স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। সেমিফাইনালের আগে শীর্ষে রয়েছেন দুই মহাতারকা—আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনেরই গোলসংখ্যা সমান ৮, ফলে কে শেষ পর্যন্ত সেরা গোলদাতার পুরস্কার জিতবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ওই ম্যাচে গোল পাননি মেসি। তবুও পুরো টুর্নামেন্টে তার করা ৮ গোল এখনো তাকে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও সমান ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সমানতালে এগিয়ে আছেন।
গোলের দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও এখনো সম্ভাবনা টিকে আছে ইংল্যান্ডের দুই তারকা জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জোড়া গোল করে বেলিংহাম নিজের গোলসংখ্যা ৬-এ উন্নীত করেছেন। কেইনের গোলও ৬টি। তবে নরওয়ের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই ৭ গোল করা আর্লিং হালান্ডের গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনারও ইতি ঘটেছে।
বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা সমান হলে বিজয়ী নির্ধারণে ফিফা নির্দিষ্ট টাইব্রেকিং নিয়ম অনুসরণ করে। প্রথমে দেখা হয় কে বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন। এরপরও সমতা থাকলে বিবেচনায় আসে কম মিনিট খেলে সেই গোল করার কৃতিত্ব। বর্তমানে মেসি ও এমবাপ্পের গোল সমান হলেও অ্যাসিস্টে এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে। তার অ্যাসিস্ট ৩টি, যেখানে মেসির রয়েছে ২টি। ফলে এই মুহূর্তে টুর্নামেন্ট শেষ হলে টাইব্রেকারে গোল্ডেন বুট উঠবে এমবাপ্পের হাতেই।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে। সেবার তিনি ৮ গোল করেন, আর ৭ গোল নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন মেসি। এবারও একই ধরনের নাটকীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে দুই সুপারস্টারের মধ্যে।
এদিকে বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলের রেকর্ড নিয়েও চলছে আরেকটি লড়াই। চলতি আসরে ৮ গোল যোগ করে মেসির বিশ্বকাপে মোট গোল দাঁড়িয়েছে ২১। এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ২০। ফলে সেমিফাইনাল ও সম্ভাব্য ফাইনালে তাদের প্রতিটি গোল শুধু গোল্ডেন বুট নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের রেকর্ড বইও নতুন করে লিখতে পারে।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, আর ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ স্পেন। দুই দলই জিতলে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে পারেন মেসি ও এমবাপ্পে। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপ শিরোপার পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের নিষ্পত্তিও হতে পারে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সেই মহারণেই।




