সুমন দত্ত: দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানিম্যাল হাজেবেন্ড্রি ডিগ্রি বিলুপ্ত করায় এবং চাকুরীর ক্ষেত্রে ভেটেরিনারি ও হাজবেন্ড্রি নিয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশন।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খা হলে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান ডন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ড. স্বপন কুমার ফৌজদার, ড. রুহুল আমিন, ড. আবুল হাসেম, ড. আবদুল মতিন, ড. সাইফুল ইসলাম খান, নুরু মিয়াসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা।
রফিকুল ইসলাম ডন বলেন, বিএসসি ভেটেরিনারি ও বিএসসি অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি বিষয়টি আলাদা। হঠাৎ করে এই দুটি বিষয় একত্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। যা মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আকতারের এক ভাষণে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি চাকুরীর ক্ষেত্রে নতুন কম্বাইন্ড বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানিয়েছেন। এতে যারা এ বিষয়গুলোতে পড়াশোনা করছেন ও করতে যাচ্ছেন তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
সরকারের এমন দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ বিষয়ের সঙ্গে শিক্ষকতা করেন যারা। তাদের মতে নতুন কম্বাইন্ড পদ্ধতিতে না বের হবে একজন ভালো পশু চিকিৎসক, না বের হবে একজন ভালো পশু পালক।
অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি থেকে পাশ করা গ্রাজুয়েটরা দেশের পশু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের কারণে যে মুরগী বছরে আগে যেখানে ১০০ ডিম দিত এখন সেই মুরগী ২০০ থেকে ৩০০ ডিম দেয়। হাস মুরগী গরু ছাগলের উন্নত জাত ও সংখ্যায় দেশ স্বয়ং সম্পূর্ণতা পেয়েছে। তার পেছনে অবদান রয়েছে অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি থেকে পাশ করা গ্রাজুয়েটদের।
অন্যদিকে ভেটেরিনারি থেকে পাশ করা একজন গ্রাজুয়েট গৃহপালিত পশুর চিকিৎসা ছাড়া অন্য বিষয়ে তেমন কোনো দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। তারা অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রির কিছু বিষয় পড়লেও মূলত তাদের কাজ পশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত। দুটো বিষয় এক করলে সময় বেশি লাগবে। অত সময় নিয়ে কেউ এসব বিষয়ে পড়তে চাইবে না। এজন্য সরকারের কাছে দাবি দুটো বিষয়কে আলাদা রাখাই সঠিক পন্থা। অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রিকে বিলুপ্ত করে কম্বাইন্ড কোর্স চালু করা হবে সরকার ও দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
তারা আরো বলেন, পৃথিবীর ৭০টির বেশি দেশে অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি ও ভেটেরিনারি সাইন্স ডিগ্রি চালু আছে। অন্যদিকে মাত্র ১০টি দেশে চালু আছে কম্বাইন্ড কোর্স। সেই দেশগুলি হলো উগান্ডা, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, সাউথ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ইন্ডিয়া,পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।
বক্তারা আরো বলেন, অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রির গুরুত্ব দেশের সর্বোচ্চ আদালত বুঝতে পারলেও প্রশাসনের লোকজন বুঝতে অক্ষম। যে কারণে এ বিষয়টি বাদ দিতে প্রাণী সম্পদ উপদেষ্টা বক্তৃতা ও বিবৃতি দিতে শুরু করেছেন। এটা সম্পূর্ণ রূপে আদালত অবমাননার সামিল। সরকার যদি অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি বিলুপ্ত করে কম্বাইন্ড কোর্স চালু করে তবে আদালতে গিয়ে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে সংগঠন। পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে বলে মত দেন বক্তারা।



