নিউজ ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা একটি নির্দিষ্ট দলের সুবিধার্থে ষড়যন্ত্র করছে; তাদের নাম ও কণ্ঠের রেকর্ড আছে বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ের এক মানববন্ধনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
তাহের বলেন, “একটি দলের লোকদের গুরুত্বপূর্ণ সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনে বসিয়ে নীলনকশার নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র চলছে। কোন কোন উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত—আমাদের কাছে তাদের নাম ও কণ্ঠ রেকর্ড আছে। মিটিংয়ে তারা কী কথা বলেছেন, সেগুলোরও আমরা খবর রাখি।”
তিনি আরও বলেন, “এখনই তা জনগণের কাছে প্রকাশ করছি না; সংশোধনের জন্য সময় দিচ্ছি। সময়মতো সাবধান না হলে জনসমক্ষে নাম প্রকাশ করা হবে।”
জামায়াত নেতার প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি প্রশাসনের উপর সতর্কতা আরোপ করে বলেন, প্রশাসনের ভেতরে চলমান ষড়যন্ত্র থামাতে হলে নিরপেক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে হবে।
তিনি বলেন, “এটি করতে না পারলে জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। যেসব উপদেষ্টা একটি দলকে বিশেষ সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাদের প্রত্যাহার করুন।”
মানববন্ধন ও পথবর্তী কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে তাহের পঞ্চদফা দাবি তুলে ধরেন—তার মধ্যে রয়েছে পিআর পদ্ধতিতে জুলাই জাতীয় সনদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে গণভোট করা, নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার।
জামায়াতের কর্মসূচি যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী পর্যন্ত সড়ক পথে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পালিত হয়; মৎস্য ভবন মোড়েই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
তাহের সরকারকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে যোগ করেছেন, “আজকে হুঁশিয়ারি দিতে চাই না; দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রশাসনের যে অবস্থা এবং যে ষড়যন্ত্র চলছে, এটাকে বন্ধ করুন। নিরপেক্ষ সৎ লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করুন।”
তিনি বললেন, জামায়াত নিরপেক্ষ আর ন্যায়পরায়ণ বিচার চায়—“যেন কোনো বেআইনি বিচারে জনগণের আস্থা নষ্ট না হয়।”
সরকারি কিংবা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো দফতর থেকে এই অভিযোগ সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জামায়াত নেতারা সন্দেহজনক উপদেষ্টাদের নাম ও রেকর্ড জনসম্মুখে প্রকাশের হুমকি দিয়েছেন—তবে তারা বলেন, প্রথমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া দলীয় নেতারা নির্বাচন শুদ্ধি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পিআর ভিত্তিক জাতীয় সনদের মাধ্যমে গণভোট আয়োজনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাহের জানিয়েছিলেন, জামায়াত “দখলবাজি করে না, চাঁদাবাজি করে না—জামায়াত জনগণের জন্য রাজনীতি করে” এবং ক্ষমতায় গেলে কৃষকের ঋণের মতো দাবিগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



