• ঢাকা
  • সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৮ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫ পুলিশ বরখাস্ত


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০২:০০ পিএম
৫ পুলিশ বরখাস্ত
দুই জঙ্গি ছিনতাই

নিউজ ডেস্ক : ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকে দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আদালতে দায়িত্বরত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন অর রশীদ বিষয়টি জানিয়েছেন।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের হাজতখানার কোর্ট ইন্সপেক্টর মতিউর রহমান, হাজতখানার ইনর্চাজ (এসআই) নাহিদুর রহমান ভূঁইয়া, আসামিদের আদালতে নেয়ার দায়িত্বরত পুলিশের এটিএসআই মহিউদ্দিন, কনস্টেবল শরিফ হাসান ও আবদুস সাত্তার।

জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফীন দীপন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান এবং আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব রোববার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের চোখ-মুখে গ্যাস স্প্রে করে পালিয়ে যান। দুজনই আনসার আল ইসলামের সদস্য।

এ ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে সিটিটিসিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশকে স্প্রে করে আগে থেকে প্রস্তুত একটি মোটরসাইকেলে চড়ে দ্রুত পালিয়ে যান তারা। মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন আরেকজন।

ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বেলা পৌনে ৩টার দিকে সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান আদালত এলাকায় যান। এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমপির ডিবির প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ।

আদালত এলাকা পরিদর্শন শেষে হারুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়েছি। আমাদের ডিবির প্রতিটি টিম কাজ করছে। আশা করছি তাদের (পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি) দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারব।

‘জঙ্গিরা বিভিন্ন কৌশল নিয়ে কাজ করে। এবার তারা নতুন একটি কৌশল নিয়েছে। আমরা শুনেছি, আদালতের গেটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের চোখে স্প্রে করে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়েছে অপর জঙ্গিরা। চোখে স্প্রে করার কারণে দায়িত্বরতরা কিছু দেখতে পারেননি।’

ফটকের সামনে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়া হয়
জঙ্গিদের আদালতে আনার দিন নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. গোলাম ছারোয়ার খান জাকির।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মোহাম্মদপুর থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলার আজ শুনানি ছিল। সেই মামলার আসামি ২০ জন, এর মধ্যে ৬ জন পলাতক। ১২ জন জেলহাজতে ছিলেন ও দুজন জামিনে ছিলেন।

এই মামলার চারটি শুনানি হয়। এদিন ওই মামলার শুনানি শেষে বের হওয়ার পর মূল ফটকের সামনে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ছিনিয়ে নেয়া দুই জঙ্গিই দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। সাকিবুর অভিজিৎ হত্যা মামলারও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। মোহাম্মদপুর থানায় করা আরেকটি মামলায় শুনানির জন্য তাদের আদালতে আনা হয়েছিল।

আদালতের নিরাপত্তার ঘাটতি আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলতে পারবে। তবে অবশ্যই নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়া উচিত ছিল। তাদের কীভাবে নামিয়ে আনা হয়েছিল তা জানি না।

ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নিয়ন্ত্রণ করা হয় যান চলাচল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। সোয়াট টিম সদস্যরাও টহল দেন। ঘটনাস্থলে ছিল এপিসি ও সাঁজোয়া যানসহ বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image