আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকের (MoU) লঙ্ঘন। তবে এই ঘটনার পরও দুই দেশের মধ্যে চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইরানের সামরিক পদক্ষেপ সমঝোতার শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, চলমান সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হচ্ছে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।
এর আগে একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা কার্যত ভেঙে গেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও ম্যাক্রোঁ অপেক্ষাকৃত সংযত অবস্থান গ্রহণ করেন এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধবিরতির মতো সংবেদনশীল সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। যেকোনো ধরনের সামরিক উসকানি কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান শান্তি উদ্যোগকেও বাধাগ্রস্ত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা যুদ্ধবিরতির পরিবেশকে নড়বড়ে করে দিলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় মিত্র এবং আঞ্চলিক অংশীদাররা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে আগ্রহী। কারণ সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে ন্যাটো সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ জোটভুক্ত দেশগুলোর ঐক্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই অনুষ্ঠানে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় ন্যাটো মিত্রদের নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য তিনি ব্যক্তিগত আলোচনায় শোনেননি।-
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেলেও উভয় পক্ষ যদি আলোচনার টেবিলে থাকে, তাহলে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে পরবর্তী কয়েক দিনের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।




