ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeতথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানউপকূলীয় অঞ্চলের নোনাযুক্ত পানিতে অচলাবস্থা : সংকট নিরসনে সৌরশক্তি

উপকূলীয় অঞ্চলের নোনাযুক্ত পানিতে অচলাবস্থা : সংকট নিরসনে সৌরশক্তি

ঢাকানিউজ২৪টিউব ডেস্ক : বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পানিশূন্যতা আর খাবার-জীবিকার সংকট চলছে। শুধুমাত্র প্রবল নোনা পানির কারণে পুকুর, কূপ-তলের পানি পানের অযোগ্য হয়ে পড়ে; বৃষ্টি মৌসুমে বর্ষার পানি সঞ্চয় করলেও শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ত পানি নিতেই হয় শতকষ্টের পর। এমন পরিস্থিতিতে সৌরশক্তিতে চালিত রিভার্স অসমোসিস (RO) প্রযুক্তির ছোট-বড় ডেসালিনেশন প্ল্যান্টগুলো যেন এক আল্লাহর রহমত হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বরফ গলনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে; ১৯৯৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠ উচ্চতা প্রতি বছর গড়ে ২.১ মিমি থেকে ৪.৫ মিমি-তে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলাগুলোতে মিষ্টি পানি নিঃসৃত উৎসগুলো স্যালিনাইজেশনের ফলে দূষিত হচ্ছে; এখানে ২৫ লক্ষাধিক মানুষ ইতিমধ্যে পানির তীব্র সংকটে ভুগছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। সাগরের লবণাক্ত পানি অনবরত তীব্র ভরসা তৈরি করায় গ্রামগুলোতে নিরাপদ সুপেয় পানির প্রবেশ প্রায় বন্ধের পথে।

এই সংকটের সমাধান স্বরূপ চলতি বছরে সাতক্ষীরা জেলায় তিনটি সৌরচালিত ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। প্রতিটি প্ল্যান্ট ঘণ্টায় এক হাজার লিটার মিষ্টি পানি উৎপাদন করতে সক্ষম, যা ৩০০ পরিবারের পানিয় চাহিদা পূরণ করছে।

প্রথমে পুকুর, নদী ও কূপের মিশ্রিত পানি ৫,০০০ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ফ্লকুলেশন ট্যাঙ্কে প্রবাহিত হয়; কণা, কাদামাটি ও আয়রণ অংশ বের করে ফেলতে বিশেষ ফিল্টারিং সিস্টেম কাজে নেয়। এরপর উচ্চচাপযুক্ত পাম্পের মাধ্যমে পানি RO মেমব্রেনের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়, যা লবণ, ভারী ধাতু ও অজৈব দূষক আটকে রেখে সতেজ মিষ্টি পানি ছেঁকে দেয়। সন্ধ্যা বা মেঘলা দিনে ব্যাটারি ও গ্রিডবিদ্যুৎ মিলিতভাবে সৌরশক্তিকে রক্ষণাবেক্ষণ করে।

এখন নিলদুমুর গ্রামের হালিমা খাতুন বাড়ির পাশের ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে পানি সংগ্রহ করেন। ছবি: সংগৃহিত

স্থানীয়রা ইতিমধ্যেই এর সুফল পাচ্ছে—নিলদুমুর গ্রামের হালিমা খাতুন পূর্বে তিন মাইল হেঁটে কখনো-বা নৌকায় লম্বা সারি পথে পানি সংগ্রহ করত; এখন বাড়ির কাছেই নিরাপদ পানি চলে এসেছে।

ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রকোপ লাঘব হয়েছে। তবে বর্জ্য পানির জন্য পর্যালোচনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান—এসবেই আছে চ্যালেঞ্জ।

আগামী দিনে বর্জ্য পানিতে নুন উৎপাদন ও পরিবেশগত প্রভাবের ওপর UNDP–এর চলমান গবেষণাই আরও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করবে।

উপকূলের এই ক্ষীণ আলো বাংলাদেশে নোনাযুক্ত পানির সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তি-ভিত্তিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। সাশ্রয়ী খরচ, সৌরশক্তির নিরবিচ্ছিন্নতা ও স্থানীয়দের সজাগ অংশগ্রহণ মিলে এ উদ্যোগ উপকূলকে ভবিষ্যতের জল-সংকটের হাত থেকে রক্ষা করবে বলে প্রত্যাশা।        সূত্র : ডায়ালগ আর্থ

ঢাকানিউজ২৪/মহফ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular