ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ করতে সংশোধিত আইনে কঠোর বিধান রাখা হচ্ছে

জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ করতে সংশোধিত আইনে কঠোর বিধান রাখা হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: ২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সাথে জাপান পার্লামেন্টের ৯ জন সংসদ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শ্রম আইন ২০০৬ সংশোধন, শ্রম খাতের সংস্কার, শ্রমিকদের গ্রাচুয়েটি, শ্রমিকদের অধিকার, জাহাজ ভাঙা শিল্পের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা, আসন্ন আইএমও নির্বাচনে সি ক্যাগরিকে বাংলাদেশের প্রতি জাপানের সমর্থন কামনা এবং বাংলাদেশে জাপান সরকারের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জাপান পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের এ সাক্ষাতে উপদেষ্টা বলেন, পূর্বের আইনে (শ্রম আইন, ২০০৬) শ্রমিকদের নিরাপত্তা , স্বাস্থ্য এবং ন্যায্য মজুরি বিষয়ে স্পষ্ট ও কার্যকর ধারা উপধারার অভাব রয়েছে। ইতোমধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্দ্যোগে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের অন্যান্য অংশীদারদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদে শ্রমিকদের সকল ন্যায্য দাবী অন্তর্ভুক্ত করে এবং শ্রম আইনের সকল অসংগতি দূর করে আন্তর্জাতিক মানের শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধন করা হচ্ছে। জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ করতে সংশোধিত আইনে কঠোর বিধান রাখা হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের হয়রানি বিষয়ে শ্রম আইনে শাস্তির বিধান চালু করা হবে।

শ্রম উপদেষ্টা আরও বলেন, ইতোমধ্যে ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ৪৫টি মামলার মধ্যে অধিকাংশই গত কয়েক মাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং কিছু মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে। রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটণায় অ্যাকর্ড ও এলায়েন্স খুব সুন্দর কাজ করেছে। শুধু রেডিমেড গার্মেন্টসই না শিপ ব্রেকিং ও শিপ বিল্ডিং এর শ্রমিকদের শ্রম আইনের আওতায় সকল ন্যায্য দাবি পূরণ করা হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত বলেন, শ্রম আইন সংশোধনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার পরামর্শ, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও ইউরোপীয় অ্যাকশন প্ল্যান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। শিশুশ্রম বন্ধে ILO কনভেনশন ১৩৮ ও ১৮২ অনুস্বাক্ষর করা হয়েছে। পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইএলও কনভেনশন C155, C187 এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে C190 অনুস্বাক্ষরের প্রক্রিয়া এ মাসেই শেষ হবে। অনুস্বাক্ষর হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে আইএলও এর ১০টি ফান্ডামেন্টাল কনভেনশন অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হবে। জাপান পার্লামেন্টের সংসদ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসায় উপদেষ্টা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সাক্ষাৎকালে জাপানের সাংসদবৃন্দ বাংলাদেশের শ্রমখাতের উন্নয়নে জাপানের পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন। সেই সাথে বাংলাদেশের শ্রম আইন সংশোধন জবরদস্তিমূলক শ্রম বন্ধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের শ্রমখাতের সংস্কার ও উন্নয়নে জাপান সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই মি. সাইদা শিনিচি, দূতাবাসের দুই সচিব এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা নিউজ/এস 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular