ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডশিক্ষক কর্মবিরতিতে স্থবির সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম

শিক্ষক কর্মবিরতিতে স্থবির সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম টানা তিন দিনের শিক্ষক কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মবিরতির তৃতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার। আগামী দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন ক্লাস-পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির থাকছে এ সাত কলেজে। আগামী রোববার থেকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণার শঙ্কা রয়েছে।

প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র ভর্তি নিশ্চায়ন ও শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনাকে ‘আইনসিদ্ধ নয়’ দাবি করে গত মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের কর্মসূচি পালন করছেন বিসিএস ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকরা। এতে সাত কলেজজুড়ে ক্লাস-পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
গতকাল বুধবার ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, তিতুমীর কলেজসহ সাত কলেজের বিভিন্ন ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, কোথাও পাঠদান হয়নি। অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম।

ঢাকা কলেজে দাঁড়িয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আবীর হাসান গতকাল দুপুরে সমকালকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে কলেজে আসছি। কাউন্টারে গেলে শুধু জানানো হচ্ছে– ভর্তির সব কাজ বন্ধ। অনলাইনে নোটিশ আছে; কিন্তু বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না।’ ইডেন কলেজের লুৎফুন্নেছা লতিফা বলেন, ‘বিভাগে গিয়ে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। কাগজপত্র জমা দেব কোথায়, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ঢাকা কলেজ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. দিলুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহারের কোনো নির্দেশ আমরা পাইনি। তাই কর্মসূচি আগের মতোই চলছে।’

গত ১৭ নভেম্বর ঢাকা কলেজে এক জরুরি সভা থেকে ১৮, ১৯ ও ২০ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। অভিযোগ করা হয়, অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসক বিশ্ববিদ্যালয়-চালু মডেল অনুযায়ী ভর্তি ও ক্লাস শুরুর নির্দেশনা জারি করেছেন, যা ‘আইনসিদ্ধ নয় এবং বাস্তববিবর্জিত’।

সংশ্লিষ্ট ছাত্র-শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের সংকট আরও জটিল হয়েছে। ২০১৭ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সাত কলেজে একাডেমিক সংকট চলছিল। চলতি বছরের শুরুতে আবার অধিভুক্তি বাতিল করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা আনা হয়। কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ভর্তি ও ক্লাস শুরুর নির্দেশনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয় পক্ষেই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষকরা সরকারকে বলছেন, ‘প্রথমে মডেল নির্ধারণ করুন, কাঠামো চূড়ান্ত করুন। তারপর ভর্তি ও ক্লাস।’ অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা দ্রুত সমাধানের দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে সরব। ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী মারিয়া হক শৈলী বলেন, ‘সাত কলেজ ইস্যু এত জটিল কিছু নয়। নীতিগত স্পষ্টতা না থাকায় মাসের পর মাস ধরে অচলাবস্থা চলছে।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular