তিনি বলেন, ১৩ জুলাই সড়ক পথে বরিশাল জেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টায় গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখননকৃত সরিকল-বাটাজোর খালের পাশে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিবেন তিনি। এর আগে গৌরনদী টিটিসিতে কিছু সময় বিশ্রাম নিবেন তিনি।
গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকায় বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বরিশাল সার্কিট হাউজে বিশ্রাম শেষে বিকেল ৩টায় বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগাদান করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সড়ক পথেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বরিশাল জেলার দু’জন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীসহ ছয়জন সংসদ সদস্য, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের তিনজন সদস্য ও অর্থাৎ সাংগঠনিক সম্পাদক ও দু’জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বরিশাল মহানগর এবং বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির দু’জন করে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপির এই নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি এই সফর যেন সুন্দর এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয় সেই বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। এরই মধ্যে আমরা প্রশাসন এবং সাংগঠনিকভাবে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। সেখানে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফলে কোনো তোরণ, ব্যানার, ছবি থাকবে না বলে নির্দেশনা রয়েছে। সেই আলোকে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো যাবে। এজন্য গৌরনদী থেকে বরিশাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বরিশালবাসী। এক্ষেত্রে জনগণ, যানবাহন চলাচল বা পথচারীদের যেন কোনো প্রকার ভোগান্তির সৃষ্টি না হয় সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, গৌরনদী খালপাড়ে একসঙ্গে দুই হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ১০-১২ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। এরপর গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এটি তার সফর সূচিতে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, বরিশাল নগরীর সাগরদী খালপাড়েও দেশীয় প্রজাতির ফল এবং ফুলের গাছ রোপণ করা হবে। এরমধ্যে দুটি চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে রয়েছে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বরিশালের আমড়া গাছ এবং নারিকেল গাছের চারা। সেই সঙ্গে একযোগে ৩শ নারিকেল এবং আমড়া গাছ রোপণ করা হবে। যার মধ্যে রয়েছে ৩০টি নারিকেল গাছ। এজন্য ৩০২টি স্থানে মাটি খুঁড়ে গর্ত করা হয়েছে। এরপর আরও প্রায় দুইশ দেশীয় ফুলেল গাছ লাগানো হবে সদ্য খনন করা সাগরদী খালের দুই তীরে। খাল পাড়ের ওই জায়গাটি আমরা ফুল গাছ দিয়ে সাজাতে চাই।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বৃক্ষরোপণ শেষে শিল্পকলা এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিবেন প্রধানমন্ত্রী। সেই আয়োজন বিএনপির পক্ষ থেকেই করা হচ্ছে। আমরা শুধুমাত্র নিরাপত্তা এবং সরবরাহ বা ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবো।