ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিড২২ জানুয়ারি শাহজালালের মাজার জিয়ারতে আসছেন তারেক জিয়া

২২ জানুয়ারি শাহজালালের মাজার জিয়ারতে আসছেন তারেক জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক (সিলেট): রক্তের উত্তরাধিকার, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের পথ অনুসরণ করে আগামী ২২ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে আসছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি প্রচারের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাসহ দলের শীর্ষ নেতারাও থাকবেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, দুটো মাজার জিয়ারতের পর বেলা ১১টায় নগরীর কেন্দ্রস্থলের সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভার মাধ্যমে বিএনপির প্রচার আনুষ্ঠানিক শুরু করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জনসভা মঞ্চে সিলেট বিভাগের চার জেলার বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-সহ ৩৬০ আউলিয়ার বেশির ভাগ মাজার সিলেট-১ (মহানগর-সদর) নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত। নির্বাচনের সময় তাই এই আসনকে ঘিরে সৃষ্টি হয় বাড়তি আবেগ, ধর্মীয় তাৎপর্য ও রাজনৈতিক পূর্বাভাস।

বাবা ও মায়ের পরম্পরায় এবার দলপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম আগমনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদেম সামুন মাহমুদ খান বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেব যতবার সিলেট এসেছেন, প্রতিবারই মাজার জিয়ারত করেছেন। তার ভাইও এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে হারিছ চৌধুরী ও ইলিয়াস আলীও ছিলেন। জিয়াউর রহমান সাহেব এখান থেকে শুরু করেছিলেন, খালেদা জিয়াও এখান থেকেই শুরু করেছেন। উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানও মাজার থেকে শুরু করতে আসছেন। এটি মাজারভক্তির বিরল এক পরম্পরা।’

২২ জানুয়ারি তারেক রহমানের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো তার আগমন সম্পন্ন হবে জানিয়ে সামুন মাহমুদ খান বলেন, ‘তিনবারই আমি ও মাজারের মোতওয়াল্লি সঙ্গী ছিলাম। এবারের আসাটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সামনে জাতীয় নির্বাচন, আর তিনি এখন দলের চেয়ারম্যান। এবার পরম্পরা পূর্ণ করতে তারেক রহমানের হস্তাক্ষর সংগ্রহ করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে।’

সময়, রাজনীতি ও প্রজন্ম বদলালেও সংগৃহীত হস্তাক্ষরগুলো হয়ে উঠবে এক ঐতিহাসিক পরম্পরার নীরব দলিল। এমনটিই মনে করেন সামুন মাহমুদ খান।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে বড় দুটি অক্ষরে লেখা নাম ‘জিয়া’। ঠিক নিচে ‘১/৬/৭৮’। তারিখসমেত এই হস্তাক্ষরটি ১৯৭৮ সালের ১ জুন সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে আসা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের। তখন অটোগ্রাফের মতো করে তার এই হস্তাক্ষরটি সংগ্রহ করেছিলেন মাজারের অন্যতম খাদেম সামুন মাহমুদ খান।

প্রায় ১৬ বছর পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালের ২৩ জুন হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে আসেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেদিন তার হস্তাক্ষরও সংগ্রহ করেন খাদেম সামুন মাহমুদ খান। ওপর-নিচ করা দুটি টানের মাঝখানে লেখা ‘খালেদা জিয়া’। নামের ঠিক নিচে, স্বামীর মতোই যত্ন করে লেখা তারিখ ‘২৩/৬/৯৪’।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৩০ বছর পর আবার তারেক জিয়া আসছেন ২২ জানুয়ারি। তারেক জিয়ার স্বাক্ষর আশা করছেন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের অন্যতম খাদেম সামুন মাহমুদ খান।

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই দুই হস্তাক্ষর যেন সময়কে ছুঁয়ে থাকা এক ধারাবাহিক পরম্পরা। মাজারভক্তদের মতে, আধ্যাত্মিক স্থানে রেখে যাওয়া স্বাক্ষর কেবল ব্যক্তিগত পরিচয়ের স্মারক নয়, বরং এটি ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষ্য। এই পরম্পরা এবার এগোতে যাচ্ছে আরেক ধাপ।

জিয়া পরিবারের দুটো হস্তাক্ষর সংগ্রহের স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মাজার জিয়ারতে এসেছিলেন। জিয়ারতে সঙ্গে আমিও ছিলাম। জিয়ারত শেষ করে মাজারের মূল সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় অটোগ্রাফটি নিয়েছিলাম।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারতের প্রসঙ্গ টেনে খাদেম বলেন, ‘প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি মাজারে এসেছিলেন। তিনিই সবচেয়ে বেশিবার মাজারে এসেছেন। ১৯৯৪ সালের পর যত নির্বাচন হয়েছে, ততবারই তিনি এখানে এসেছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এসেছিলেন। এরপর আর তার আসা হয়নি। প্রথম প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার হস্তাক্ষরটি প্রথম দফা মাজার জিয়ারতের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।’

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular