ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
HomeUncategorized২০৩০ বিশ্বকাপ সামনে রেখে কনকাকাফের পরবর্তী পরিকল্পনা

২০৩০ বিশ্বকাপ সামনে রেখে কনকাকাফের পরবর্তী পরিকল্পনা

ক্রীড়া ডেস্ক: ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের অধ্যায় এখন শেষ। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ সফলভাবে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজন সম্পন্ন করেছে। এখন অঞ্চলটির সব দলই ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করবে, যেখানে প্রতিযোগিতার চিত্র হবে একেবারেই ভিন্ন।

২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও কনকাকাফের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেবে। তবে বাছাইপর্ব শুরুর আগে অঞ্চলটির দলগুলো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে খেলবে, যেগুলো ২০৩০ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পথে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৬ কনকাকাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ

এ সপ্তাহে ১২টি দল মেক্সিকোতে কনকাকাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছে। এই টুর্নামেন্ট থেকে শুধু ২০২৭ সালে আজারবাইজান/উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের জন্য চারটি দল নির্ধারণই হবে না, পাশাপাশি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের পুরুষ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া আরেকটি দলও নির্ধারিত হবে।

পুরুষদের অলিম্পিক ফুটবল টুর্নামেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই কনকাকাফের উদীয়মান ফুটবলারদের নিজেদের মেলে ধরার মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ব্র্যাড ফ্রিডেল দুর্দান্ত পারফর্ম করে পরবর্তীতে তিনটি বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। একইভাবে, ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে হন্ডুরাসের উইঙ্গার অ্যান্ডি নাজার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে আলো ছড়ান এবং পরে ব্রাজিল ২০১৪ বিশ্বকাপে দলটির যোগ্যতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে আলো ছড়ানোর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করা স্পেনের সদ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলেক্স বায়েনা এবং ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে ও ডিজায়ার দুয়ের মতো খেলোয়াড়দের উদাহরণ তরুণদের আরও অনুপ্রাণিত করবে। ফলে লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮-এ খেলার লক্ষ্য আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

২০২৬-২৭ কনকাকাফ নেশন্স লিগ
সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে কনকাকাফ নেশন্স লিগের নতুন আসর। এতে অঞ্চলটির সিনিয়র জাতীয় দলগুলো আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি হবে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের মূল্যায়ন করার সুযোগ, একই সঙ্গে বিশ্বকাপে পাওয়া ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার মঞ্চ।

এই তিন দেশ ও পানামা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে প্রতিযোগিতা শুরু করবে। তার আগে লিগ ‘এ’-এর গ্রুপ পর্বে খেলবে ১২টি দল। এর মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কুরাসাও এবং হাইতিও রয়েছে, যারা প্রমাণ করতে চাইবে যে তারা কনকাকাফের শীর্ষ সারির দল হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত রাখতে পারে।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অল্পের জন্য বাদ পড়া দলগুলোও এবার শেষ আটে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে নামবে। জ্যামাইকা ও সুরিনাম ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে হতাশার শিকার হয়েছিল। এরপর গত মার্চে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ফিফা প্লে-অফ টুর্নামেন্টেও খুব অল্প ব্যবধানে ব্যর্থ হয়। তাই নতুন চক্রের শুরুটা ভালো করার প্রত্যাশা থাকবে তাদের সমর্থকদেরও।

২০২৬ সালের আগে টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেলা কোস্টারিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ ও ব্রাজিল ২০১৪ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া হন্ডুরাসও লিগ ‘এ’-তে রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে হাইতির পেছনে থেকে বাদ পড়ার তিক্ততা ভুলতে চাইবে তারা। কোস্টারিকার দায়িত্বে এখন আর্জেন্টাইন কোচ ফার্নান্দো বাতিস্তা, আর হন্ডুরাসের কোচ স্প্যানিশ হোসে আন্তোনিও মোলিনা।

নেশন্স লিগ নতুন শুরুর সুযোগ এনে দেয় এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তোলার মঞ্চ হিসেবেও কাজ করে। বিশেষ করে মধ্য আমেরিকার দুই দল গুয়াতেমালা ও এল সালভাদর একই কোচকে ধরে রেখেছে। অভিজ্ঞ লুইস ফার্নান্দো তেনা আবারও গুয়াতেমালাকে নেতৃত্ব দেবেন। অন্যদিকে, পানামাকে রাশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপে তুলেছিলেন যে হার্নান দারিও ‘বোলিয়ো’ গোমেজ, তিনিই এল সালভাদরের দায়িত্বে আছেন।

২০২৭ কনকাকাফ গোল্ড কাপ
নেশন্স লিগই হবে ২০২৭ কনকাকাফ গোল্ড কাপের বাছাইপর্ব। আগামী বছরের জুনে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে ১৬টি দল অংশ নেবে। সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গোল্ড কাপ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, কারণ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো এবং সাতবারের শিরোপাজয়ী যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত থাকবে বাকি দলগুলো।

কানাডার একমাত্র কনকাকাফ শিরোপা এসেছিল ২০০০ সালের গোল্ড কাপে। কোচ জেসি মার্শের অধীনে পূর্ণ মেয়াদের প্রথম চক্রে দ্বিতীয় শিরোপা জিততে পারলে সেটি হবে দলের জন্য বড় প্রাপ্তি। পানামা আবারও অভিজ্ঞ কোচ থমাস ক্রিস্টিয়ানসেনকে ফিরিয়ে এনেছে। তার অধীনেই দলটি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলেছিল। এবার লক্ষ্য থাকবে ইতিহাসের প্রথম গোল্ড কাপ জয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কনকাকাফের শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পানামা। তারা ২০২৩ গোল্ড কাপ এবং ২০২৫ নেশন্স লিগে রানার্সআপ হয়েছিল। মধ্য আমেরিকার অন্যতম সেরা দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত পানামা যদি প্রথম শিরোপা জিততে পারে, তবে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে ওঠার লক্ষ্যে সেটি তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।

কোস্টারিকা, হন্ডুরাস ও জ্যামাইকাও এমন তিনটি দল, যারা গোল্ড কাপের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে এই তিন দলই এবার গোল্ড কাপে অনেক দূর যেতে চাইবে, এমনকি রূপকথার মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular