জালাল উদ্দিন মণ্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্দুর রব ভূঁইয়া ও শওকত আলী মাস্টার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন এবং তিনটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খারুয়া বাজার এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১১টার দিকে নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খারুয়া বাজারের ৯ শতাংশ জমি যৌথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের পর রাস্তার পাশের জায়গার দখল নিয়ে আব্দুর রউফ ও শওকত আলী মাস্টারের পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন।
গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন খারুয়া নরেন্দ্রপুর গ্রামের জাকির, পাভেল, রিয়াদ ও মাসুদসহ আরও কয়েকজন। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাজারে শওকত আলী মাস্টারের একটি ফার্নিচারের দোকান, লিয়াকত আলীর একটি রড-সিমেন্টের দোকান এবং আব্দুর রবের একটি মুদি দোকানে লুটপাট চালানো হয়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত এবং নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ। বৃষ্টির মধ্যেও তারা পুলিশ প্রশাসনের সদস্যদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করতে চেষ্টা চালান।
পরবর্তীতে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এ ঘটনায় তিন প্লাটুন পুলিশ, এক প্লাটুন র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে খারুয়া বাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আব্দুর রবের স্ত্রী মনোয়ারা সুলতানা ও তার ছেলে মাহফুজুর রহমান জানান, শওকত আলী মাস্টারসহ চারজন মালিকের মধ্যে তিনজন তাদের কাছে জমির অংশ বিক্রি করেছেন। কিন্তু শওকত আলী মাস্টারের অংশ পেছনের দিকে থাকা সত্ত্বেও তিনি রাস্তার সামনের অংশ দখলে নিতে চান।
অন্যদিকে শওকত আলী মাস্টার বলেন, “আমিসহ চারজন মিলে জায়গাটি ক্রয় করি। পরে আমি ছাড়া অন্য তিনজন তাদের অংশ অন্যত্র বিক্রি করে দেন। স্থানীয় দরবারের মাধ্যমে আমি রাস্তার পাশের অংশে দখলে আছি। এরপরও তারা গোলযোগ সৃষ্টি করে যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে খারুয়া বাজারে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”




