ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে দুই শর্ত বাংলাদেশের

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে দুই শর্ত বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘অনুকূল ও সহায়ক পরিবেশ’ চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ভারত সরকারের কাছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রত্যাশা জানিয়েছে ঢাকা।

রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। তবে সফরের আগে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যে দুই বিষয়ে ভারতের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম প্রত্যাশা হলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক আসামির প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধ দ্রুত প্রক্রিয়াধীন করা। এ বিষয়ে দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ কাঠামোর আওতায় ভারতের ইতিবাচক সাড়া চায় ঢাকা।

দ্বিতীয়ত, শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামিদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। ভারতের কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রত্যাশার কথাও জানানো হয়েছে।

মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, সম্ভাব্য সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট অনুরোধগুলোর বিষয়ে ভারতের ইতিবাচক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

শেখ হাসিনাকে ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে। কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে বলে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে এই বিষয়টি আবারও সামনে আনা হওয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

সম্ভাব্য সফর ঘিরে নতুন সমীকরণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। তবে ভারতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আগস্টের শেষভাগে সফরের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। সম্ভাব্য সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হতে পারে।

সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, প্রত্যর্পণ, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তরের প্রশ্নটি বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।

ভারতের বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

ঢাকার বার্তা স্পষ্ট

সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ঢাকা যে বার্তা দিয়েছে তার মূল বিষয় হলো—কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য পারস্পরিক আস্থা ও সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধ এবং হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়টি সেই পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, ভারত বিষয়গুলো কীভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে বিবেচনা করে, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়। ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ আইনি প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনার কথা জানানো হয়েছে।-

ফলে সম্ভাব্য তারেক রহমানের দিল্লি সফর শুধু সৌজন্য বা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে নতুন আলোচনার দ্বার খুলতে পারে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular