ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধসরকারি অফিসের ৪ টাকা মূল্যের কলমের বিল ১২০ টাকা

সরকারি অফিসের ৪ টাকা মূল্যের কলমের বিল ১২০ টাকা

নিউজ ডেস্ক: গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের স্টেশনারি সামগ্রী ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোটেশনে প্রতি মেটাডোর বলপেনের মূল্য ৫ টাকা উল্লেখ থাকলেও বিলে প্রতিটি কলমের দাম ১২০ টাকা দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকৃতপক্ষে একটি মেটাডোর পিন-পয়েন্ট বা হাইস্কুল কলমের পাইকারি দাম ৪ টাকা। যা খুচরায় ৫ টাকা।

জানা গেছে, গত ৭ জুলাই শ্রীপুর পৌরসভা স্টেশনারি সামগ্রীর ১০টি আইটেম ক্রয়ের জন্য কোটেশন আহ্বান করে। ১২ জুলাই কোটেশন খোলা হলে কথিত সততা এন্টারপ্রাইজ, কথিত সেবা এন্টারপ্রাইজ ও মোরাদ এন্টারপ্রাইজ অংশ নেয়। পরে মোরাদ এন্টারপ্রাইজ ক্রয় আদেশ পায়।

পৌর কর্তৃপক্ষ কোটেশন অনুযায়ী ১০০টি মেটাডোর বলপেন ৪ টাকার স্থলে প্রতিটির মূল্য ৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিলে প্রতিটি কলমের মূল্য ১২০ টাকা উল্লেখ করে বিল ভাউচার সাবমিট করলে ওই বিল ভাউচারে সংশ্লিষ্ট অনুমোদনকারী সকলেই স্বাক্ষর দেয় এবং কথিত টেন্ডার সাবমিটকারী অর্থ উত্তোলন করে।

এছাড়া অফসেট পেপার, পিন রিমুভার, স্ট্যাপলার পিন, পেন্সিল ব্যাটারি, ক্যালকুলেটর, রেজিস্টার খাতা, পাঞ্চ মেশিনসহ বিভিন্ন স্টেশনারি সামগ্রী কেনার জন্য কোটেশনের আনুমানিক মূল্য ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৪ টাকা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ লাখ ২২ হাজার টাকার বিল জমা দেয়। বুধবার কলমের অস্বাভাবিক মূল্য সংক্রান্ত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মিজানুর রহমান প্রভাব খাটিয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানের নামে নিজেই কোটেশন প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। তাদের দাবি, কোটেশনে উল্লেখিত দামের সঙ্গে মিল না রেখে অধিক মূল্যে বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সব নিয়ম মেনেই কোটেশন করা হয়েছে। বিলে হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে কলমের মূল্য বেশি লেখা হয়েছে।

শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ আখতার বলেন, বিধি অনুযায়ী কোটেশন সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদার প্রদত্ত বিলে কলমের দাম বেশি লেখা হয়েছিল। আমরা যাচাই করে দেখেছি, মোট বিলের পরিমাণ সঠিক রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular