বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ -এক এক করে ফুরিয়ে গেছে দুর্গাপূজার উৎসবের দিনগুলো। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ছিল শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী। পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের শেষ দিন। গভীর আবেগ, শ্রদ্ধা, দুঃখ ও ভালোবাসায় দুর্গা মাকে বিদায় ও বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় এই উৎসব।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে কিশোরগঞ্জের মণ্ডপে মণ্ডপে বিজয়া দশমীতে দেবীর বন্দনায় ভক্তকুলে ছিল ভিন্ন এক আবহ। ঢাকঢোল, কাঁসর-ঘণ্টাসহ বিভিন্ন বাদ্য, ধূপ আরতি ও দেবীর পূজা-অর্চনায় ছিল প্রাণখোলা উচ্ছ্বাস। পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল বিদায়ের করুণ সুর। ছিল এক সুন্দর পৃথিবীর প্রার্থনা। যেখানে মানুষে-মানুষে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। এরপর পর কিশোরগঞ্জে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ইন্দ্রজিত দাস বলেন, ‘পুরো কিশোরগঞ্জে ৩৮৬টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আর কিশোরগঞ্জ পৌরনসভায় ৩৮ টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় দুর্গাপূজা। কিশোরগঞ্জে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তি ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পূর্ণ হয়েছে।”
জেলার মিঠামইন উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, “মা দুর্গার আগমনে আমরা যেমন আনন্দে মেতেছিলাম, তেমনি বিদায়ে বেদনা ছুঁয়ে যায়। তবে আগামী বছর আবারও নতুন করে মা আসবেন— এই আশাতেই আমরা উদ্দীপ্ত।”
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মিঠামইন সদরের গোড়াউত্রা নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। হিন্দু পুরাণ মতে, এ তিথিতে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করেছিলেন দশরথ পুত্র শ্রীরামচন্দ্র। এ ছাড়া ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন রামচন্দ্র। তাই মহানবমীতে ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে পূজিত হয়েছেন দেবী দুর্গা। মহানবমীর দিনে দেবী দুর্গাকে প্রাণভরে দেখে নেওয়ার সময়।
দুর্গাপূজার অন্তিম দিন বলা যায় মহানবমীর দিনটিকে। বৃহস্পতিবার কেবল বিজয়া ও বিসর্জনের পর্ব ছিল।



