আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পরবর্তী নেতা এবং দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলীয় নেতৃত্বের দৌড়ে তিনি ইতোমধ্যে ৪০৩ জন লেবার এমপির মধ্যে ৩২২ জনের সমর্থন পেয়েছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আর মাত্র একজন এমপির সমর্থন পেলেই তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে যাবে। কারণ নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ৬৫০ সদস্যের হাউস অব কমন্সে লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপি রয়েছেন। কয়েকজন এমপি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দিতে না পারলেও পার্লামেন্টে ফিরে তারা বার্নহ্যামকে সমর্থন জানাবেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী না থাকলে আগামী সপ্তাহেই বার্নহ্যামকে লেবার পার্টির নতুন নেতা ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর আগামী ২০ জুলাই তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফেরেন বার্নহ্যাম। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়াকে তার রাজনৈতিক জীবনের বড় উত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে বার্নহ্যাম তাকে সমর্থন দেওয়া এমপিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলের বিভিন্ন অংশ থেকে পাওয়া এই সমর্থন প্রমাণ করে, ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তার সরকারের অগ্রাধিকার হবে ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের জয় এবং গত মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের পর দলীয় চাপে পড়েন তৎকালীন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। এরপর অনেক এমপি তাকে পদত্যাগ করে বার্নহ্যামের জন্য নেতৃত্বের পথ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বার্নহ্যাম এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের প্রার্থী হতে আগামী বুধবারের মধ্যে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন।
তবে বার্নহ্যাম ইতোমধ্যেই ৩২২ জন এমপির সমর্থন পাওয়ায় অন্য কোনো প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া লেবার পার্টির নতুন নেতা হতে দল-সংশ্লিষ্ট ৩১টি সমাজতান্ত্রিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত তিনটির সমর্থনও পেতে হবে তাকে।
এই শর্ত পূরণ হলে বার্নহ্যাম আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন এবং ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পথ সুগম হবে। এর আগে ২০১০ ও ২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি সফল হতে পারেননি।




