মিরপুর মিল্লাত ক্যাম্প:রাজধানীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর ১১ নম্বর মিল্লাত ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় ২৪ ঘণ্টাই মাদক কেনাবেচা চলছে। মাদক কারবারিরা এতটাই প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি, মারধর এমনকি হত্যার শিকার হতে হয়।
প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও তাদের কার্যক্রম
এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, মিল্লাত ক্যাম্পের মাদক সিন্ডিকেটটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। এই সিন্ডিকেটে একই পরিবারের একাধিক সদস্য জড়িত। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ারী, সাব্বো (ফারজানা), শাহানা, শারমিন ও সালোনি। এদের সঙ্গে যুক্ত আরও অনেকেই দিন-রাত প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—সব শ্রেণির মানুষই এই এলাকা থেকে মাদক কিনতে আসে। এই অবৈধ ব্যবসার কারণে পুরো এলাকার পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায় না, কারণ মাদক কারবারিরা প্রতিবাদকারীদের জীবননাশের হুমকি দেয়।
পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ
এলাকাবাসীর গুরুতর অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জড়িত। সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের মাদক ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

এমনকি, পূর্বে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক আসামি মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই ব্যবসায় ফিরে আসে। এতে করে তাদের অপকর্ম আরও বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিককালে, এই মাদক ব্যবসা কেন্দ্র করে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি ও হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জুম্মন নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে সুরক্ষা দিতে পল্লবী থানা ছাত্রদলের সভাপতি মাউরা সোহেল নিয়মিত লাখ টাকা চাঁদা নেন। এই মাদক কারবারির কার্যক্রমে কেউ বাধা দিলে সোহেল তাতে হস্তক্ষেপ করেন এবং প্রয়োজনে মারধর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন।
জনজীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি, পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই মাদক সিন্ডিকেট এখনই বন্ধ করা না গেলে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় জনগণ এই অরাজকতা থেকে মুক্তি চায় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করার জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।



