ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশঢাকাপ্রাথমিকের কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিকের কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’: ববি হাজ্জাজ

নিউজ ডেস্ক : প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক, সৃজনশীল ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষায় অভ্যস্ত করে তুলতে কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ বা বিজ্ঞানবিষয়ক খেলনা ও শিক্ষণ উপকরণ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, বইনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি খেলতে খেলতে এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রোববার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’ (এফএলএটি) সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করা প্রয়োজন। তারা যেন শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে নিজেরাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শেখার সুযোগ পায়—এ লক্ষ্যেই প্রাথমিকের কারিকুলামে বিজ্ঞানভিত্তিক খেলনা যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুর শেখার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি হলো হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা। কোনো বিষয় শুধু পড়ার পরিবর্তে সেটি নিয়ে খেলাধুলা, পর্যবেক্ষণ ও ছোট ছোট পরীক্ষা করার সুযোগ পেলে শিশুদের কৌতূহল বাড়ে। একই সঙ্গে কোনো বিষয় কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে তাদের ধারণাও তুলনামূলকভাবে সহজে তৈরি হয়।

প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’ ও ‘ম্যাথ ল্যাব’‘সায়েন্স টয়’ বলতে এমন বিভিন্ন খেলনা বা শিক্ষণ উপকরণকে বোঝানো হয়, যেগুলোর মাধ্যমে শিশুদের কাছে বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা সহজ ও আনন্দময়ভাবে তুলে ধরা যায়। যেমন—চুম্বক কীভাবে আকর্ষণ তৈরি করে, আলো ও ছায়া কীভাবে কাজ করে, ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকে কিংবা সহজ যান্ত্রিক ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে—এসব ধারণা খেলনা ও পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের শেখানো সম্ভব।

এ ধরনের শিক্ষণ উপকরণ ব্যবহারের ফলে শিশুদের মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে পর্যবেক্ষণ, প্রশ্ন করা, সমস্যা সমাধান ও নিজের হাতে কিছু তৈরি করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব দক্ষতা ভবিষ্যতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। শিশুদের পড়া, লেখা ও গণনার মৌলিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শেখার পরিবেশকে আনন্দময় ও শিশুবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’ বা এফএলএটি-সংক্রান্ত এ আয়োজনেও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিশুদের মৌলিক শেখার দক্ষতা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিশুদের বিজ্ঞান শিক্ষায় নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা যুক্ত হতে পারে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক যখন পাঠের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক খেলনা ব্যবহার করবেন, তখন শিক্ষার্থীরা বিষয়টি শুধু শুনবে বা পড়বে না; বরং নিজেরাই তা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগ করার সুযোগ পাবে।

এর ফলে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতি কমিয়ে কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে আনন্দের সঙ্গে শেখার পরিবেশ তৈরি হলে বিদ্যালয়ে শিশুদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।-

সব মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার পরিকল্পনা শুধু নতুন কোনো খেলনা সংযোজন নয়; বরং শিশুর শেখার পদ্ধতিকে আরও কার্যকর, আনন্দময় ও বাস্তবমুখী করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ছোট বয়স থেকেই বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: বাসস

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular