ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআইন ও আদালতন্যায়, মানবিকতা ও আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়াতে হবে

ন্যায়, মানবিকতা ও আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়াতে হবে

নিউজ ডেস্ক:  বাংলাদেশে কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে নিজেদের মধ্যেও যেন স্বৈরাচারী মানসিকতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ।

বুধবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইনস্টিটিউট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে যাতে কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং আমরা নিজেরাও যেন কোনো ধরনের স্বৈরাচারী মানসিকতায় পরিণত না হই, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং ন্যায়, মানবিকতা ও আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন, মানবিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতিভা বিকাশে আয়োজকদের উদ্যোগের প্রশংসা করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সমাজের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে পড়া মানুষকে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া অত্যন্ত মহৎ কাজ। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরও এ কার্যক্রমের আওতায় আনা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, ‘তারাও মানুষ এবং তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে। তাদের অধিকার ও কল্যাণে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।’

সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, চারপাশে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাদের চোখে আলো আছে; কিন্তু তাঁরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কিংবা মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন না। আবার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও অনেকে অন্তর্দৃষ্টি ও মানবিক চেতনা দিয়ে সমাজকে আলোকিত করার চেষ্টা করছেন। তাই শুধু চোখে আলো থাকলেই হবে না, মানুষের অন্তর্চক্ষুও খুলতে হবে।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই সময় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। অনেকে হাত-পা হারিয়েছেন, গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ভুলে গেলে চলবে না।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, সহনশীলতা, সাম্য ও মানবিকতার শিক্ষা ধারণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নূরুদ্দীন খান। বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ ও ঢাকায় ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সিলর এসরাফিল আমিরি জোরগাজদিনি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular