নিজম্ব প্রতিবেদক: ‘ডিজাইনার’ শব্দটি আজ এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে যেন এটি যে কেউ নিজের ইচ্ছামতো গ্রহণ করতে পারে। একটি ব্র্যান্ডের প্রিন্টেড কাপড় দিয়ে পোশাক তৈরি করলেই, কিংবা একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান আয়োজন করলেই যদি কেউ ডিজাইনার হয়ে যান, তাহলে ফ্যাশন শিক্ষা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও পেশাগত দক্ষতার মূল্য কোথায় দাঁড়ায়?
একজন প্রকৃত ডিজাইনার কেবল পোশাক তৈরি করেন না; তিনি গবেষণা করেন, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভোক্তার চাহিদা, উপকরণ, প্রযুক্তি ও নির্মাণপ্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করেন। একটি ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে অসংখ্য স্কেচ, প্যাটার্ন ডেভেলপমেন্ট, ড্রেপিং, প্রোটোটাইপ, সংশোধন এবং নিরলস পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হাজারো শিক্ষার্থী বছরের পর বছর নির্ঘুম রাত, কঠোর স্টুডিও অনুশীলন, উপস্থাপনা, সমালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে এই পরিচয় অর্জন করেন। এটি কোনো একদিনের অর্জন নয়; এটি দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রা, অধ্যবসায় ও পেশাগত শৃঙ্খলার ফল।
দুঃখজনকভাবে, কিছু গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যাচাই-বাছাই ছাড়াই মানুষকে ‘ডিজাইনার’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সমাজে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং প্রকৃত শিক্ষিত ও দক্ষ ডিজাইনারদের অবদান আড়ালে চলে যাচ্ছে। কোনো পেশার উপাধি প্রচারের আগে সেই ব্যক্তির শিক্ষা, দক্ষতা ও কাজের ভিত্তি যাচাই করা গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব।
একটি উপাধি নিজেই ঘোষণা করা যায়, কিন্তু তার মর্যাদা অর্জন করতে হয় জ্ঞান, সততা, দক্ষতা এবং ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমে। ‘ডিজাইনার’ কোনো অলংকারমূলক পরিচয় নয়, এটি একটি পেশা, একটি দায়িত্ব এবং কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত সম্মান। এই পরিচয়ের মর্যাদা রক্ষা করা মানে কেবল একটি পেশাকে সম্মান জানানো নয়; বরং শিক্ষা, দক্ষতা এবং সৃজনশীলতার প্রকৃত মূল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া।




