নিউজ ডেস্ক : পনেরো বছর ধরে একই লাল লন্ডন বাস চালিয়ে আসা এক ড্রাইভার সম্প্রতি তার শেষ যাত্রা পালন করেছেন—কিন্তু তার জীবনের যাত্রা এখানে থামে নি। সকালে মাইক্রোফোনে মৃদু কণ্ঠে ঘোষণার পর বাসটি নীরব হয়ে গেলে যাত্রীরা উষ্ণ ও উচ্ছ্বসিত করতালি দেন; এটি ছিল তার “শেষ দিন” হিসেবে চালনার সমাপ্তি, কিন্তু শুরুর এক নতুন অধ্যায়ও ছিল।
এই ড্রাইভার—যার পেশা শুরুতে কেবল সৎ ও স্থির ছিল—শুরুতে কোনো GCSE পরীক্ষায় সাফল্য পাননি, কেবল ইংরেজিতে লেভেল ১ পাশ করেন। কিন্তু ভেতরে ছিলেন আরও বড় চাওয়া: রাতে, প্রতিটি মুহূর্তে পড়াশোনা করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের ভবিষ্যত গড়ে তোলেন। ধাপে ধাপে সংগ্রহ করা সেই দক্ষতা ও জ্ঞানই তাকে ছয় বছর পর কেবল ড্রাইভার নয়, বরং গবেষণার পথে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি লন্ডন সাউথ ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করছেন এবং বাস ও গণপরিবহনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে গবেষণা করছেন—অর্থাৎ স্টিয়ারিং হ্যান্ডেলের পিছনে থাকা মানুষটিই এখন নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
উৎসবমুখর বিদায়ের মুহূর্তে তার পাঠানো বার্তা সহজ ও শক্তিশালী: “আপনি যেখান থেকেই শুরু করুন না কেন, বৃদ্ধি সম্ভব। শেখা চালিয়ে যান।” তার ব্যক্তিগত যাত্রা — ড্রাইভিং থেকে পণ্ডিত হওয়া, রুটিন থেকে পুনর্নবীকরণ — প্রমাণ করে যে অগ্রগতি সবসময় বড় আওয়াজ করে আসে না; অনেক সময় তা নীরবে, ধীরে ধীরে ঘটে এবং শহরের রাস্তায় চলতে চলতেই কোনো অসাধারণ গন্তব্যের দিকে পৌঁছে দেয়।
নাগরিক ও সহকর্মীরা তাকে বিদায় জানিয়ে দেখে যে এক জীবনের এক অধ্যায় শেষ হলেও এক পুরোনো রুটিন থেকেই নতুন শিক্ষার সূচনা সম্ভব। তার গল্পটি শ্রমজীবী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার চিহ্ন—যেখানে ধৈর্য্য, নিয়মিত অধ্যবসায় ও স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সময় ও প্রচেষ্টা দুটোই লাগে।
ঢাকানিউজ২৪/সাদী



