নিউজ ডেস্ক : মানুষ জীবন বাঁচাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য একটি স্থানীয় ‘অ্যাম্বুলেন্স চক্র’ গাড়িটি আটকে রাখায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হলো।
ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ঝাউড়া এলাকায় গত রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে, সেখানে হাসপাতালে নেওয়ার পথে হঠাৎ গাড়িটি থামিয়ে দেওয়া হয় এবং বাড়তি অর্থ দাবি করা হয়।
রোগী ও তাঁর পরিচিতরা এই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকার করলে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট গাড়িটি ছাড়তে দিচ্ছে না। এতে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বলছে, অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সময় মাঝ পথে কয়েকজন লোক এসে অতিরিক্ত ভাড়ার কথা বলে গাড়ি আটকাতে চায়; এসময় রোগীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছান না পারায় রোগীর মৃত্যু ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ঐ এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই রোগীবাহী গাড়ির ওপর এমনই হাতাহাতি ও অর্থ দাবি করে তারা/চক্র।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল চিকিৎসকও জানান, রোগী যদি সময় মতো চিকিৎসা পেতেন তাহলে মৃত্যুর সম্ভাবনা কম ছিল।
পরিবার ও এলাকাবাসী দাবি করছেন, দ্রুত এই অনাচারের পেছনের চক্রকে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর এমন দুর্ঘটনা না ঘটে।
এ বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি; চক্র বা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অ্যাম্বুলেন্স যাত্রার পথে কোনরকম বাধা বা অপ্রত্যাশিত টাকা দাবি করা হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।”
আতঙ্কিত পথচারীরা বলেছেন, এমন ঘটনার পর রোগী পরিবহনের সময় সবাই ভীতি অনুভব করছেন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ তারা করেছেন, যাতে দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র ও সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন রক্ষা করা যায় এবং বহুদূর থেকে আসা রোগীর জন্য বাধাহীন পরিবহন নিশ্চিত করা হয়।
এই দূঃখজনক ঘটনাটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা, স্থানীয় দুর্নীতি ও মানবিকতার অভাব।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




