ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকহরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান

হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান

নিউজ ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তির খসড়া চূড়ান্তের কাজ শেষ পর্যায়ে। কোনো তৃতীয় পক্ষ বাধা না দিলে শিগগিরই যৌথ ঘোষণা আসতে পারে।

চলতি সপ্তাহেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইঙ্গিতের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটি খুলে যেতে পারে। খবর ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর।

তবে এ চুক্তির মূল শর্ত হতে পারে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আগেই স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে—এমন কোনো প্রস্তাবে ওয়াশিংটন সায় দেবে না। কারণ এটিকে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর এবং মার্কিন নীতিগত অবস্থানের জন্য বড় ধরনের পরাজয় হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।

ইরান শুরু থেকেই প্রণালির ওপর নির্দিষ্ট মাত্রার সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে অনড়। তেহরানের সাফ কথা যুদ্ধের আগের মতো এটিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে ছেড়ে দেয়া হবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের সরকার পতন ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে সে লক্ষ্য অধরাই রয়ে গেছে। বিপরীতে সংঘাতের মূল কেন্দ্রে চলে এসেছে হরমুজ প্রণালী। ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কারণে এ জলপথে চলাচল এখন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তির খসড়া চূড়ান্তের কাজ শেষ পর্যায়ে। কোনো তৃতীয় পক্ষ বাধা না দিলে শিগগিরই যৌথ ঘোষণা আসতে পারে।

চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া ও বিকল্প প্রস্তাব: দুজন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, ইরান ও ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা ইতোমধ্যে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছেন। এখন কেবল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদনের অপেক্ষা।

ওই কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত চুক্তিটি মূলত সাময়িক সমাধান। গত জুনে সংঘাত বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল, তারই একটি ধারাবাহিক রূপ এটি। চুক্তিটি কার্যকর হলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর পথ সুগম হবে।

প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে প্রবেশের ক্ষেত্রে ইরান-নিয়ন্ত্রিত রুট এবং বের হওয়ার ক্ষেত্রে ওমান-নিয়ন্ত্রিত রুট ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রদান ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য জাহাজগুলো থেকে সেবা মাশুল বা ‘সার্ভিস ফি’ আদায়ের প্রস্তাব রয়েছে। তবে ইরানের এ ফি আদায়ের প্রস্তাব নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র বিরোধিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সুসংবাদ আসতে পারে।

তবে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এর বিপরীত সুরও শোনা গেছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অত্যন্ত জটিল এবং এতে সময় লাগবে। ইরানিদের ‘কঠিন দরকষাকষিকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিবাচক কিছু পাওয়ার আগে প্রক্রিয়াটি কিছুদিন থমকে যেতে পারে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular