ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিরাজবাড়ীর পাংশায় ১২০১ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড

রাজবাড়ীর পাংশায় ১২০১ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড

রাজবাড়ী প্রতিবেদক: রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১২০১টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে এ কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুণ অর রশিদ।

জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ এবং রাজবাড়ী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ আলী আহসান, রাজবাড়ী জেলা বিএন‌পির আহব্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী, সদস‌্য স‌চিব এ‌্যাড. কামরুল আলম।

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুধীজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যামিলি কার্ড নিতে আসা পাংশা উপজেলার চরঝিকুরী গ্রামের বাসিন্দা হাওয়া বেগম বলেন, “আমার তিন ছেলে। বড় ছেলে কলেজে পড়ে। মেজ ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। আর ছোট ছেলে ক্লাস এইটে পড়ে। কখনো যদি কোনো ছেলে আমার কাছে পাঁচটা টাকা চায়, তখন অনেক সময় দিতে পারি না। তখন খুব খারাপ লাগে। এজন্য যদি প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা পাই, তাহলে আমার চেয়ে বেশি খুশি কেউ হবে না। কারণ তখন নিজের কাছে কিছু টাকা থাকবে এবং ছেলেদের প্রয়োজনের সময় দিতে পারবো।”

আরেক সুবিধাভোগী রাবেয়া বেগম বলেন, “একটু আগেই আমার ফোনে ২৫০০ টাকা এসেছে। ভোটের সময় এমপি বলেছিল ভোট দিলে ফ্যামিলি কার্ড দেবে। তারা কথা রেখেছে। তারেক রহমান কথা রেখেছে এজন্য আমরা অনেক খুশি।”

বৃদ্ধা রেখা পারভীন বলেন, “আমার দুই মেয়ে, ছেলে নেই। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীও এখন আর কাজ করতে পারে না। প্রতি মাসে যদি ২৫০০ টাকা পাই তাহলে আমাদের অনেক উপকার হবে। শুনেছি এই কার্ড দিয়ে কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও কেনা যাবে।”

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমী সাংবা‌দিক‌দের কা‌ছে প্রতি‌ক্রিয়া ব‌্যাক্ত ক‌রে বলেন, “আজ বাংলাদেশের তথা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আমরা নারীদের সম্মান করছি, নারীর শ্রমকে সম্মান করছি। নারীর অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু করেছেন। আপনারা লক্ষ্য করেছেন, এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই কার্ড কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়নি। এটি একটি সর্বজনীন উদ্যোগ। হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারকে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ভবিষ্যতে প্রায় চার কোটি পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমরা প্রথমেই কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি। ৬০ লাখ মানুষের ১০ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এরপর পবিত্র রমজান মাসে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের পুরোহিতদের জন্য ভাতা চালু করা হয়েছে। স্বাধীনতার এই মাসে আমরা বাংলাদেশে একটি নবজাগরণ সৃষ্টি করতে চাই।”

ডা. তিতুমীর আরও বলেন, “১৬ মার্চ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবেন। সামনে কৃষক কার্ড চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা ক্ষমতা গ্রহণ করিনি, জনগণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।”

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular