নিউজ ডেস্ক: পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২-এ ২ দশমিক ৪৯ মেগাওয়াট পিক (MWp) ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) সিস্টেম চালুর পর এক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা কমেছে। গত মে মাসের সাড়ে ৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল চলতি জুন মাসে নেমে এসেছে মাত্র ৭৫ হাজার টাকায়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২-এ উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে দিনের বেলায় সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সার্ভিস এরিয়ার নিজস্ব চাহিদা পূরণ করার পর অতিরিক্ত অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। রাতে বা মেঘলা দিনে গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুতের সঙ্গে দিনের বেলায় সরবরাহকৃত বিদ্যুতের হিসাব সমন্বয় করা হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সার্ভিস এরিয়া-২-এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে চলতি জুন (২০২৬) মাসে মূল বিদ্যুৎ বিল শূন্য টাকা এসেছে। শুধুমাত্র ডিমান্ড চার্জ বাবদ ৭৫ হাজার ৭১৪ টাকা বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। অথচ এর আগের মাস মে-তে বিদ্যুৎ বিল ছিল ৫ লাখ ২১ হাজার ৬৪ টাকা।
মে মাসে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ৩৪ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে ৫৪ হাজার ইউনিট। ফলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অনুকূলে ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রয়েছে।
সেতু বিভাগ জানিয়েছে, পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১, সার্ভিস এরিয়া-২ এবং সার্ভিস এরিয়া-৩ মিলিয়ে মোট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৬ দশমিক ০৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে সার্ভিস এরিয়া-১ এবং সার্ভিস এরিয়া-৩-এ নেট মিটারিং কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, পদ্মা সেতুর মতো জাতীয় স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই প্রয়োগ কেবল বিদ্যুৎ বিলের খরচই কমাচ্ছে না, বরং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে।




