ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখোলা কলামইরানের সঙ্গে যুদ্ধে খলনায়ক নেতানিয়াহু

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে খলনায়ক নেতানিয়াহু

মাহমুদ মীর

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজ দেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়ে এক ধরণের ‘রাজনৈতিক খলনায়কে’ পরিণত হয়েছেন। ৪০ দিনের এই ব্যয়বহুল সংঘাতে কোনো দৃশ্যমান বিজয় না আসায় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে ইসরায়েলকে পাশ কাটানোয় তাকেই বড় পরাজিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নেতানিয়াহু সমালোচিত এবং খলনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা যায় তা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন ট্রাম্প নিজেই অনেক কিছুর দায় স্বীকার করে নেন।

১. বিজয়হীন সংঘাত: বছরের পর বছর ইরানকে হুমকি দিলেও, এবারের সংঘাতে ইসরায়েল কোনো স্পষ্ট জয় পায়নি এবং একটি দুর্বল যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য হয়েছে।

২.যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দূরত্ব: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সিদ্ধান্তে যুদ্ধ স্থগিত করায় নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে।

৩. অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ: যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করায় ইসরায়েলের ভেতরেও তার জনপ্রিয়তা কমেছে এবং তাকে কোণঠাসা হতে হয়েছে।

৪. ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মনোযোগ সরাতে তিনি ইরান ইস্যু ব্যবহার করছেন।

৫. দুর্নীতির অভিযোগ: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে তিনটি পৃথক ফৌজদারি মামলা (কেস ১০০০, ২০০০, ৪০০০) চলছে। ২০১৯ সালে অভিযুক্ত এবং ২০২০ সালে বিচার শুরু হওয়া এই মামলাগুলোর মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাসীন অবস্থায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া প্রথম ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। দোষী সাব্যস্ত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে, তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে বারবার বিচার পেছানোর আবেদন করেছেন।

নেতানিয়াহুর দুর্নীতির মামলার মূল দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
মামলাগুলোর ধরন:
ক. কেস ১০০০: ধনকুবেরদের কাছ থেকে দামি উপহার (সিগার, শ্যাম্পেন) গ্রহণ।
খ. কেস ২০০০: একটি সংবাদপত্র মালিকের সাথে অবৈধ চুক্তির চেষ্টা।
গ. কেস ৪০০০: টেলিকম কোম্পানি ‘বেজেক’-এর সুবিধার্থে গণমাধ্যম ‘ওয়ালা’-র ইতিবাচক কভারেজ পাওয়ার চেষ্টা (সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ)।
ঘ. বর্তমান অবস্থা: যুদ্ধ এবং নিরাপত্তার অজুহাতে নেতানিয়াহু বারবার মামলার শুনানির সময় পেছাচ্ছেন। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর কথা ছিল।
ঙ. রাজনৈতিক প্রভাব: এই মামলাগুলো এবং গাজা যুদ্ধের পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় বড় ধ্বস নামিয়েছে।

গত ছয় সপ্তাহ ইসরায়েলিরা কিভাবে বোমা-শেল্টারে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন, ইসরায়েলের বাইরের কেউ তা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। বাস্তবতা হচ্ছে, ইসরায়েলি ভোটাররা এসব মনে রাখবেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্যে কী ঘটবে, এ বছরের শেষে সে দেশের জনগণ ও ভোটাররাই নির্বাচনে নির্ধারণ করবেন। এখন পর্যন্ত তারা কেবল ‘চূড়ান্ত বিজয়ের’ প্রতিশ্রুতিই শুনে আসছেন, যা আদতে অন্তঃসারশূন্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

অনিবার্যভাবেই ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চরিত্রটা পারফরম করেন অর্থাৎ ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কুরুচিপূর্ণ ও রক্তপিপাসু ভাষায় ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘আজ রাতে পুরো একটা সভ্যতার মৃত্যু হবে’; আবার কখনো নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনার ঘোষণা নিজেই দিয়েছেন। ট্রাম্পের একজনই মিত্র আছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির পরও সংবাদপত্রের শিরোনাম হচ্ছেন। ট্রাম্পের সেই মিত্র হলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্বাভাবিকভাবেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হয়ে ওঠেন খলনায়ক।

যুদ্ধবিরতি হলো। যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হলো। তবু বিশ্ববাসীর মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকলেন নেতানিয়াহু। কারণ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বন্দুকের গর্জন থামানোর কথা থাকলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কানে সেই বার্তা প্রবেশ করেনি।

হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের হামলা এখনো থামেনি। ট্রাম্প যখন তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার কথা প্রচার করছিলেন, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল লেবাননের ওপর মারাত্মক বোমাবর্ষণ শুরু করে। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরায়েলি জেটগুলো রাজধানী বৈরুত এবং তার বাইরে ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই আঘাতে অন্তত ৩০৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৫০ জনেরও বেশি আহত হন, যাদের অনেকেই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

এই হামলা সম্পর্কে ইসরায়েল যে যুক্তি দেয় তা হলো, ট্রাম্পের চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। অথচ ইরান এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা বলেছেন, লেবানন ওই চুক্তির একটা পক্ষ। জেডি ভ্যান্স বলেছেন, এটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’। যদি তাই হয়, তাহলে এর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। আপাতত নেতানিয়াহু দুই কূল রাখার চেষ্টা করছেন–লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়ে নতিস্বীকার করলেন, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর আস্তানায় ‘পূর্ণ শক্তি’ দিয়ে হামলা চালিয়ে গেলেন।

নেতানিয়াহুকে বিচার করার দুটি পথ আছে: বিদেশিদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিজের দেশের মানুষের মনোভাবের মাধ্যমে। প্রায়ই এ দুটি দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন মেরু, অর্থাৎ বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্ব জনমতে যুদ্ধাপরাধী: বিশ্ব জনমতের আদালতে নেতানিয়াহু অনেক আগেই যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী। হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এ জন্য তাকে এখনো খুঁজছে। তিনি গাজা ধ্বংসের মূল কারিগর–খলনায়ক হিসেবে তিনি ট্রাম্পের সমান বা তার চেয়েও নিকৃষ্ট এক শাসক। তবে দেশের অভ্যন্তরে তার ভিন্ন ভাবমূর্তি আছে। তার সমর্থকরা তাকে ‘মিস্টার সিকিউরিটি’ হিসেবে দেখেন। তারা মনে করেন, তিনি কট্টরপন্থি, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। নৈতিক স্খলন এবং দুর্নীতির বিচার চলমান থাকা সত্ত্বেও নিজের দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করছেন। এ দুটি ভাবমূর্তির মধ্যে দ্বিতীয়টিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এখনো তা আছে।

ইসরায়েলি জনগণের হাতেই নেতানিয়াহুর ভাগ্য: কলোম্বিয়া বা ক্যামডেনের বিক্ষোভকারীরা নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) নির্বাচনে ভোট দেন না। ইসরায়েলি জনগণের হাতেই নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারিত হবে, বিশেষ করে যখন আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন হবে তখন। কিন্তু ভোটারদের কাছে তিনি কী ‘অর্জন’ তুলে ধরবেন? মূল সত্যটি হলো, এই তথাকথিত ‘মিস্টার সিকিউরিটি’ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে থাকা অবস্থাতেই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল তার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়। সেদিন শত শত হামাস কোনো বাধা ছাড়াই গাজা সীমান্ত পার হয়ে ইসরায়েলে আক্রমণ চালায়। শুধু সেই একটি দিনই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত ছিল। অন্য কোনো দেশ হলে তিনি অনেক আগেই ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হতেন। এরপর তিনি হামাসকে পরাজিত করে ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিলেন; যার অর্থ হচ্ছে গাজা থেকে হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করা। কিন্তু গাজায় দুই বছরের নৃশংস বোমাবর্ষণ এবং প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যুর পরও নেতানিয়াহু তেমন কিছুই অর্জন করতে পারেননি। গাজার যে অংশ ইসরায়েলি সেনাদের দখলে নেই, সেখানে হামাস এখনো অধিপতি।

হিজবুল্লাহর পতন দাবি অতিরঞ্জিত: সেই হামলার সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গর্ব করে বলেছিলেন, হিজবুল্লাহ পরাজিত হয়েছে। উত্তর ইসরায়েলের ওপর হামাস যে রকেট হামলা চালাত, সেই ক্ষমতা তিনি ধ্বংস করে দিয়েছেন। কিন্তু হামাস ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় আবার ইসরাইলিদের হিজবুল্লাহর হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে স্পষ্ট হয়ে গেছে, হিজবুল্লাহদের পতন ঘটে যাওয়ার দাবি ছিল অতিরঞ্জিত। হ্যাঁ, ইসরায়েল দলটির নেতাকে হত্যা করেছে, কিন্তু গোষ্ঠীটি টিকে আছে এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার আবার তারা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

‘ঐতিহাসিক বিজয়’ অর্জিত হয়নি: ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধের কাহিনিও একই। গত জুনে ১২ দিনের এক সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আঘাত হানে। ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘ধূলিসাৎ’ করে দিয়েছে। নেতানিয়াহু একে বর্ণনা করেছিলেন ‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্মরণীয় হয়ে থাকা ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষে তেহরানকে আবারও ইসরায়েলের ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে দেখা হলো। অথচ ইরানের শক্তি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে আগে বহুবার দাবি করা হয়।

‘শাসন পরিবর্তনের’ হুমকি উপেক্ষিত: ইরানের কাছে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত আছে। তাদের কাছে এখনো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগ পর্যন্ত তারা উপসাগরীয় প্রতিবেশী এবং ইসরায়েলি শহরগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছিল। নেতানিয়াহুর ‘শাসন পরিবর্তনের’ হুমকি সত্ত্বেও ইরানের শাসকরা আগের চেয়ে বেশি কট্টর এবং শক্তিশালী অবস্থানে টিকে আছে। তেহরান বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, পারমাণবিক বোমা ছাড়াও তাদের কাছে বর্তমানে শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থা আছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে শ্বাসরোধ করার ক্ষমতা রাখে ইরান। হরমুজে যদি নৌচলাচল আবার শুরু হয়, তা হবে ইরান সরকারের ইচ্ছায় এবং বিনিময়ে তারা বড় অঙ্কের মাশুল দাবি করবে।

বড় অর্জন ভয়ংকর একটি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া:  অন্য কথায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে ইরানি শাসনের বিপদের কথা প্রচার করার পর নেতানিয়াহুর বড় অর্জন হলো এমন একটি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, যা তেহরানকে তার প্রতিবেশী এবং বিশ্বের জন্য আরও বেশি ভয়ংকর করে তুলেছে। সামরিক বিশ্লেষক আমোস হারেল সংক্ষেপে বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন: ‘‘গাজায় একবার, লেবাননে একবার এবং ইরানে দুইবার–এই নিয়ে টানা চতুর্থবার নেতানিয়াহুর ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ এবং ‘অস্তিত্ব রক্ষার হুমকি দূর করার’ দম্ভ ফাঁকা প্রতিশ্রুতি হিসেবে প্রমাণিত হলো।”

কিন্তু এখানেই শেষ নয়, নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা আরও গভীর। নেতানিয়াহুর মূলমন্ত্র হচ্ছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা শুধু একভাবেই নিশ্চিত করা সম্ভব। সেটা হলো, শত্রুদের আঘাত কর, আরও জোরে আঘাত কর। কিন্তু এই পদ্ধতি কেবল সাময়িক স্বস্তি আনে। তিনি যাকে ‘সাপের মাথা কেটে ফেলা’ বলেন, সেই মাথা আবার দ্রুতই গজায়।

ইসরায়েলি বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ এবং সাবেক জেনারেল ইয়ার গোলানের ভাষায়, ‘নেতানিয়াহু জানেন না কীভাবে সামরিক সাফল্যকে রাজনৈতিক নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করতে হয়।’ তিনি কূটনৈতিক সুযোগগুলো কাজে লাগানোর কোনো চেষ্টা করেন না। উদাহরণস্বরূপ লেবানন সরকার এবং সে দেশের সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ হিজবুল্লাহর হাত থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া; কিন্তু নেতানিয়াহু তাদের সঙ্গে কথা বলেন কেবল আকাশ থেকে বোমা বর্ষণ করে।

‘নেতানিয়াহুবাদ’ আসলে কিছুই অর্জন করতে পারেনি। বরং এর জন্য বিশাল মূল্য দিতে হয়েছে। রাফাহ, বেকা ভ্যালি বা ইসরায়েল–সর্বত্রই প্রাণহানি ঘটেছে। এ ছাড়া যুদ্ধবাজ হওয়ার কারণে বিশ্বে ইসরায়েলের মর্যাদার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নেতানিয়াহু ইসরায়েলকে একঘরে করে রেখেছেন। কয়েক দিন আগে নেসেটে তার সরকার একটি বর্ণবাদী আইন পাস করেছে যা মূলত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হলে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেবে, কিন্তু ইসরায়েলিদের নয়। বিলটি কট্টরপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির উপস্থাপন করলেও নেতানিয়াহু নিজে উপস্থিত থেকে এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

নেতানিয়াহু এ বছরের নির্বাচনে যদি হেরে যান, তাহলে জরিপ বলছে, তার জায়গায় যিনি আসবেন তিনি যুক্তি দেবেন–নেতানিয়াহুর পথ সঠিক ছিল, কিন্তু তা ঠিকমতো প্রয়োগ করা হয়নি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও জোরালো যুক্তি আছে, তা হলো, নেতানিয়াহু কয়েক দশক ধরে ভুল কৌশল অনুসরণ করেছেন। নিরাপত্তা শুধু শক্তি প্রয়োগ করে আসে না; ইসরায়েলকে তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে, বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। নেতানিয়াহুর একের পর এক ব্যর্থতা প্রকাশ্যে আসার পর, ইসরায়েলিরা অবশেষে হয়তো সেই সত্য শোনার জন্য প্রস্তুত হবে।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular