ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকহরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ে ইরান ও ওমানের ঐকমত্য

হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ে ইরান ও ওমানের ঐকমত্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি নতুন পথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, চুক্তিটি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বাকায়ি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ওমানের সঙ্গে এই চুক্তি প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা দেবে না।

তার দাবি, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ থাকায় ওই এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

এ প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

বিবিসি সূত্রে জানা যায়, ইরানে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালানোর পর থেকে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেন, খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানকে ‘খুব কঠোর আঘাত’ হানা হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এ সপ্তাহের শেষ দিকে জাহাজ চলাচল আবার শুরু করার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। তবে ইরান বরাবরের মতোই বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না এবং এমন কোনো পরিকল্পনাও নেই।

বিবিসি সূত্রে জানা যায়, দুই দেশ ও মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

বাকায়ি বিবৃতিতে বলেন, ওমানের সঙ্গে নতুন নৌপথের ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, “হরমুজ প্রণালিকে অনিরাপদ করে তোলা কারণগুলো এখনও রয়ে গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক কর্মকাণ্ড।”

পরে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি ইরনাকে বলেন, নতুন এ নৌপথটি হবে সাময়িক; দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত খোলা থাকতে পারে।

তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত জানাননি।

এশিয়ার বৃহস্পতিবার সকালের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ২৪ ডলারে নেমেছে।

বিবিসি সূত্রে জানা যায়, এ গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় সংঘাতের পুরো সময়ে জ্বালানির দাম ব্যাপক ওঠানামা করেছে।

ইরান জানিয়েছে, আগে থেকে অনুমতি না নিয়ে কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না। নির্দেশ অমান্য করা কয়েকটি জাহাজে তারা হামলাও চালিয়েছে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রধান মতানৈক্যের একটি হলো, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের ইরানের পরিকল্পনা।

এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্য মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায় করতে চায় ইরান। অন্যদিকে ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নিয়ে আলোচনা করছে। আর যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি চায় না।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়ন হলে হরমুজ প্রণালি হয়ে উপসাগরে প্রবেশ করা জাহাজগুলোর ওপরও নিয়ন্ত্রণ থাকবে তেহরানের।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular