নিউজ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক কর্মী ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৫০ জাহাজে ≈৫০০ সদস্যের ফ্লোটিলা নৌপথে — নৌযান ঘিরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ।

১ অক্টোবর ২০২৫ — ‘Global Sumud Flotilla’ নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক মানবিক জাহাজদল গাজার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ইসলামি-ইসরায়েল সংঘর্ষের মাঝামাঝি অংশে ইসরায়েলি নৌবাহিনী তাদেরকে ঘিরে আটক ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছে, এমন অভিযোগ করেছে নৌযানে থাকা কার্যকরি কর্মীরা।
একই দিনে গাজায় তিন শতক পর্যন্ত হামলার মধ্যে কমপক্ষে ৬৫ জন নিহত হয়েছে বলে আল জাজিরা লাইভ ব্লগে জানা যায়।
ফ্লোটিলায় রয়েছে প্রখ্যাত কর্মী ও ব্যক্তিত্ব — গ্রেটা থুনবার্গ-সহ মণ্ডলা ম্যান্ডেলা ও কিছু ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা; মোট প্রায় ৫০টি জাহাজ ও প্রায় ৫০০ জন।
কর্মীরা বলছেন: গভীর রাতে কয়েকটি অচেনা নৌযান তাদের ঘেরাও করে যোগাযোগ জ্যাম করেছে ও লাইভ ক্যামেরার ফিড বন্ধ করে দিয়েছিল; কিছু জাহাজকে ঘোরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা ফ্লোটিলাকে নিষিদ্ধ “সক্রিয় যুদ্ধজোন” -এ যেতে দেখেছে এবং ত্রাণ অন্য মাধ্যমে গাজার কাছে পাঠানোর প্রস্তাব রেখেছে; আইনগতভাবে বরাবরই সশস্ত্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নৌজাহাজ গ্রেপ্তার/তদন্তের ব্যাখ্যা আসে।
ফ্লোটিলার আয়োজকরা জানান, জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে বার্সেলোনা প্রস্থান করে গাজার দিকে আসছিল এবং শনিবার (১ অক্টোবর) রাতে তারা এ এলাকায় ঢোকার পর ইসরায়েলি নৌযান থেকে হোস্টাইল যোগাযোগ ও হুমকির মুখোমুখি হয় — সৌজন্যে কিছু জাহাজের লাইভ ফিড এবং কর্মীদের রেডিও সংযোগ অল্প সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয়। কিছু কর্মী ক্যামেরায় দেখা যায় যে নৌযানগুলো তাদের চারপাশে চক্কর দিচ্ছে এবং “আতঙ্ক সৃষ্টি” করার উদ্দেশ্যে আচরণ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (X-এ দেয়া টুইট বার্তায়) বলেছে, ফ্লোটিলা যে এলাকায় যাচ্ছিল সেটি “সক্রিয় যুদ্ধজোন” এবং তাদের নিরাপত্তার চিন্তা করে সমুদ্রপথে সরাসরি পৌঁছানো নয়, বরং উপকূলে নোঙর করে সেখান থেকে নিরাপদ চ্যানেল দিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একইসাথে বলেছে, কোনো সন্দেহভাজন সেটি হামাসের সাথে সংযুক্ত কিনা তা যাচাই করার অধিকার তাদের আছে।
আয়োজকরা দাবি করেছেন যে তারা সশস্ত্র নয় এবং কেবল ক্ষুধা ও চিকিৎসাসামগ্রী বহন করছে; তাদের কথায়, গাজার জনসাধারণকে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নীতির অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, সমুদ্রসীমা (UNCLOS) অনুযায়ী সাধারণত একটি রাষ্ট্রের নৌ-সীমানা ১২ নটিক্যাল মাইল, তবে সশস্ত্র সংঘাতে অবরোধ প্রয়োগ এবং “যুদ্ধজোন” যুক্ত জায়গায় ভিন্ন ব্যাখ্যা থাকতে পারে — ফলে জাহাজ দখলের অধিকার বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে।
স্পেন সরকারের শীর্ষজন ফ্লোটিলার মানবিক উদ্যোগকে সমর্থন করে বলেছেন এটি “মানবিক উদ্যোগ” এবং অংশগ্রহণকারীদের কূটনৈতিক সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলেছেন; অন্যদিকে ইতালি বেশি সমালোচকের রূপ নিয়েছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে শক্তি প্রয়োগ এড়িয়ে কূটনৈতিক ও মানবিক পথ অবলম্বন করতে — ফ্লোটিলা ও জাহাজে থাকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত বলে তারা বলছে।

ফ্লোটিলার আয়োজকরা বলছে, ৫০ জাহাজ, ৫০০ জন, বার্সেলোনা থেকে বেরিয়ে আজই গাজার উপকূলে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল।
ইসরায়েল, জাহাজের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় তারা নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবস্থা নিয়েছে; ত্রাণ স্থানান্তরের বিকল্প চ্যানেল ইতিমধ্যেই প্রস্তাব করেছে।
ঢাকানিউজ২৪২৪/মহফ



