নিজস্ব প্রতিবেদক: এবার মব হুমকিতে বাতিল হলো ঢাকা মহানগর নাট্য পর্ষদ আয়োজিত ঢাকা মহানগর নাট্যোৎসব।শনিবার বিকেল মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে ১৪ দিনব্যাপী এই নাট্যোৎসব শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার একদল উত্তেজিত জনতার রমনা থানায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে এই উৎসব বন্ধ করার হুমকি প্রদান করে।
জানা যায়, ঐসময় থানায় উপস্থিত মহিলা সমিতির সমিতির সমন্বয়ক মো. ফারুক হোসেনকে হুমকিসহ গালাগাল দেয় মব সৃষ্টিকারী উত্তেজিত জনতা। পরবর্তীতে থানা থেকে মহিলা সমিতির সমন্বয়ক মো. ফারুক হোসেনকে হল বরাদ্দ বাতিলসহ উৎসব বন্ধ করতে বলা হয়। এছাড়া শুক্রবার রাতে কে বা কারা মহিলা সমিতির উৎবের সাজসজ্জার খুলে নিয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে মহানগর নাট্য পর্ষদের আহ্বায়ক ঠান্ডু রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, রমনা থানায় গিযে যারা মব সৃষ্টি করে উৎসব বাতিল করতে বলেছে তারা মূলত এদেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চায়। নাট্যচর্চাকে থামিয়ে দিতে চায়। এই উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মানুষের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮ জন। তারা থানায় আমার ও সময় নাট্যদলের প্রধান আকতারুজ্জামানের নাম ধরে খোঁজাখুঁজি করলেও আমরা তাদের সামনেই ছিলাম। অর্থাৎ তারা আমাদের নাম শুনলেও চেনে না। এতেই বোঝা যায়, কেউ এই মানুষগুলোকে দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে নাট্যচর্চার ওপর আঘাত হানতে চাইছে।
সার্বিক বিষয় তুলে ধরে শনিবার মহানগর নাট্য পর্ষদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়া হয়। নাট্য পর্ষদের আহ্বায়ক ঠান্ডু রায়হান স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের থিয়েটার আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কথা ছিল শত দর্শক ও নাট্যকর্মীরা আজ যৌথ ভাবে ১৪ দিনব্যাপী (ফেব্রুয়ারি ১৫-২৮) ঢাকা মহানগর নাট্যোৎসব ২০২৫ উদ্বোধন করবেন। সে উপলক্ষে, গত দুই মাস ঢাকার ৮৫ টি নাট্যদলের কর্মীরা অক্লান্ত পরিপ্রম করে, গনঅর্থায়নে যখন উৎসবের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছেন ঠিক তখন আমাদের জানানো হলো উৎসব বন্ধ করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দুপুর একটার সময় বাংলাদেশ মহিলা সমিতির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাদের জানান যে, রমনা থানা থেকে ফোনে নাট্যোৎসব বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আমরা উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোহাযোগ করি। সন্ধ্যায় আমরা ওসি সাহেবের সাথে আমরা তার অফিসে সাক্ষাত করি এবং উৎসবের বিস্তারিত তথ্য তাকে অবহিত করি। যদিও এ ধরণের আয়োজনের জন্য পুলিশ বা সরকারের কোন অনুমতির নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। আলোচনার পর ওসি সাহেব আমাদের আস্বস্থ করেন এবং আমরা নিরাপত্তা সহযোগিতা চেয়ে একটি আবেদন পত্র জমা দিয়ে চলে আসি। কিন্তু এর কিছুক্ষন পরে একটি মব থানার মধ্যে ঢুকে, এক রকম হুমকির স্বরে গালাগাল সহ মহিলা সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উৎসব বন্ধ করার জন্য চাপ দেয়। এমন পরিস্থিতিতে মহিলা সমিতির কতৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তার কথা ভেবে রাতেই মৌখিক বে আমাদের হল বরাদ্দ বাতিল করে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে কে বা কারা অন্ধকারে মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তন থেকে উৎসবের সকল সাজসজ্জা খুলে নিয়ে যায়। এরপর ও নাটকের স্বার্থে আমরা ওসি মহোদয়ের সাথে আলোচনা করি।
বিগত দিনে দেশ নাটক এর নিত্যপুরাণ নাটকটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শো এর মাঝ পথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং এর প্রতিবাদে নাট্যকর্মীরা যখন সমাবেশ করছিল তখন প্রদ্ধেয় নাট্যজন মামুনুর রশীদসহ উপস্থিত নাট্যকর্মীদের উপর যারা হামলা করেছিল আজকের ঘটনা তারই পুনরাবৃতি বলে আমরা মনে করি।
এই অনাকাংখিত পরিস্থিতিেিত, সকলের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমাদের অক্লান্ত পরিপ্রমে ও ভালোবাসায় আয়োজন করা প্রাণের নাট্যোৎসব আপাতত স্থগিত ঘোষনা করতে বাধ্য হচ্ছি।
প্রিয় নাট্যকর্মী ও দর্শকবৃন্দ, নাট্যশিল্পী আমাদের পরিচয় হলেও আমরা রাজনৈতিক সচেতন মানুষ। কিন্তু আমরা যখন থিয়েটারে আসি তখন আমাদের পরিচয় আমরা শিল্পী। দল মতের উর্দ্ধে উঠে আমরা মানুষের কথা বলি আমাদের নাটকের মাধ্যমে। আজকের এই অনাকাংখিত পরিস্থিতির জন্যে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা আশাবাদী, ঈদের ছুটির পর আবার ও আমরা আসবো নাটক নিয়ে আপনাদের সামনে। অপনারা আমাদের সাথে ছিলেন, আছেন ভবিষ্যতেও থাকবেন। কারণ দর্শকই আমাদের স্বজন, দর্শকই আমাদের প্রেরণা। ভালো থাকবেন। দেখা হবে থিয়েটারে।



