রাজধানীর মোহাম্মদপুর রিংরোডের সূচনা কমিটি সেন্টারে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন আয়োজিত মেধাবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
নিউজ ডেস্ক : শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নগদ অর্থ, সনদ ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন, মোহাম্মদপুর থানা, ঢাকা উত্তর অঞ্চল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
২২ আগষ্ট শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর রিংরোডের সূচনা কমিটি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির নগদ অর্থ ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ড. এল. এম. কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মোহাম্মদপুর থানা উত্তর অঞ্চল, ঢাকা শাখার সভাপতি এম এম ইব্রাহিম খলিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদপুর থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রাজু আহমেদ, মোহাম্মদপুর থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাইয়ার সুলতানা, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের মহাসচিব জয়নাল আবেদিন জয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন সমাজসেবক মো. আলী কাওসার পিন্টু।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর থানা উত্তর অঞ্চলের প্রায় ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রায় এক হাজার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
মেধার স্বীকৃতিতে উৎসবমুখর আয়োজন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সকাল থেকেই বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও অর্জনের যথাযথ স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের তাৎপর্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি তদারকির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিবন্ধন ছাড়া কোনো কিন্ডারগার্টেন বা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনার সুযোগ না রাখার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক, যুগোপযোগী কারিকুলাম এবং শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ২০২৮ সালের পর প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক না রাখার লক্ষ্য নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন।-
এমন প্রেক্ষাপটে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, সনদ ও সংবর্ধনার মাধ্যমে উৎসাহিত করার এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নপূরণের পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।