ইসলাম বদনজরের বাস্তবতাকে স্বীকার করেছে। তবে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে এর প্রতিকারও শিখিয়ে দিয়েছেন—দোয়া, যিকির ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে।
‘কাল দৃষ্টি’ থেকে রক্ষার দোয়াসমূহ :
১️। সূরা আল-ফালাক :
বলুন, আমি আশ্রয় চাই প্রভাতের প্রতিপালকের কাছে—
সৃষ্টির অনিষ্ট, অন্ধকার, জাদুকর এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে।
…قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
২। সূরা আন-নাস :
“বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের প্রতিপালকের কাছে…”
… قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
(সহিহ বুখারি: ৫৩১০; সহিহ মুসলিম: ২১৮৩)
২️। ‘কাল দৃষ্টি’ ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের দোয়া
আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি ‘আইনিন লাম্মাহ।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
(আমি আশ্রয় নিচ্ছি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী ও কুদৃষ্টির অনিষ্ট থেকে।)
(সহিহ বুখারি: ৩৩৭১; সহিহ মুসলিম: ২৭০৮)
নবী ﷺ তাঁর নাতি হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য এই দোয়া পড়তেন।
৩️। আয়াতুল কুরসি পাঠ : আরবি (সূরা আল-বাকারা: ২৫৫):
اللّٰهُ لَآ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম…
[আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বনিয়ন্ত্রক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনের যা কিছু আছে সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে না। তিনি জানেন যা মানুষের সামনে ও পেছনে আছে। আর তাঁর জ্ঞানের কিছুই মানুষ আয়ত্ত করতে পারে না, যতটুকু তিনি চান ততটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং সেগুলো রক্ষা করা তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনিই মহান, সর্বশ্রেষ্ঠ।]
(সূরা আল-বাকারা: ২৫৫; সহিহ বুখারি: ২৩১১)
রাসুল বলেছেন,
“যে ব্যক্তি প্রতি নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই বাধা হয়ে থাকে না।”
“যে রাতে আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমায়, আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতা প্রহরী নিযুক্ত করেন, সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছাকাছি আসতে পারে না।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১)
৪️। সকাল–সন্ধ্যার আমল
বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা’ই, ওয়া হুয়াস সামিয়ুল আলীম।
بِسْمِ اللهِ الَّذِي لا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ
আল্লাহর নামে (আমি আশ্রয় নিচ্ছি), যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছু ক্ষতি করতে পারে না।
(আবু দাউদ: ৫০৮৮; তিরমিজি: ৩৩৮৮)
সকাল-বিকাল তিনবার পড়লে আল্লাহ তায়ালা তাকে সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত করেন।
ঘুমানোর আগে : রাসুল ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে মাসাহ করতেন।
বদনজর সত্য, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। নিয়মিত দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকিরের মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি নিজের, পরিবারের ও সন্তানের ওপর আল্লাহর হেফাজত কামনা করবে।
“আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্টে ফেলেন, তবে তাঁরই ছাড়া কেউ তা দূর করতে পারে না।”