ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকসির ‘গোপন’ চিঠিই বদলে দিয়েছে ভারত-চীন সম্পর্ক

সির ‘গোপন’ চিঠিই বদলে দিয়েছে ভারত-চীন সম্পর্ক

নিউজ ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছরের শুরুতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বৃদ্ধি করেছেন। এরপরই চীন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা শুরু করে বলে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চিঠির আসল উদ্দেশ্য ছিল চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তুলতে ভারত আগ্রহী কি না, তা বোঝা। চিঠিটি রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কাছে পাঠানো হলেও তা দ্রুতই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পৌঁছে যায়।

সি চিন পিং ওই চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কোনো চুক্তি হলে তা চীনের স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে। এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নিতে চীন এক প্রাদেশিক পর্যায়ের কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবে।

এরপর গত জুনে মোদির সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। তখন ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চলছিল। একই সময়ে ট্রাম্প দাবি করেন, কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত বন্ধে তিনিই ভূমিকা রেখেছেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বিরক্ত হয়ে ভারত ও চীন সিদ্ধান্ত নেয়, ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাত ভুলে আলোচনার গতি বাড়াবে এবং পুরোনো সীমান্তবিরোধ মেটাতে নতুন করে কথাবার্তা শুরু করবে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, এরপরই দুই দেশের সম্পর্কে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারত-চীনের সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু হচ্ছে। ভারতে ইউরিয়া রপ্তানির ক্ষেত্রে চীন ছাড় দিয়েছে। আর ভারত চীনা নাগরিকদের জন্য আবার পর্যটন ভিসা চালু করেছে, যা কয়েক বছর ধরে বন্ধ ছিল।

এতে বলা হয়, এ সম্পর্কের নতুন সূচনা হয়েছিল ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণেই। তিনি আসলে চীনকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন, পরে ভারতকেও চাপ দেন। গত মার্চে ট্রাম্প চীনা পণ্যে দ্বিগুণ শুল্ক বসানোর পর চীন ভারতের প্রতি আহ্বান জানায় ‘আধিপত্যবাদ ও ভয়ভীতির রাজনীতির’ বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়াতে।

সি চিন পিং তখন বলেন, হাতি (ভারত) আর ড্রাগন (চীন) একসঙ্গে নাচবে—এটাই একমাত্র সঠিক পথ।

গত জুলাইয়ে চীনা কর্মকর্তারাও এই রূপক শব্দ ব্যবহার করতে থাকেন। চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই দুই এশীয় পরাশক্তির একসঙ্গে ‘ব্যালে নৃত্য’ করা উচিত।

শিগগিরই সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি চীনে যাচ্ছেন। সাত বছর পর এটাই তাঁর প্রথম চীন সফর। শেষবার তিনি সি চিন পিংয়ের সঙ্গে একই মঞ্চে ছিলেন গত বছরের রাশিয়ার কাজান শহরে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে।

চায়না-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের সম্পাদক এরিক ওল্যান্ডার বলেন, সি এ সম্মেলনের মাধ্যমে দেখাতে চাইবেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নতুন বিশ্বব্যবস্থা কেমন হতে পারে। ব্রিকস যে ট্রাম্পকে চিন্তায় ফেলেছে, সেটিই দেখানো আসলে এই জোটের লক্ষ্য।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular