নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন দুটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখন থেকে এনআইডিতে নাগরিকের মূল নামের পাশাপাশি তার ‘ডাক নাম’ যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সুপারিশ নেওয়ার বিধানও রাখা হতে পারে।
রবিবার (৮ মার্চ) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি উইং) মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অপরাধীরা পরিচয় গোপন করে এনআইডি তৈরি করে থাকে। এনআইডিতে ‘ডাক নাম’ যুক্ত করা হলে কোনো ব্যক্তির পরিচয় লুকানো কঠিন হবে এবং নাগরিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল হবে।’
এনআইডি মহাপরিচালক আরও জানান, বিদেশি নাগরিক বা রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ঠেকাতে কমিশন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। এ জন্য নতুন নিবন্ধন ফরম-২–এ সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সুপারিশ নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ ঘর রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হলে বিদেশি নাগরিক বা রোহিঙ্গাদের পক্ষে বাংলাদেশি ভোটার হওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই করা সহজ হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এনআইডিতে নাগরিকের নাম, মা-বাবার নামসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকলেও অনেকের স্থানীয় বা পারিবারিকভাবে পরিচিত ‘ডাক নাম’ ডেটাবেজে সুনির্দিষ্টভাবে থাকে না। নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে এনআইডির তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে। এছাড়া কমিশনের আশা, সুপারিশের বিষয়টি কার্যকর হলে মাঠপর্যায়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।




