ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের কাজ শেষ

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের কাজ শেষ

নিউজ ডেস্ক:   অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইয়ের কাজ শেষ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার সময় ১৪-১৫টি বিষয়ে সরকারি দল বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়নি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, তারা এ বিষয়ে ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে টানা তৃতীয় দিনের মতো বৈঠক করে কমিটি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন; সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম। বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে এই বৈঠকে আরও অংশ নেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

বৈঠক শেষে রাত ১২টার দিকে বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, অধ্যাদেশগুলো যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটির বৈঠকে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু বিষয় পাস করানোর চেষ্টা করেছে। বিরোধী দলের সদস্যরা এ ধরনের ১৪-১৫টি বিষয়ে একমত হননি, তারা নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছেন।

বিশেষ কমিটির এই সদস্য বলেন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠ এসব বিষয়ে সংস্কার হয়েছে। তবে সরকারি দল নিজেদের মতো করে দলীয়করণ করার লক্ষ্যে সেগুলোকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। বিরোধী দল এখানে একমত হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হয়েছে। যদি গণভোট সংবিধানে না থাকে, তাহলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় কীভাবে? গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে।

বিশেষ কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো যেভাবে আছে, সেভাবে পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে। আর কিছু হয়তো এই অধিবেশনে বিল আনার সময় পাওয়া যাবে না। এর মধ্যে যেগুলো পাস করাতে হবে, সেগুলো পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে আনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট এসেছে। সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হবে। বিল আকারে যখন উত্থাপিত হবে, তখন আইন প্রণয়নের সময় সংসদ সদস্যরা যাঁর যাঁর বক্তব্য দিতে পারবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। যে কারণে এটি প্রণয়ন করা হয়েছিল, তার ব্যবহার হয়ে গেছে। এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। তাই এটাকে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই। এটা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

সাধারণত কোনো বিল যাচাই–বাছাই করে সংসদে প্রতিবেদন দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। তবে এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়নি। তাই অধ্যাদেশগুলো বাছাইয়ে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular