নিজস্ব প্রতিবেদক: এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। এই চেতনএক ধারণ করে বাঙালির সাহিত্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে এবারের বই মেলায়।
বইমেলা আয়োজনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কেটে যাওয়ায় এবছর অতীতের চেয়েও আরও বেশি জনসমাগম ও সফল হওয়ার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। রাজনৈতিক চাপ না থাকায় বইমেলায় বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠান আলাদা সুবিধা পাবে না।
বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ এ বইমেলায় প্রকাশকদের স্টল বরাদ্দের অনলাইন আবেদন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বইমেলা আয়োজনের জন্য বাংলা একাডেমির পরিচালক ও কবি সরকার আমিনকে সদস্য সচিব করে ৩৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৮ জানুয়ারি কমিটি বৈঠকে স্টল বরাদ্ধসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্য জানা গেছে।
রোববার বাংলা একাডেমির পরিচালক ও বইমেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব সরকার আমিন বলেন, বইমেলা আমাদের সবার। এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের বইমেলা আমার প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি ভালো হবে। কারণ দীর্ঘ সময়ে পর মানুষের মাঝে মুক্তির একটি আকাঙ্খা তৈরি হয়েছে।
অতীতে ইসলামি বই বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ার বহু ঘটনা ঘটেছে। এ বছর এই বিষয়টি আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসলামি সাহিত্যের বই বিক্রিতে কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা না। আমাদের নীতিমালায় আমাদের সাহিত্য বই বিক্রিতে সমস্যা নেই।
তিনি আরও বলেন, আমরা মুক্ত সময়ের সুফল ভোগ করছি। এখন পর্যন্ত স্টল বরাদ্দ বা অন্য কোনো বিষয়ে অনৈতিক প্রস্তাব আমরা পাই নি৷ আমরা নীতিবিরোধী কোনো কাজ করবো না। রাজনৈতিক লেখা-লেখি সংক্রান্ত স্টল থাকবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির রাগ বা একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা নীতিমালার বাইরে কিছুই হবে না। সেই সুযোগ নেই। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে আমরা কমিটি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২৫ এর বইমেলার প্রতিপাদ্য বিষয়ে জানতে চাইলে এই কবি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। আমাদের প্রত্যাশা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দলে দলে বইমেলায় আসবেন। বইমেলাকে সফল করে তুলবেন। এবার বইমেলার কোনো অংশই অন্ধকার থাকবে না। বইমেলায় লাইটের আলোর মতো চেতনার আলো জ্বলবে।



