৫০০ টাকা। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই বিঘা জমিতে হালচাষ করা যায়।

ভূষণের স্ত্রী ভানু রাণী বলেন, প্রথম দিকে ঘোড়াগুলোকে হালের কসরত শেখাতে অনেক কষ্ট হয়েছে তাদের। ঘোড়ায় লাঙল-জোয়াল জুড়ে দিয়ে অনেকবার চেষ্টার পর আয়ত্তে আসে। এখন পুরোদমে ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করছেন তাঁরা।

ধন্দোগাঁও এলাকার কৃষক মনসুর আলী ও আব্দুল আজাদ বলেন, তাদের এলাকায় বড় কোনো গরু-মহিষ নাই। ভূষণের ঘোড়া দিয়েই তাদের জমিগুলোতে লাঙল দিতে হয়। এতে খরচও কম লাগে।

পার্শ্ববর্তী মাস্টারপাড়া এলাকার কৃষক হাসান আলী বলেন, ‘ঘোড়া দিয়ে লাঙল দিলে জমি গভীরভাবে খনন হয়। পাওয়ারটিলার বা মাহেন্দ্র গাড়ি দিয়ে হালচাষ করলে জমি সমান হয় না। তাই ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি সমান করছি। এতে পানি ধরে রাখা সহজ হয়।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, কৃষকেরা এখন যান্ত্রিক উপায়ে জমি চাষ করেন। ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করা অপ্রচলিত একটা বিষয়। সময়ের সঙ্গে ঘোড়ার যে ব্যবহার, তা উঠে গেছে। কৃষক ভূষণ চন্দ্র নিজের প্রয়োজনে বাড়তি আয়ের জন্য ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ বা মই দেন। তবে কৃষি বিভাগ সব সময় আধুনিক মানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে চাষাবাদ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ঢাকানিউজ২৪.কম / গৌতম চন্দ্র বর্মন/কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image