আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তাঁর কাছে ছবি তোলার জন্য ‘অনুরোধ’ বা ‘ভিক্ষা’ করেছিলেন বলে ট্রাম্প যে দাবি করেন, সেটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মেলোনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া। আমি সত্যিই বিস্মিত। আমি কিংবা ইতালি কখনও কারও কাছে ভিক্ষা চায় না।” তাঁর এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ট্রাম্প ইতালীয় টেলিভিশন চ্যানেল লা-সেভেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন। এমনকি তিনি নাকি “দয়া করে” সেই ছবি তুলতে রাজি হয়েছিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশের পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান মেলোনি।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী শুধু ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যানই করেননি, বরং পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাঁর মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। দুঃখজনক হলো, পশ্চিমাদের শত্রুদের প্রতি তিনি অনেক বেশি নমনীয়তা দেখান।”
এই ঘটনার জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।
তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে শুধু মেলোনির জন্য নয়, পুরো ইতালির জন্যই অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তোও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, “মেলোনি কাউকে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করবেন—এমন কল্পনাও করা যায় না।”
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় ট্রাম্প ও মেলোনিকে আদর্শগতভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ইরান ইস্যু, ইউরোপীয় নিরাপত্তা এবং ভ্যাটিকান-সম্পর্কিত কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য এই দূরত্ব বাড়িয়েছে। সর্বশেষ এই ‘ছবি বিতর্ক’ সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ট্রাম্প-মেলোনি বাকযুদ্ধ কেবল ব্যক্তিগত মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু মিত্র দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধেরও প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্ক সাময়িক উত্তেজনা হিসেবেই শেষ হয়, নাকি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




